অনলাইনে আছেন

  • জন ব্লগার

  • ৩২ জন ভিজিটর

রিযিকের তালাশ করি, নাকি অভাবের...?

লিখেছেন কহেন কবি বৃহস্পতিবার ৩০ জুন ২০২২

আমরা কি, "রিযিকের তালাশ করি, নাকি অভাবের"
মানুষ যদি রিযিকের তালাশ করতো, তাহলে তো দিনরাত টাকার পিছনে দৌড়ানোর কথা না।

অভাব এমন সীমাহীন একটা বিষয় যে, অর্থনীতির প্রতিটা জায়গায়, অর্থনীতিবিদরা মোটাদাগে অভাবকে অসীম হিসেবেই সংজ্ঞায়িত করেছেন।

আপনি সারাজীবন টাকার পিছনে দৌড়ালেও, অভাব আপনার পিছু কখনোই ছাড়বে না।
"আমার এক কাছের ভাইরে দেখি, সারাদিন, সকাল দুপুর, রাত, সব সময়ই দৌড়ের উপর। আমি ভেবে পাইনা, এই লোকে রিযিকের সন্ধানে দৌড়াচ্ছে নাকি অভাবের পিছনে দৌড়াচ্ছে৷

আগামীকালের রিজিক বা খাওয়ার ব্যবস্থা করার দায়িত্ব যে মহান আল্লাহর সেই আল্লাহর ওপর আমাদের ভরসা কমে গেছে।

আমরা আল্লাহকে বিশ্বাস করি, তিনি আমাদের বানিয়েছেন, জীবন দিয়েছেন, মৃত্যু দেবেন, তিনি রিজিকদাতা- আমাদের খাদ্যের ব্যবস্থাও তিনি করেন, তা আমরা জানি,
কিন্তু আমরা বাস্তব জীবনে সংকটে পড়লে আমরা তা ভুলে যাই।
অথচ, 'আল্লাহ কুরআনে একাধিক জায়গায় বলেছেন, "তিনি যাকে চান তাকে বিনা হিসাবে রিজিক দান করেন"।

বর্তমান পুজিবাদী সমাজ ব্যবস্থা, আমাদের ভোগের বিনিময়ে সুখ, পাওয়ার প্রবণতা শিখিয়েছে। আর এই সুখ পেতেই, আমাদের প্রচুর অর্থের প্রয়জন পড়ে। যে কারনে আমরা প্রকৃত অর্থে না পারি সুখী হতে, না পারি অভাব মিটাতে।

আমরা প্রকৃত রিযিক থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। আমরা রিযিকের সন্ধান না করে, আমরা অভাব মোচনের পিছনে দৌড়াচ্ছি।

আমার এক পরিচিত চাচা, উনার নিজস্ব জায়গা জমিও তেমন নেই। উনি সামান্য একটা কাজ করে মাসে, ৪০০০/৫০০০ টাকা বেতন পান, কিন্তু উনার চলার পথে কখনোই আমি শুনিনি, উনি অভাবে পড়েছেন, কিংবা কোথাও বাকি রেখেছেন, কিংবা উনার পরিবারে কেউ না খেয়ে ছিলো।

বরং উনি এই সামান্য টাকাতেই অন্য মানুষকে আপ্যায়ন করে, আমি অভীভুত হই, উনাকে দেখে। সব সময় উনার মুখে হাসি লেগে থাকে।

উনাকে দেখেই আমার একমাত্র মনে হয়, ইনিই একমাত্র আমার দেখা মানুষ, যিনি রিযিকের সন্ধানে আল্লাহর উপর ভরসা রাখেন।

"বাসায় ফেরার সময়, এক দাদায় কথায় কথায় বলছিলো, আমরা গরীব মানুষ আমরা কী আর, ধনী মানুষের মতো, ভালোমন্দ খাইতে পারি, আমি উনারে বললাম, দাদা ধনী মানুষেরা কি, বাসায় হাতীঘোড়া জবাই করে রাখে নাকি, আপনি আপনার বাসায় যা খান উনিও তাই খায়"।

তফাত শুধু এক জায়গায়, ধনীরা দেখায়, গাড়ি দেখায়, বাড়ি দেখায়, পোশাক দেখায়, আমরা সেটা দেখাই না।

কারণ রিযিক সুনির্দিষ্ট, আপনার রিযিকে যা আছে তার একটা কণার বেশীও আপনি খেতে পারবেন না।

কিন্তু বস্তুগত অভাব, আপনার এই দুনিয়াবি জীবনে কখনোই শেষ হবেনা। অভাব হচ্ছে এক অতল গহব্বর,যার কোনো কিনারা নেই


রিযিক ইসলাম
০ টি মন্তব্য      ১৬৬ বার পঠিত         

লেখাটি শেয়ার করতে চাইলে: