অনলাইনে আছেন

  • জন ব্লগার

  • ২২ জন ভিজিটর

আদমশুমারি বনাম জনশুমারি : একটি সাংস্কৃতিক আগ্রাসন

লিখেছেন আফগানী শনিবার ১৮ জুন ২০২২

 

দেশে আদমশুমারী হচ্ছে। আদমশুমারী কতটা ভালোভাবে হবে জানিনা। তবে শুমারির আগেই সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালালো সরকার। আদমশুমারীর নাম দেওয়া হলো জনশুমারি। 

 

আপনি বলতে পারেন, এ আর এমন কী! লাউ আর কদু। কিন্তু কিন্তু বিষয়টি আসলে তা নয়। আমাদের এই অঞ্চলে ব্রাহ্মণ্যবাদীরা সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছিল শুরু থেকেই। 

 

১৯৭১ সালে মুসলিমরা মুশরিক ও তাদের দোসরদের দ্বারা পরাজিত হওয়ার পর এই আগ্রাসন চালানো হয়েছে সবচেয়ে মারাত্মকভাবে। মুসলিম ও ইসলাম নামের সব সব প্রতিষ্ঠান ও ব্যানার থেকে শব্দগুলো মুছে দিয়েছে শেখ মুজিব সরকার। 

 

তারপর দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় এদেশে ইসলামী শক্তির আবার জাগরণ হয়। এর জন্য মুসলিম লীগের নেতৃত্বে গঠিত ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগ ভালো ভূমিকা রাখে। আর নেজামী ইসলামী ও জামায়াতে ইসলামী দারুণ ভুমিকা রাখে সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণে। পাড়া মহল্লায় ওয়াজ মাহফিল ও তাফসীরুল কুরআন মাহফিলের আয়োজন ব্যাপক ভূমিকা রাখে।

 

যা হোক মূল কথায় আসি। মুসলিমদের বিশ্বাস অনুসারে আদম আ. থেকে সকল মানুষের উৎপত্তি। তাই মানুষদের আমভাবে আদম বা আদমসন্তান বলা হয়। তাদের গণনার ঘটনাকে আদমশুমারী বলা হয়। মুসলিম অধ্যুষিত ও পৃথিবীর ২য় বৃহত্তম মুসলমান জনগোষ্ঠীর দেশে এটা খুবই স্বাভাবিক শব্দ। কিন্তু মুশরিকদের দালালদের এই শব্দে তাই ব্যাপক আপত্তি। এরা নিজেদের মুসলমান এবং সময়ে সময়ে তাহাজ্জুদগুজার উল্লেখ করলেও  তারা মানুষকে আদমের সন্তান বলতে রাজি না। তাই আদমশুমারীর নাম পাল্টে তারা করেছে জনশুমারী। 

 

এর ধারাবাহিকতায় তারা কিছুদিন পর অভিধান থেকে শব্দটি বাদ দেবে। আরো কিছুদিন পর কিছু তথ্য ও শব্দ সন্ত্রাস পত্রিকায় কলাম লিখে বলবে কেন মানুষ আদমশুমারীর মতো সাম্প্রদায়িক শব্দ ব্যাবহার করে বুঝে আসে না। এভাবে চলতে থাকবে। 

 

এটা একটা যুদ্ধ। সাংস্কৃতিক এই যুদ্ধে আমাদের পরাজিত হলে চলবে না। আমরা এই শব্দসহ মুসলিমরা ব্যবহার করে এমন কোনো শব্দই পরিবর্তন করতে পারি না। বরং আমাদের মুয়ামেলাতে শব্দগুলোর ব্যবহার বাড়াতে হবে। 

 

গত টার্মে অর্থাৎ ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেও এমন অনেক পরিবর্তন করেছে। কিন্তু ধোপে টিকে নি। ছোট একটা উদাহরণ দেই। আমি তখন নোয়াখালী জিলা স্কুলের ছাত্র। আমাদের বেতন কার্ডে নাস্তা বাবদ টাকা নেয়ার যে ঘর ছিল সেখানে নাস্তা না লিখে লিখেছে 'জলখাবার'। এই শব্দটা মুশরিকরা ব্যবহার করে। 

 

মুশরিকদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে আপনার সংগ্রাম   অব্যাহত থাকা চাই। আদমশুমারী নাম পরিবর্তন করে জনশুমারী বলে চাপিয়ে দেওয়া মুশরিকদের একটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।


০ টি মন্তব্য      ১০৬ বার পঠিত         

লেখাটি শেয়ার করতে চাইলে: