অনলাইনে আছেন

  • জন ব্লগার

  • ২৭ জন ভিজিটর

হীনমন্যতা আভিজাত্যকে পদদলিত করে...

লিখেছেন কহেন কবি সোমবার ০৮ অগাস্ট ২০২২
হীনমন্য গরীব কখনও ধনী হলে সে তার নিদর্শন লুকিয়ে রাখতে পারেনা! কোন এক ক্ষুদ্র ভুল পদক্ষেপে বিরাট প্রমাণ হাজির করে বসবে, একদা তারা অভাবী ছিলেন! হীনমন্যতার চাপে বর্তমানকে নিয়ে গৌরব করতে গিয়ে নিজেদের অধীনস্থ চাকর, চাকরানীকে ফকির-মিসকিন-ভিক্ষুকের মত ব্যবহার করে! অথচ ইতিহাসের দিকে তাকিয়ে দেখলে তারা দেখত, পৃথিবীর সকল মহারাজা-শাহানশাহ তাদের অধীনস্থদের গায়ে রেশমি পোশাক ও গলায় মুক্তার মালা পড়াত! মহারানীর স্পেশাল দাসীকে চাকরানী বলে সম্মান করত। কদাচিৎ রাজ প্রাসাদে চাকরানীর মর্যাদা রাষ্ট্রীয় বড় কর্মচারীর চেয়েও সেরা হত।
শতের কাছাকাছি চাকরানী ছিল মহীশুরের অধীশ্বর টিপু সুলতানের কাছে। ইংরেজ ও বিশ্বাসঘাতক ব্যক্তিরা তার কেল্লায় হামলা করলে সকল চাকরানীই সবার আগে নিজের অমূল্য জীবন বিলিয়ে দিয়ে টিপু সুলতানের প্রতি বিশ্বস্ততা ও ভালবাসার নজীর স্থাপন করেন! তাদের প্রতি যে মালীক প্রীতিময় ব্যবহার করে, তারা চিরজীবন তারই হয়ে যায়।
বর্তমান কালের হঠাৎ গজিয়ে উঠা ধনীরা নিজের ধন-সম্পদ ও ক্ষমতার দম্ভ দেখাতে গিয়ে আগে চাকরানীর গায়েই হাত তুলে, তাকে বঞ্চিত রাখে! তাদেরকে সামনে দাঁড় করিয়ে রেখেই দুনিয়ার দামী খাবার আহার করে। চাকর-চাকরানী ফ্যাল ফ্যাল দৃষ্টিতে তাদের খাদ্যের উচ্ছিষ্ট ঘ্রাণ উপভোগ করে। এসব ধনীরা হীনমন্যতায় এতটুকু ঘায়েল হয়ে যায়; মানুষের প্রতিবাদের অশ্রাব্য গালাগালিকে, তারা হতাশ মানুষের অপ্রাপ্তির বীভৎস উল্লাস বলে মনে করে!
মানুষের এই পরিণতির কথা বিবেচনা করে রাসুল (সাঃ) বিদায় হজ্বে আরাফার ময়দানের শেষ ভাষণে বলেছিলেন, 'তোমরা যা খাবে তোমাদের দাস-দাসীদেরও তা খাওয়াবে; তোমরা যা পড়বে, তাদেরও তা পড়াবে। তোমরা যারা উপস্থিত আছ, তারা অনুপস্থিত ব্যক্তিদের কাছে আমার এই কথা পৌছিয়ে দিবে। হয়তবা উপস্থিত ব্যক্তির চাইতে অনুপস্থিত ব্যক্তি এই কথার বেশী মূল্য দিবে.....'

হীনমন্যতা আভিজাত্য
০ টি মন্তব্য      ১১৭ বার পঠিত         

লেখাটি শেয়ার করতে চাইলে: