অনলাইনে আছেন

  • জন ব্লগার

  • ৩০ জন ভিজিটর

অনুপ্রেরণা

লিখেছেন শিশির আসাদ সোমবার ২৯ অগাস্ট ২০২২

ছাত্র হিসেবে আমি কখনোই ভালো ছিলাম না।  ক্লাস সিক্সের ১ম সাময়িক পরীক্ষায় সাধারণ বিজ্ঞানে ৭০ তে ১৮ পাইলাম, আমার এখনো মনে আছে, আব্বা সেদিন পিটানোটা শুধু বাদ রাখছিলো!

 

২য় সাময়িক পরীক্ষায় আমি ৭০ তে ৩৫ পাইলাম।সেবারও দারুন গালি খেয়ে শপথ নিলাম, বার্ষিক পরীক্ষাতেই দেখায় দিবো আমি কি জিনিস!

 

সিনেমাতে দেখা যায় নায়ক একদম ফাইনালে গিয়ে জিতে বাড়ি ফিরে।  আমি তো আর নায়ক না তাই বার্ষিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে ৭০ তে ২৫ পাইলাম।গালির ডোজ চলতেই থাকলো!

 

জেএসসি তে কপালে জিপিএ ৪.৪৩ জুটলো উত্তম মাধ্যম বাদে সব চললো। ১ আর ২ রোল সরকারী স্কুলে ভর্তি হলেও আমার ভাগ্যে আগের স্কুলই জুটলো। আমার তিন রোল আছাড় মারলো ৭ রোলে গিয়ে। 

আমি আমার মায়ের চোখে পানি দেখছিলাম সেইদিন।  এই পৃথিবীতে সবকিছু সহ্য করা যায়, সব কিন্তু মায়ের চোখের পানি সহ্য করা যায় না!! 

 

বিজ্ঞান বিভাগে নাইনে  কিছুটা মোচর দিয়ে পড়াশুনা শুরু করলাম। ১ম সাময়িক পরীক্ষায় সাধারন গনিতে  ১০০ তে ৭৪ পাইলাম। আব্বা কিছুটা আশ্বস্ত হলো। ২য় সাময়িকে পাইলাম ৭১। ভাবলাম ফাইনালে দেখাবো। কিন্তু বার্ষিক পরীক্ষায় আবারো কৃতিত্বের সাথে ৪৩ পেয়ে ৭ রোলেই অবস্থান করলাম। 

আব্বা খুব কষ্ট পেলেন। আমি দীপ্ত ইচ্ছা নিয়ে আবার শুরু করলাম পড়াশুনা৷ ১ম ২য় সাময়িকে গনিতে ভালো করতে পারলামনা। ভাবলাম আব্বার কষ্ট দুর করতেই হবে। শেষ পর্যন্ত টেস্টে ৮২ পেয়ে আব্বার মুখে হাসি এনেছিলাম। 

 

এসএসসিতে জিপিএ ৪.২৫ পেয়ে আব্বা মাকে আরেকবার কষ্ট দিলাম।  কলেজ ভর্তি যুদ্ধেই আমি আবার পা ফসকে পড়ে গেলাম।  স্কুল লাইফের প্রায় সবগুলা বন্ধু যখন ভালো ভালো জায়গায় ভর্তি হলো, জিপিএ কম থাকায় আমি উপজেলার এক কলেজে ভর্তি হলাম৷ লেখাপড়ায় আস্থা হারাচ্ছিলাম দিন দিন। প্রতিটি এক্সামে ফেলের কাছাকাছি অবস্থান আমার৷ টেস্টে কোন মতে পাশ করে ফর্ম ফিলাপ করলাম। 

 

এইচএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে ৫টি সাবজেক্টে ফেল করলাম৷সেই  রাতে প্রথমবারের মত আমার সুইসাইড করতে ইচ্ছা হচ্ছিলো। কিভাবে কিভাবে জানি আমি কাঁদতে কাঁদতে ঘুমায় গেছিলাম সে রাতে!

 

পরেরদিন দীপ্ত শপথ নিয়ে পড়াশুনা শুরু করলাম। আলহামদুলিল্লাহ পরেরবার আমি এ প্লাস পাইলাম। সেই দিন দেখেছিলাম আব্বা মার খুশি আর হ্যাটার্সদের আর্তনাদ। 

 

ভার্সিটির ভর্তি যুদ্ধে আবার আমার পা ফসকালো।  বাবা-মা এর হাই এক্সপেকটেশন অনুযায়ী ঢাবিসহ কোন খানেই আমার জায়গা হয় নাই। 

 

এক সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে এডমিশন নিলাম।এখানেও অনেকবার ব্যর্থ হয়েছি। এককথায় আমার জীবনে ব্যর্থতার শেষ নাই। আমার জীবনে বহুবার এমন অবস্থা আসছে, যখন আমার মরে যেতে ইচ্ছে করছে! 

 

এরপর পড়াশুনার পাশাপাশি স্টুডেন্টদের নিয়ে কাজ করার দীপ্ত ইচ্ছা।শুরু করলাম দিক নির্দেশনা দেওয়া। আলহামদুলিল্লাহ অনেক রেসপন্স পেয়েছি। আর্থিক সহযোগিতা করছি শতাধিক।  বুদ্ধিবৃত্তিক দিকনির্দেশনা দিয়ে কত  সহযোগিতা করেছি আমার জানা নাই।

 

আমি বেশ কয়েকবার মরে যাওয়ার ইচ্ছাকে দূরে সরিয়ে দিয়ে বেঁচে গেলাম একজন সফল  মানুষ হিসেবে!

 

যারা হতাশ হয়ে গেছো। সুইসাইডের চিন্তা করো। তোমাদের কাছে আমার প্রশ্ন তোমরা কি আমার চেয়ে বেশী ব্যর্থ হয়ে গেছো? আমার চেয়ে বেশী বেঁচে থাকার যুদ্ধ কিংবা সফল হওয়ার যুদ্ধ করেছ? তোমাদের আজকের ব্যর্থতা সামনে সফলতার দ্বাড় উন্মোচন করছে। এটা শুধু সময়ের অপেক্ষা । তুমি শুধু একটু বেঁচে থাকো! ওকে!

 


জীবন
০ টি মন্তব্য      ১৩৫ বার পঠিত         

লেখাটি শেয়ার করতে চাইলে: