অনলাইনে আছেন

  • জন ব্লগার

  • ২০ জন ভিজিটর

সংবাদপত্রের কালো দিবসে সাংবাদিকদের কোনো ভূমিকা নেই

লিখেছেন আফগানী শুক্রবার ১৭ জুন ২০২২

গতকাল ছিল এমন একটি দিন, ৪৭ বছর আগে এই দিনে হঠাৎ করেই শত শত সাংবাদিক বেকার হয়ে পড়েছিলো। সেদিন যারা বেকার হয়ে বিপদে পড়েছিলো তাদের মধ্যে আজ অনেকেই বড় বড় হেভিওয়েট সাংবাদিক, সম্পাদক এবং প্রকাশক। কিন্তু, কিন্তু তাদের সাহস নেই অথবা কালের বিবর্তনে আজ তারা স্বৈরাচারের দালালে পরিণত হয়েছে অথবা স্বৈরাচারের উচ্ছিষ্ট ভোগ করে সারমেয়র মতো জিহবাখান বের করে লেজ নাড়তে আছেন। অতএব ফলশ্রুতিতে আজকের সংবাদপত্র রিলেটেড এই দিনটির কথা অনুপস্থিত সকল পত্রিকা এবং মিডিয়াতে।

 

১৬ জুন। সংবাদপত্রের কালো দিবস। কোন পত্রিকার মুরোদ নেই বিষয়টা নিয়ে লিখার। এটা নিয়ে আলোচনা সভা বা দিবস পালনতো বহু দূরের কথা। ১৯৭৫ সালের এই দিনে বাংলাদেশের প্রথম স্বৈরাচার মুজিব তার করায়ত্বে থাকা চারটি দালাল পত্রিকা বাদে সকল পত্রিকা বন্ধ করে দেয়। সেই দিন থেকে ১৬ জুন সংবাদপত্রের কালো দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছিল। তবে গত ৭-৮ বছর সংবাদপত্রগুলো সেই স্বৈরাচারীর উত্তরসূরির কবলে পড়ে দিবসটি পালন করছে না। সেই দালাল চারটি পত্রিকা হলো দৈনিক বাংলা, বাংলাদেশ অবজারভার, দৈনিক ইত্তেফাক ও বাংলাদেশ টাইমস।

 

বর্তমান বাংলাদেশে ৪র্থ স্বৈরাচারের আমলেও বন্ধ হয়েছে অনেক পত্রিকা, অনেক টিভি। রুটি রুজিতে আঘাত এসেছে অগণিত সাংবাদিকের।১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৬ তারিখে প্রথম আলোর এক রিপোর্টে বলা হয়, ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সাংবাদিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ১৪ টি। আর আহত হয়েছেন ৫৬১ জন সাংবাদিক। কিন্তু মহাজোটের ১ম শাসন আমলেই সাংবাদিক মৃত্যুর ঘটনা ২০ ছাড়িয়ে ২১ গিয়ে ঠেকেছে। আর ২য় মেয়াদের ৫ ই ডিসেম্বর পর্যন্ত এ সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ এ । এ তথ্যটি পাওয়া যায় পরিবর্তন পত্রিকার ২৯ আগস্ট ২০১৮র একটি রিপোর্ট থেকে। আজ সেই পরিবর্তন ডট কমই বন্ধ হয়ে গিয়েছে সম্প্রীতি বাংলাদেশ নামে সরকারপন্থী একটি এনজিও নিয়ে রিপোর্ট করার অপরাধে।

 

আর যদি সাংবাদিক নির্যাতন তথা শুধু আক্রমণ বা আহতের হিসাব দেই তাহলে ২০১৩ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আসকের রিপোর্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সে সংখ্যাটা সাতশরও অধিক ৭০৫ জন। আর এসব আহত, হত্যা, নির্যাতন মিলিয়ে মোট হয়রানির শিকার ১২২৬ জন। এর মধ্যে আওয়ামীলীগ নির্যাতন করেছে ৩৮৩ জন সাংবাদিককে। পুলিশ ১৩০ জনকে, বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্তৃক নির্যাতিত হয়েছেন ২৪০ জন।

 

২০১৩ সালে, দৈনিক আমার দেশ, দিগন্ত টিভি, চ্যানেল ওয়ান, সিএসবি, ইসলামিক টিভির পর একসঙ্গে ৩৫টি অনলাইন পোর্টাল বন্ধ করে দেয়। যার ফলে হাজার হাজার সাংবাদিক বেকার হয়ে পড়েন। এছাড়াও ইটিভির সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান আবদুস সালাম প্রায় বহুদিন ধরে কারাগারে আছেন। ৪ জানুয়ারি ২০১৫ তারিখের রাতে যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত একটি সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫০ মিনিটের একটি বক্তব্য ইটিভিতে সরাসরি সম্প্রচারের এক দিন পর ৬ জানুয়ারি ভোরে আবদুস সালামকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ।

 

বিশ্ব দরবারও যে বাংলাদেশের গণমাধ্যম নিয়ে চিন্তিত তা ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স -২০১৮ সূচক দেখলেই বোঝা যায়। এ সূচকে পৃথিবীর ১৮০ টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের ১৪৬ তম। অথচ ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার যখন ক্ষমতা গ্রহণ করে তখন এই একই প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন অনুযায়ীই বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১২১তম। ৯ বছরে ২৫ ধাপ অবনতি ঘটে এ বছর ১৪৬তম হয়েছে ।

 

সবচেয়ে বড় বিপর্যয়টি ঘটে ২০১৩ সালে। এ বছর ১৫ ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান হয় ১৪৪ তম। যেখানে ২০১২ সালে ছিলো ১২৯ তম। কারন এ বছরেই বন্ধ করে দেয়া হয় দৈনিক আমার দেশ, দিগন্ত টিভি, ইসলামিক টিভিসহ অনেকগুলো অনলাইন নিউজ পোর্টাল। ২০১৬ সালেএকসঙ্গে ৩৫টি অনলাইন পোর্টাল বন্ধ করে দেয় স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার। ২০১৮ সালে নির্বাচনের প্রাক্কালে ৫৮টি নিউজ সাইট বন্ধ করে দেয়। ২০১৯ সালে বাংলা, জবান, এমনকি আল জাজিরা সাইটও বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করে স্বৈরাচারী হাসিনা।

 

হাসিনা ও তার দালাল গং নির্লজ্জভাবে বলে বেড়াচ্ছেন, গণমাধ্যম পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করছে। অথচ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সবার নিচে।


০ টি মন্তব্য      ৭৬ বার পঠিত         

লেখাটি শেয়ার করতে চাইলে: