অনলাইনে আছেন

  • জন ব্লগার

  • ৩২ জন ভিজিটর

পর্দায় অনীহা এবং কিছু কথা...

লিখেছেন কহেন কবি রবিবার ০৩ জুলাই ২০২২

 

মাস কয়েক আগে ইমরানের বিয়ে হয়েছে। স্ত্রী সাদিয়ার সাথে তার ভালোই সংসার চলছিলো। সাদিয়া নামাজ, রোজার মতো ফরজ বিধান পালনে তৎপর থাকলেও কেবল একটি জায়গায় ছিল তার চরম মাত্রার অনীহা। সেটি হচ্ছে পর্দা। সে কোনোভাবেই ঠিকমতো পর্দা করছিলো না। তার কাছে পর্দা মানে বাইরে বের হলে কেবল বোরকা পরিধান করা। এতোটুকুই! মাহরাম, গায়রে মাহরাম এগুলো যেনো তার কাছে সাধারণ একটি বিষয়। দুলাভাই, দেবরদের সাথে একেবারে ওপনেলি কথা বলতেও তার দ্বিধা হয় না। কিন্তু তার স্বামীর কাছে বিষয়টি মোটেও পছন্দ হয় নি। স্ত্রীর এমন আচরণে সে খুবই ত্যাক্ত-বিরক্ত।

তার নিজের মনে ঘৃণার ভঙ্গিতে বারবার প্রশ্ন জাগতে লাগলো, কেমন স্বামী আমি, যে স্বামী তার স্ত্রীকে পর পুরুষের সামনে বেপর্দায় চলাফেরা করা থেকে বিরত রাখতে পারে না? স্ত্রীর পর্দাহীন চলাফেরায় রীতিমতো তার আত্মসম্মানবোধে আঘাত লাগে। পর্দার প্রতি স্ত্রীর এমন উদাসীনতা তাকে বেশ চিন্তায় ফেলে দিলো। বেগানা পুরুষদের সাথে স্ত্রীর অবলীলায় কথা বলে যাওয়া তার কোনোভাবেই সহ্য হচ্ছিলো না। স্ত্রীর এমন বিষয় তাকে খুব পীড়া দিচ্ছে, মানসিকভাবেও দুঃশ্চিন্তার মধ্যে রাখছে।

এসব ব্যাপারে স্ত্রীর সাথে রুক্ষ মেজাজ দেখাতে চাইলেও সে চিন্তা করলো শুরুতেই রাগ না করে ঠান্ডা মাথায় স্ত্রীকে পর্দার গুরুত্ব বোঝানোর দরকার। কেননা রাগ করে কোনো নাসীহাহ্ করলে সে নাসীহাহ্ যতোই ভালো হোউক না কেনো সেটার আর ঐ অর্থে কোনো গ্রহণযোগ্যতা থাকে না। সেই চিন্তা থেকে সে একদিন তার স্ত্রীকে পর্দার ব্যাপারে বোঝানোর জন্য বাইরে একটি রেস্টুরেন্টে নিয়ে গেলো। সে ভাবলো, একটু ভালো ও নিরিবিলি পরিবেশে বোঝালে হয়তো আরও ভালো হবে। সেখানে গিয়ে তাদের অর্ডারকৃত খাবার খেতে খেতে স্ত্রীকে বলল,
আচ্ছা, সাদিয়া! তোমাকে একটি কথা বলি?
– হ্যাঁ, বলো। আমাকে কিছু বলতে তো আর তোমাকে অনুমতি নিতে হবে না। সরাসরি বললেই হয়।
– হুম! বলো তো, আমি যদি কোনো মেয়ের সাথে কথা বলি তবে তোমার কেমন লাগবে?
সাদিয়া চোখ কপালে তুলে বলল, আশ্চর্য! হঠাৎ এমন প্রশ্ন করছো কেনো? তুমি কেনো একজন মেয়ের সাথে কথা বলতে যাবে?
– কেনো? তোমার কি তখন ভালো লাগবে না?
কিছুটা উত্তেজিত কন্ঠে সাদিয়া বলল, কী এসব আজেবাজে বকছো! আমার স্বামী কোনো মেয়ের সাথে কথা বলবে- এটা কি কোনো ভালো লাগার বিষয় হলো নাকি? আরে, আমার তো এসব ভাবতেও প্রচন্ড ঘৃণা হয়। আমার স্বামী কেনো অন্য মেয়ের সাথে কথা বলবে? এটা তো আমার সহ্যই হবে না। আমি আসলে বুঝতে পারছি না, তুমি কেনো এসব বলছো।
– বুঝতে পারছি তোমার খুব টেনশন হচ্ছে, সাদিয়া -তাই না?
– টেনশন হবে না তো কী!
– দেখো, সাদিয়া! যেখানে তোমার স্বামী অন্য কোনো মেয়ের সাথে কথা বললে তোমার খারাপ লাগে, তা তোমার কষ্টের কারণ হয় সেখানে আমার স্ত্রী কোনো পর পুরুষের সাথে কথা বললে, তাদের সাথে হাসি ঠাট্টা ইত্যাদি নানা ঢঙে মেতে উঠলে তখন কি আমার ভালো লাগার কথা? তুমিই বলো, পর নারীর সাথে তোমার স্বামীর কথা বলা যদি তোমার কষ্টের কারণ হয় তবে পর পুরুষের সাথে আমার স্ত্রীর কথা বলা কি আমার আনন্দ হওয়ার কথা? তোমার বিবেক কী বলে?
– নাহ, সেটা তো অবশ্যই কষ্টেরই কারণ হবে। কিন্তু আমি আবার কোথায় পর পুরুষের সাথে কথা বললাম?

– এই তো তুমি তোমার সকল দুলাভাই, দেবরের সাথে কতো হাসিঠাট্টা করে কথা বলো, একসাথে বসে খোশগল্প করো। অনেকসময় তাদের সাথে নিজের স্বামীর চেয়েও বেশি আনন্দে মেতে উঠো। কোনো আত্মসম্মানবোধ স্বামীর জন্য কি পর পুরুষের সাথে তার স্ত্রীর এমন অবাধ মেলামেশার দৃশ্য দেখে যেতে পারার কথা? তার ধৈর্য্য ধারণ করতে পারার কথা? সাদিয়া, তুমি একটিবার চিন্তা করে দেখো তো, তাদের স্ত্রীর সাথে যদি আমি তোমার মতো হাসিঠাট্টা করে কথা বলি তখন তোমার সেই দৃশ্য দেখে যেতে কেমন লাগবে? পারবে কি তখন তুমি তা সহ্য করতে?
– তা বুঝলাম কিন্তু এরা তো আমাদের নিজের মানুষ। তারা আবার পর পুরুষ হলো কিভাবে?
– দেখো, সাদিয়া! নিজের মনগড়া কাউকে নিজের মানুষ কিংবা আপন বলে আখ্যায়িত করলে হবে না। মুসলিম হিসেবে আমাদেরকে দেখতে হবে, দেবর দুলাভাইয়ের মতো সকল পর পুরুষের বিষয়ে ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গি কেমন তথা আল্লাহর বিধান কী। আচ্ছা, তুমি কি কখনো শুনো নি, দুলাভাই-শালীর কিংবা দেবর-ভাবির পরকীয়ায় কল্পকাহিনী? তারা যদি আপন মানুষই হতো তাহলে কি আর তারা এতো বড়ো কুকর্ম করতে পারতো, বলো?
– হ্যাঁ, তা তো জানাই আছে। এগুলো তো আজকের সমাজে অহরহই ঘটছে।

– এটা যদি বুঝতে পারো তাহলে কিভাবে তুমি দেবর-দুলাভাইকে আপন মনে করো? তুমি কি ভুলে গেলে নাকি, এই তো কয়েক সপ্তাহ আগে আমাদের প্রতিবেশী আজাদ চাচার মেয়ে সামিয়া তার দুলাভাইয়ের সাথে পরকীয়ায় ধরা খেয়েছে। এমন ঘটনার পর সামিয়ার বড়ো বোনের সংসারটাই তো আর ঠিকলো না। মুহুর্তেই কী থেকে কী হয়ে গেলো। তোমার ভাষ্যমতে, শালী- দুলাভাইরা যদি একে অপরের আপনই হতো তবে কী আর তারা নিজেরা এতো খারাপ কাজে জড়াতে পারতো?

এমন বিষয় থেকে আরও স্পষ্ট বোঝা যায়, আল্লাহ যাদেরকে আপন বলেছেন, যাদের সাথে পর্দার ব্যাপারে শিথিল করেছেন তারাই কেবল আপন। তাদের সাথে কেবল পর্দার শিথিলতা অবলম্বন করা যায়, মনগড়া অন্য কারো সাথে নয়। অন্যথায়, সামিয়ার দুলাভাইয়ের মতো ফিতনায় পড়ে পুরো সংসারটাই মূহুর্তে তছনছ হয়ে যেতে পারে। আর এটাই আল্লাহর বিধান ভঙ্গ করে মনগড়া চলার দুনিয়াবী এক আযাব।

আসলে, মাহরাম সম্পর্ক ব্যতীত অন্য যতো সম্পর্ক রয়েছে সেগুলোকে আপন সম্পর্কের দোহাই দিয়ে নিবিড় সম্পর্কে জড়ানো শয়তানের বিশাল ফাঁদে পা দেওয়া ছাড়া অন্য কিছু নয়। এগুলো সবই শয়তানের কারসাজি। শয়তান এভাবেই 'আপন' সম্পর্কের কুমন্ত্রণা দিয়ে বেগানা নারী-পুরুষ পরস্পরকে কাছে টেনে এনে ফিতনায় ফেলতে চায়। শয়তানের এমন ভয়ঙ্কর ফাঁদ সামিয়ার মতো পর্দা ভঙ্গনকারী মেয়েদেরকে ধ্বংসের অতল গহব্বরে পৌঁছে দেয়। শেষ পর্যন্ত আপসোস করা ছাড়া তাদের আর কিছুই করার থাকে না। এদের দুনিয়া ও আখিরাতের জিন্দেগী কণ্টকময় হয়ে উঠে।

যাইহোক, আমি চাই না, আমার স্ত্রীকে কোনো পর পুরুষ দেখুক। কারণ আমার স্ত্রী আমার নিকট অনেক সম্মানিত জিনিস, অনেক দামি এক সম্পদ বটে। আর এ সম্পদ কেবলই আমার, অন্য কারো নয়। আচ্ছা, তুমি কি চাও না, আমি আমার দামি তথা সম্মানিত জিনিসকে লুকিয়ে রাখি?

– কেনো চাইবো না? অবশ্যই, আমি চাই।
– আমি পর্দার মাধ্যমে তোমাকে বেগানা পুরুষদের কাছ থেকে আড়াল করে রাখতে চাই, সম্মানের চাদরে ঢেকে রাখতে চাই। অনেক বেশি দামি হিসেবে মর্যাদা দিতে চাই। এখন তুমি যদি নিজের গুরুত্ব না বুঝো, নিজের সম্মান না বুঝো তাহলে আমার আর কী করার থাকবে, বলো। আমি চাই না, তুমি আমাকে কঠোর হতে বাধ্য করো। কারণ ভালোবাসার মানুষের প্রতি কঠোর হওয়া আমার জন্য ভীষণ কষ্টের একটি বিষয়। আমি আমার ভালোবাসার মানুষকে সবসময় ভালোবাসার চাদর দিয়ে ঢেকে রেখে জান্নাত পর্যন্ত নিয়ে যেতে চাই। আর এটাই হবে আমার জীবনের বড়ো সফলতা। এখন তুমি কি আমাকে এমন সফল হতে সাহায্য করবে না, সাদিয়া?

– হুম, তা তো অবশ্যই। কিন্তু তোমার ভালোবাসার মানুষটা আসলে কে?
– আশ্চর্য! এ আবার তোমার কেমন প্রশ্ন। মেয়েদের একটাই সমস্যা যে, তাদেরকে সবকিছু ভেঙ্গে বলতে হয়, আকার ইঙ্গিতে কিছু বুঝতে চায় না। যার সাথে আমি এতোক্ষণ ধরে কথা বলছি সে ছাড়া আমার আর ভালোবাসার মানুষ কে হতে পারে, তা কি সে বুঝে না?
– ওহ, তাই বুঝি?
– হ্যাঁ, সাদিয়া! তুমিই তো আমার প্রিয় মানুষ, তুমিই তো আমার ভালোবাসার মানুষ। তোমাকে আমি কতোটা ভালোবাসি তা হয়তো কখনো বলি নি। আজ বলবো। আমি সত্যিই আমার নিজের জীবনের চেয়েও তোমাকে বেশি ভালোবাসি। এখন আমার এই ভালোবাসা যদি তোমাকে আল্লাহর অবাধ্য হওয়া থেকে, আল্লাহর অসন্তুষ্টি থেকে বাঁচাতে না পারলো তবে কি আর আমার এমন ভালোবাসার কোনো মূল্য থাকলো? ও সাদিয়া তুমিই বলো!
আমার স্ত্রী পর পুরুষের সাথে কথা বলবে সেটা কিন্তু আমি একদমই সহ্য করতে পারি না। যতোবার তোমাকে দুলাভাই, দেবর নামক পর পুরুষের সাথে কথা বলতে দেখেছি ততোবারই আমি দাঁতে দাঁত লাগিয়ে কিড়মিড় করে সহ্য করে গেছি। এমন বিষয় সহ্য করে যাওয়া আমার জন্য মোটেও সহজ ছিল না। অনেক সময় রাগও উঠেছে। কিন্তু রাগ নিয়ন্ত্রণ করে ভেবেছি, শুরুতেই রাগ না করে তোমাকে ঠান্ডা মাথায় বোঝানো উচিত, সচেতন করা উচিত। সেই জায়গা থেকে কথাগুলো তোমাকে বলছি।

এবার শোনো, রাসূল (সাঃ) কী বলেছেন। তিনি (সাঃ) সাবধান করে বলেছেন, তিন ধরণের ব্যক্তির জন্য আল্লাহ তা'য়ালা জান্নাত হারাম করেছেন।
১) যে মদ তৈরী করে।
২) যে মাতা-পিতার নাফরমানী করে এবং
৩) দাইয়্যূস। [১]

উল্লেখ্য, ওই ব্যক্তিকে "দাইয়্যূস" বলে - যে তার স্ত্রী'কে ও পরিবারের অন্য সদস্যদেরকে অশ্লীল কাজ ও ব্যভিচারের সুযোগ করে দেয় এবং সকল শরীয়াহ বিরোধী কাজকে মেনে নেয়। এমনকি যদি এসব কাজে মৌন সম্মতিও থাকে তবুও দাইয়্যূসের অন্তর্ভুক্ত হবে।
দুলাভাই, দেবরদের মতো গায়রে মাহরামদের সাথে তোমাকে কথা বলতে দেওয়া এবং তোমার পর্দাহীন চলাফেরা নীরবে সহ্য করে যাওয়া মানে শরীয়াত বিরোধী কার্যকলাপে তোমার প্রতি আমার সমর্থন প্রকাশ করা যা আমাকে দাইয়্যূসের কাঁতারে টেলে দিচ্ছে। তুমি কি চাও, তোমার স্বামী দাইয়্যূসে পরিণত হয়ে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হোক? যে স্বামী তোমাকে নিয়ে জান্নাতে থাকার রঙ্গিন স্বপ্ন দেখছে সেই স্বামীকে দাইয়্যূসে পরিণত করে জান্নাতের অনুপযুক্ত করে তোলাই কি সে স্বামীর প্রতি তোমার প্রকৃত ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ?
– না! না! মোটেও না। তা হবে কেনো!

– তাহলে এরপরও কি তুমি ঐসব পরপুরুষদের সাথে কথা বলে যেতে পারো? এরপরও কি তুমি তোমার বেপর্দাহীন চলাফেরা চালিয়ে যেতে পারো? আমি তখনই বুঝবো, তুমি আমাকে সত্যিকার অর্থে ভালোবাসতে পেরেছো যখন দেখবো তুমি আমাকে দাইয়্যূসে হওয়া থেকে বাঁচিয়ে রাখছো।

– আচ্ছা ঠিক আছে। তোমার কথাগুলো আমি বুঝতে পেরেছি। কিন্তু আমি চিন্তা করছি, তোমার ছোটো ভাই, বড়ো বোনের জামাইরা অর্থাৎ দুলাভাইদের সামনে বের না হলে তারা যদি আবার রাগ করেন তবে কী হবে?
– আচ্ছা! তার আগে তুমিই বলো তো, পর্দার মতো ফরজ বিধান লঙ্ঘন করলে আল্লাহ যে রাগ করবেন তাতে কি কোনো সন্দেহ আছে?
– নাহ, তাতে তো কোনোই সন্দেহ নেই।
– এবার নিজেকেই প্রশ্ন করো, নিজের রব যদি রাগান্বিত হয়ে যান তবে কী হবে? নিজের রব রাগান্বিত হওয়ার প্রশ্নে অন্য কারো বিষয় সামনে আনার কি কোনো যৌক্তিকতা থাকতে পারে? এছাড়া, নিজের রবকে রাগান্বিত রেখে অন্যকে খুশি করতে যাওয়া কতোটা ধৃষ্টতাপূর্ণ বিষয় তা কি তোমার ভাবনায় আসছে, সাদিয়া?

– হুম, বিষয়টি এবার আমি বুঝতে পেরেছি। আসলে, আগে কখনো এভাবে চিন্তা করি নি তো তাই বুঝে উঠতে পারি নি।

– মা শা আল্লাহ! আচ্ছা এবার শোনো, রাসূল (সাঃ) শয়তানের দৃষ্টিতে এসব আপন মানুষদের ব্যাপারে কী বলেছেন। তিনি কঠিন এক হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, শালী-দুলাভাই, দেবর-ননদ প্রমুখ এরকম গায়েরে মাহরামরা মৃত্যু সমতুল্য। [২]

সাদিয়া, "মৃত্যু সমতুল্য" কথাটির মানে কী তা কি তুমি বুঝতে পারছো! শব্দদ্বয় গভীর অর্থ বহন করে। এর মানে হচ্ছে, মৃত্যু যেমন ভয়ঙ্কর একটি বিষয় ঠিক তেমনি শালী-দুলাভাই, দেবর-ননদের মতো গায়রে মাহরামদের সাথে পর্দাহীন চলাফেরাও মৃত্যুর মতোই ভয়ঙ্কর একটি বিষয়। ফলে মৃত্যু থেকে যেমন মানুষ পালিয়ে বাঁচতে চায় ঠিক তেমনি তাদের থেকেও পালিয়ে বাঁচতে হবে। আমাদেরকে আগে থেকেই এমন কঠিন সতর্কবার্তা থেকে সর্তক হতে হবে, সচেতন থাকতে হবে। অন্যথায়, এর পরিণতি ভয়াবহ হবে তা বলাই বাহুল্য।

এখন, সাদিয়া! এমন কঠিন ভয়াবহতার কথা জেনেও কি তুমি মৃত্যুর মতো দুলাভাই, দেবরদের কাছ থেকে পর্দা পালনের মাধ্যমে পালিয়ে বাঁচতে চাইবে না?
– অবশ্যই, তা তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আসলে, হয়েছি কি! এভাবে তো কখনো কেউ এতো সময় নিয়ে বুঝিয়ে বলেনি তাই এমন বিষয় নিয়ে আগে কখনো আমার জানাই হয় নি।

– এই তো তাহলে আমার প্রিয়তমা বুঝতে পেরেছেন। এবার তুমি আমাকে কথা দাও যে, তুমি এখন থেকে ঠিকমতো পর্দা করে চলবে। এমনকি কোনো গায়রে মাহরামদের সাথে চ্যাটিং পর্যন্ত করবে না। হোউক সে তোমার কাজিন।

– কথা দিলাম, আমি এখন থেকে ঠিকমতো পর্দা করে চলবো।
– এই তো আমার প্রিয় বউয়ের প্রিয় কথা। বুঝলে,
পরিপূর্ণ পর্দায় একজন নারীর আত্মসম্মানবোধের গভীরতা প্রকাশ পায়। পর্দা একজন নারীর সম্মান বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। তাই দুনিয়া ও আখিরাতে তোমার সম্মান বাড়ানোর স্বার্থেই তোমাকে পর্দার মধ্যে থাকতে হবে। আর আমি চাই আল্লাহর কাছে আমার প্রিয়তমা স্ত্রী সম্মানিত হোউক।

– কতো সুন্দর চিন্তা! আল্লাহ যেন তোমাকেও সম্মানিত করেন, আমিন।
– জানো সাদিয়া! তোমার মিষ্টি হাসিটাই আমাকে পাগল করে দেয়। আর এই হাসিটাই কিনা তুমি বেগানা পুরুষদের সামনে এতোদিন অনায়াসে উপহার দিয়ে এসেছে। ভাবতেও আমার গা শিউরে উঠছে।
– আর এরকমটা হবে না। আমি এখন থেকে খুব সতর্ক থাকবো যেনো কোনোভাবেই আর পর্দা লঙ্ঘিত না হয়। আমার এমন পরিবর্তন দেখে পরিবার সমাজের কেউ কিছু বললেও আমি তাতে কর্ণপাত করবো না। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে মানুষের কটু কথা শুনে হলেও তা পালন করে যাবো।
– এই তো অনুগত স্ত্রীর মতো কতো সুন্দর করে বিষয়টি বুঝতে পেরেছো। তোমার সুন্দর কথাগুলো আমার হৃদয়ে কতোটা শান্তি এনে দিয়েছে তা বলে বুঝতে পারবো না, সাদিয়া। এমন স্ত্রীকে 'I love you' না বললে কি আর হয়, বলো? I truly love you.
– I love you too.
– আলহামদুলিল্লাহ! ও হ্যাঁ, আর কি কিছু খাবে? তোমার জন্য অর্ডার করবো?
– না, অনেক খাওয়া হয়েছে। আর খেতে পারবো না।
– তাহলে, চলো! তোমাকে নিয়ে এখন এক জায়গায় যাবো?
– কোথায় যাবে?

তারপর ইমরান রেস্টুরেন্টের বিল পরিশোধ করে স্ত্রীকে নিয়ে সেখান থেকে বের হয়ে বিপরীত রোডে অবস্থিত একটি শপিং মলের দিকে নিয়ে গেলো। সেখানে যেতে যেতে সাদিয়া জিজ্ঞেস করলো, আচ্ছা! আমরা এখন কোথায় যাচ্ছি?
এই তো, কোথায় যাচ্ছি তা কিছুক্ষণ পরই দেখতে পারবে। অতঃপর একটি শো রুমে প্রবেশ করে স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে সে জিজ্ঞেস করলো,
কী কিনবে, কিনো! তোমার পছন্দ মতো কাপড় কিনো।
স্বামীর এমন কথা শুনে সাদিয়া রীতিমতো অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো, এখন কেনো শপিং? সেদিন না শপিং করলাম।

– তাতে কী হয়েছে। আমার বউয়ের জন্য প্রতিদিন শপিং করলেও তো আমার মনটা ভরবে না। বিশ্বাস করো, আমি মোটেও বাড়িয়ে বলছি না। মন থেকেই বলছি। কারণ আমার বউ খুশি থাকলে আমার খুশি লাগে। আজকের শপিং তোমার জন্য একটা সারপ্রাইজ বলতে পারো।

– ইটস অ্যা গ্রেট সারপ্রাইজ ফ মি ফ শিউর।
– আর হ্যাঁ, মা-র জন্যও একটি কাপড় কিনতে হবে। মাকে হঠাৎ কাপড় কিনে দিয়ে সারপ্রাইজ দিতে হবে কিন্তু। দেখবে, এমন আকস্মিক সারপ্রাইজ পেয়ে মা কত্তো খুশি হন। তখন দেখবে মা খুশি হয়ে মন থেকে আমাদের জন্য দোয়া দিবেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে, বাবার জন্য কোনো কিছু কিনে খুশি করার সৌভাগ্য তো অনেক আগেই আমি হারিয়ে ফেলেছি।

– হুম, বাবার জন্য দুঃখ করো না। আল্লাহ উনাকে শান্তিতে রাখবেন। আর মার জন্য তো অবশ্যই কিনবো।
তারপর শপিং শেষ করে বাসায় ফিরলে ইমরান আবারও তার স্ত্রীকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলল, সাদিয়া! মনে থাকে যেনো, পর্দার ব্যাপারে কিন্তু আর কক্ষণোই উদাসীন থাকা যাবে না। কেমন?

– আমি এতো বড়ো নির্বোধ নই যে, আমার স্বামীর এতো সুন্দর করে এতো সুন্দর ভঙ্গিমায় বলার পরও আমি আগের মতো পর্দাহীনভাবে চলবো। আমার জন্য দোয়া করো যেনো আল্লাহ তা'য়ালা আমাকে পরিপূর্ণ পর্দানশীল নারীদের অন্তর্ভুক্ত করে দেন। একইসাথে, এমন কাজ থেকে যেনো মহান রাব্বুল আলামিন আমাকে হেফাজত করে রাখেন যে কাজের দরুন আমার অজান্তে আমার স্বামী দাইয়্যূসের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যান।
– আমিন! ছুম্মা আমিন!

রেফারেন্সঃ
[১] মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং : ৫৮৩৯
[২] সহীহ বুখারী, হাদীস নং : ৫২৩২ ও সহীহ মুসলিম, হাদীস নং : ২১৭২


পর্দা ইসলাম
০ টি মন্তব্য      ১৬৩ বার পঠিত         

লেখাটি শেয়ার করতে চাইলে: