অনলাইনে আছেন

  • জন ব্লগার

  • ১৫ জন ভিজিটর

চার দেয়ালের বাইরে...

লিখেছেন কহেন কবি মঙ্গলবার ৩১ মে ২০২২
১.
অসুস্থ শাশুড়িকে রেখে জব করতে যায় অদ্রীতি। সেবার জবে যাওয়ার পথে রীধার সাথে কথা বলতে বলতে যাচ্ছে।রীধার পরিচয়টা আগে দিয়ে রাখি-
.
"রীধা অদ্রীতির কলেজ ফ্রেন্ড । কলেজ শেষে দু'জনেরই ভার্সিটিতে আসে কিন্তু রীধা সহশিক্ষা কার্যক্রম থাকায় ভার্সিটিতে এডমিশন নিলনা।এরি মধ্যে তার বিয়ের কথাবার্তা চলছে আর রীধা চাইতো আল্লাহ ভীরু এবং দায়ী ইলাল্লাহর কাজ করে এমন কাউকে যে হবে একজন প্রকৃত অর্থে ধর্মান্ধ। খুব দ্রুতই বিয়ে হয়ে গেল রীধার চাওয়ার মত একজনের সাথে। এখন লেখাপড়া ছেড়ে ঘরসংসার নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।তার স্বামী একজন আলেম একটা ছোট খাটো প্রকাশনার এমডি সাথে লেখালেখিও করেন খুব ভালো।মধ্যম আয়ের সংসারে খুব সুখে দিন পার করছেন তারা।এক ছেলে দু'মেয়ে আর শশুর শাশুড়ি নিয়েই তাদের সংসার।"
পথ চলতে চলতে রীধা বলল:অদ্রীতি শুনলাম তোমার শাশুড়ি খুব অসুস্থ?
অদ্রীতি:"হ্যা" হাঁটা চলা তেমন করতে পারেনা।
তোমার বাচ্চাকাচ্চা দেখভাল করে কে?(রীধা)
অদ্রীতি:-পাশের বাড়ির এক খালারে দেখা শুনা করতে দেয় ।
তোমার বাচ্চাকাচ্চা শাশুড়ির খাওয়া দাওয়া কে করায়?(রীধা)
অদ্রীতি:শাশুড়ি নিজে পারবে বলেন।তাই আমি ঐসব ভাবিনা।আমি জবে যেতে মাঝে মাঝে বাচ্চারেও নিয়ে যায়।
২.
কিছুদিন পর অদ্রীতি বাড়ি ফেরার পথে দেখা রীধার সঙ্গে।
রীধা এই শুনচ্ছো..
অদ্রীতির ডাক শুনে রীধা রীতিমতো অবাক হয়ে পেছন ফিরল:অদ্রীতি আসসালামুয়ালাইকুম তুমি এতদিন পর! ভালো আছো?
অদ্রীতির আচমকা চোখে পানি টলমল করছে;
কাঁদো কাঁদো গলায় বলল: ভালো নেই আর।
জানতো মেয়েদের কোন অধিকার নেই এ সমাজে বেঁচে থাকার যদি সে নিজেকে চার দেয়ালের মধ্যে বন্দি করে রাখতে না পারে।
রীধা:কেন? তুমি কি সব বকছো! ..
অদ্রীতি :জানতো আজ এক বছর হল আমাদের ডিভোর্স হয়েছে।
রীধা :কেন! কেমনে,কি?
অদ্রীতি: সেই দিন শাশুড়ি খুব অসুস্থ ছিলেন। কিন্তু এদিকে অফিসে স্যার ডেকেছেন আমাকে অবশ্য অফিসে যেতে হবে । এখন বাসায়ও কেউই ছিল না বাচ্চারাও নানু বাড়ি ছিল।তাই প্রয়োজন বোধে শাশুড়িকে তালা বন্ধ করে অফিসে আসি।তুমি(রীধা) জানই এমডির কথার অমান্য করলে জব চলে যাবে তাই এটা ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না।
..
সেদিন আসতে একটু দেরি হয়ে যায়। আর ফিরে দেখি উনি (স্বামী) দরজায় দাঁড়িয়ে আছে আর আসপাশে মানুষের চিল্লাচিল্লি পড়েছে আর কিছু বুঝে উঠতে না উঠতেই ডিভোর্স দেয় আমায় সে।
(স্বামী) কেমন পুরুষ মায়ের জন্য আমাদের এতো দিনের গড়ে তোলা সংসার মূহুর্তে ভেঙ্গে চুরমার করে দিল।
হয়তো সে একদিন না একদিন এমনটা আমার সাথে করবে এটা ভেবে আমি জব ধরে থাকে বিয়ে করেছিলাম।আর আমার ভাবনা সত্যি ছিল।আজ চাকরি আছে বলেই আমি মানুষ হিসেবে বেঁচে আছি।আমি আমার মতো একটা জীবন যাপন করতে সক্ষম হয়েছি।
রীধার চোঁখের কোণায় জমে থাকা পানি টলমল করে পুরো মুখ ভিজে যাচ্ছে ।সে বাকরুদ্ধ হয়ে যায় কিছু বলতে পারছেনা ।রীধার মুখে শুধু একটা বাক্যই শুনা যাচ্ছে "আস্তাগফিরুল্লাহ"..

জীবন
০ টি মন্তব্য      ২২৫ বার পঠিত         

লেখাটি শেয়ার করতে চাইলে: