অনলাইনে আছেন

  • জন ব্লগার

  • ২৫ জন ভিজিটর

কারবালার রক্তপাথার......

লিখেছেন লাবিব আহসান বৃহস্পতিবার ১৮ অগাস্ট ২০২২
ইয়াজিদের সামনে এনে রাখা হলো ইমাম হুসাইন (রা.) এর কর্তিত মস্তক। পবিত্র সে মস্তকে এখনও লেগে আছে রক্তের অজস্র ফোঁটা। এই মস্তকে, এই চিবুকে, এই কপোলে জীবনে কতবার না চুমু এঁকেছেন সার্দারে আল কাওনাইন! কত আদরে আদরে ভরপুর ছিল নবি দৌহিত্রের শৈশব, কৈশোর, যৌবন! আর আজ তাঁর চির উন্নত শির নিদারুণ অবহেলায় পড়ে আছে ইয়াজিদের পায়ের কাছে।
ইয়াজিদ উঠে দাঁড়াল। হাতে তুলে নিলো একটি বেতের ছড়ি। তারপর সেটা দিয়ে ওই পবিত্র শিরে খোঁচা মারতে শুরু করল। দাঁতে আঘাত করতে করতে বসিয়ে দিলো তার পাপের চিহ্ন। আহ! কেঁপে উঠল কি আল্লাহর আরশ? তারপর সে চরম ঔদ্ধত্যের সঙ্গে বলল- 'আমাদের কাছে শক্তিমান বহুজনের মস্তক চৌচির করে ফেলা হয় এমতাবস্থায় যে, তারা বড় নাফরমান ও চরম জালিম।'[আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া: খণ্ড-৭, পৃষ্ঠা-১২২]
এ দৃশ্য সচক্ষে দেখলেন রাসূল (সা.) এর সাহাবি আবু বারজা (রা.)। তিনি আর স্থির থাকতে পারলেন না। তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ইয়াজিদকে বললেন- 'তুমি কি তোমার ছড়ি দিয়ে হুসাইনের দাঁতের সারিতে আঘাত করে দাগ বসিয়ে দিলে? সাবধান! তোমার ছড়িটি তাঁর দাঁতের সারিতে দাগ বসিয়েছে এমন স্থানে, যেখানে আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে চুমু দিতে দেখেছি।' এ কথা বলে তিনি ইয়াজিদের দরবার থেকে বের হয়ে গেলেন। [তাবারি]
অভিশপ্ত ইয়াজিদ ইমাম হুসাইন (রা.) কে কেবল শহীদ করেই ক্ষান্ত হয়নি বরং চরম ঔদ্ধত্যের সীমা স্পর্শ করে বলেছিল- 'আমার পূর্বপুরুষরা যদি বেঁচে থাকতেন তাহলে তারা দেখতেন- কীভাবে আমি মুহাম্মাদের পরিবার ও তাঁর গোত্র বনি হাশিমের কাছ থেকে প্রতিশোধ নিয়েছি। আমি তার কাছ থেকে প্রতিশোধ নিয়েছি বদর যুদ্ধের বদলা হিসেবে, যা সে করেছিল ওই আমাদের পূর্ব পুরুষদের বিরুদ্ধে।' [তাফসিরে ইবনে মাজহারি: খন্ড-৫, পৃষ্ঠা: ২১১-২১২]
ইয়াজিদ তার ৩ বছর ৯ মাসের অবৈধ শাসনামলে নবি পরিবারের ১৮ জন সদস্যকে শহীদ করা ছাড়াও আরও দুটি ভয়ঙ্কর পাপ করেছে। এই অপরাধযজ্ঞ তাকে পরিণত করেছে ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে কুখ্যাত ও ঘৃণিত ব্যক্তিতে। কেয়ামত পর্যন্ত মানুষ তাকে একজন খলনায়ক হিসেবেই ঘৃণা করে যাবে। আল্লাহর কাঠগড়ায় তো বটেই, পৃথিবীর অনাগত ইতিহাসের কাঠগড়ায়ও তাকে দাঁড়াতে হবে বহুবার। এ থেকে তার মুক্তি নেই, পরিত্রাণ নেই।
ইয়াজিদের দ্বিতীয় মহাপাপটি ছিল পবিত্র মদীনা শহরে হামলা এবং মসজিদে নববীর অবমাননা। টানা ৩ দিন ধরে তার বাহিনীর হাতে লুটপাট আর গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে। এমনকি পবিত্র নগরীর বুকে ঘটেছে গণধর্ষণের মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনাও। ধর্ষণ করা হয়েছে কাদের? সাহাবীদের পরিবারের নারী সদস্যদের। কেউ তাঁদের মা, কেউ স্ত্রী, কেউ বোন, কেউবা কন্যা। নবিজির ইন্তেকালের মাত্র কয়েক দশকের ব্যবধানে তাঁরই শহরে কি এটা কল্পনা করা যায়!
ইয়াজিদের তৃতীয় মহাপাপটি ছিল পবিত্র মক্কার কাবা ঘরে হামলা চালানো। তার বর্বর সেনারা কারবালার ঘটনার ৩ বছর পর মক্কা অবরোধ করে। তারা মহান আল্লাহর ঘর জ্বলন্ত ন্যাপথালিনযুক্ত অগ্নি-গোলা নিক্ষেপ করে জ্বালিয়ে দেয়। ফলে মক্কার বিশিষ্ট সাহাবীদের কাছে ইয়াজিদের খোদাদ্রোহী চরিত্রের বিষয়টি আবারও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পবিত্র কাবাঘরে হামলার পরই খবর আসে- কুখ্যাত জালিম ও কাফির ইয়াজিদ মারা গেছে। আজ যারা তার পক্ষে ওকালতি করবে, তারাও এই শ্রেণিরই অন্তর্ভুক্ত।

কারবালা ইয়াজিদ
০ টি মন্তব্য      ১৬৬ বার পঠিত         

লেখাটি শেয়ার করতে চাইলে: