অনলাইনে আছেন

  • জন ব্লগার

  • ১৭ জন ভিজিটর

জামায়াতের রুকনদের দায়িত্ব ও কর্তব্য কী?

লিখেছেন আফগানী শুক্রবার ১৭ জুন ২০২২

 

একজন জামায়াত কর্মী শপথ গ্রহণ করার পর তার দায়িত্ব বেড়ে যায়। তাকে ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করতে হয়। এমনভাবে তাকে চলতে হয় যাতে করে তাকে দেখে অন্যান্যরা ইসলামের ব্যাপারে সম্যক ধারণা পায়। এটাকে বলা হয় বাস্তব সাক্ষ্য। শুধু মুখে ইসলামের অনুসারী হওয়ার বিপরীতে কাজে ও কর্মে মিল থাকার জন্যই দাওয়াত দেয় জামায়াতে ইসলাম। 

 

অতএব ইসলামকে সঠিকভাবে প্রেজেন্ট করাই রুকনদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। এজন্য কিছু কর্তব্যের কথা জামায়াত উল্লেখ করেছে যা একজন রুকন তার চরিত্রের মধ্যে ধারণ করবেন।   

 

১. ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞানর্জন করা যাতে ইসলাম ও জাহেলিয়াতের মধ্যে পার্থক্য করতে পারেন এবং আল্লাহর নির্ধারিত সীমা সম্পর্কে জ্ঞাত থাকবেন। 

 

২. আল্লাহর একনিষ্ঠ দাস হবেন। নিজের ইচ্ছাকে প্রাধান্য না দিয়ে বরং আল্লাহর ইচ্ছাকেই শিরোধার্য হিসেবে গ্রহণ করবেন। 

 

৩. আল্লাহর কিতাব ও রাসূল সা.-এর সুন্নাহর বিপরীত সকল প্রকার জাহেলি নিয়ম কানুন থেকে পবিত্র থাকবেন। শরিয়তের বিধান ভালোভাবে মেনে চলবেন। 

 

৪. হিংসা বিদ্বেষ, ঝগড়া, দ্বীন ইসলামে গুরুত্ব নেই এমন বিষয়ে মশগুল থাকবেন না। 

 

৫. ফাসিক ও আল্লাহ বিমুখ লোকদের সাথে দাওয়াতের প্রয়োজন ছাড়া সকল প্রকার বন্ধুত্ব পরিহার করবেন। 

 

৬. নিজের সকল কাজ কর্ম আল্লাহভীতি ও ইনসাফের সাথে করবেন। 

 

৭. নিজ পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও পরিচিতিজনের মাঝে ইসলামের বাস্তব সাক্ষ্য উপস্থাপন করবেন। 

 

৮. দ্বীন ইসলামকে কায়েম করার উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই নিজের সমস্ত কর্মতৎপরতা পরিচালনা করবেন। 

 

মহিলা রুকনদের অতিরিক্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য 

 

১. নিজ পরিবার, মাহরাম, পরিচিত ও অপরিচিত সকল নারীর কাছে ইসলামী আন্দোলনের দাওয়াত পৌঁছে দেবেন।

 

২. নিজ সন্তানদের বিশেষ তদারকির মাধ্যমে তাদের ইসলামী অনুসারী বানাবেন। 

 

৩. স্বামী, পুত্র, পিতা ও ভাই যদি আন্দোলনের সাথে যুক্ত থাকেন তবে তাদের সাহসী ও আশাবাদী করে তুলবেন। বিপদে পড়লে তাদের জন্য ধৈর্য ও দৃঢ়তা অবলম্বন করবেন। 

 

৪. স্বামী, পুত্র, পিতা ও ভাইদের মধ্যে কেউ যদি জাহেলিয়াতের মধ্যে নিমজ্জিত থাকে তবে আন্তরিকতার সাথে, আখিরাতের ভয় দেখিয়ে পরিবর্তনের চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। তারা, বিশেষভাবে স্বামী যদি আল্লাহর নাফরমানীমূলক কোনো আদেশ দেয় তবে তা মানতে অস্বীকার করবেন। 

 

আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে এই দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করার তাওফিক দান করুন। একটু খেয়াল করলে দেখবেন এই কর্তব্যগুলো শুধু রুকন হিসেবে কর্তব্য নয় বরং যারা নিজেদের মুসলিম দাবি করবে, নিজেদের মুহাম্মদ সা.-এর উম্মৎ দাবি করবে সবারই কর্তব্য। তাই আপনিও আসুন, জামায়াতে ইসলামীর রুকন হয়ে নিজের জীবনকে ইসলামের ছাঁচে সাজানোর চেষ্টা করি। 

 

#গণসংযোগ_পক্ষ


০ টি মন্তব্য      ৬৯ বার পঠিত         

লেখাটি শেয়ার করতে চাইলে: