অনলাইনে আছেন

  • জন ব্লগার

  • ৩৩ জন ভিজিটর

গণকমিশন, শ্বেতপত্র ও আগামীর ইসলামী রাজনীতি.....

লিখেছেন মু. লাবিব আহসান শনিবার ২১ মে ২০২২
গণকমিশনের শ্বেতপত্র ইস্যুটি ঐক্যবদ্ধ হবার একটি বিরাট সুযোগের সামনে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের ইসলামী অঙ্গনকে। ইসলাম বিদ্বেষী শিবির নিজেদের অজান্তেই আত্মঘাতি গোল খাওয়ার পরিবেশ তৈরি করে ফেলেছে। এখন দেখার বিষয়- ইসলামী শিবির বল প্রতিপক্ষের জালে জড়াতে কতটা সফল এবং দূরদর্শী রাজনীতির সাক্ষর রাখতে পারে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক সত্যটি হলো- অতীতে এমন সুযোগ বহুবার হাতছাড়া করেছে ইসলামী মহল।
শ্বেতপত্রটির ১১৬ জন আলেমের নামগুলোর দিকে তাকালে আমাদের বহু বছরের শত সাধনার একটি কল্পিত ছবি প্রতীকী তাৎপর্য নিয়ে প্রতিভাত হয়ে ওঠে। এই মানুষগুলোকে ঠিক এভাবে সারিবদ্ধ হয়ে পাশাপাশি দাঁড়াতে দেখব বলে কত দিবসকে রজনী বানিয়েছি, কত ভোরকে করেছি সন্ধ্যা; তার কি কোনো হিসেব রেখেছে কেউ? কিন্তু তারা কখনও এক হননি। ছোটখাটো তুচ্ছাতিতুচ্ছ মতপার্থক্য নিয়ে পরস্পরকে কাদা ছোড়াছুড়ি করেছেন, কাফের ফতোয়া দিয়েছেন।
কী নির্মম দুর্ভাগ্য! তারা নিজেরা কখনও একসাথে না বসলেও নাস্তিকরা ঠিকই তাদের এক পাল্লায় মেপেছে, বেঁধে ফেলেছে এক রশিতে। পদ্মা, মেঘনা, যমুনা; যে নাম নিয়েই তারা প্রবাহিত হোক না কেন, পরিচয় তাদের একটাই- তারা নদী। আর তাদের অনিবার্য গন্তব্য বঙ্গোপসাগর। আমরা নিজেরা নিজেদের শতধাবিভক্ত করে রাখলেও তাদের কাছে আমাদের একটাই পরিচয়- আমরা মুসলিম। বাতিলের ভিত ভেঙে দিয়ে ইসলামের বিপ্লবী আন্দোলনকে বুলন্দ করতেই আমাদের পদযাত্রা।
বাংলাদেশের ইসলামী দলগুলোর নেতৃবৃন্দ এবং আলেম-ওলামাগণের বোধোদয় হবার এটাই উপযুক্ত সময়। এখনও নিজেদের জেদ-যুক্তি নিয়ে দূরে দূরে থাকলে একটি ভয়ঙ্কর ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করতে হবে সবাইকে। বাংলাদেশে ইসলাম ও ইসলামী রাজনীতির কবর রচিত হবে। দেশের সিংহভাগ মানুষ ইসলামী ভাবাপন্ন হওয়ার পরও কেবল ঐক্যবদ্ধ নেতৃত্বের অভাবে নিজেদের ফসল ঘরে তুলতে পারছে না, সোচ্চার হতে পারছে না নিজেদের অধিকার আদায়ের প্রশ্নে। এটাই ইসলামী রাজনীতির সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা।
শ্বেতপত্র আশার রুদ্ধ দুয়ার অবারিত করে দিয়েছে। এর একটি বাহ্যিক সৌন্দর্য আমরা ইতোমধ্যেই দেখতে শুরু করেছি। 'ফেস দ্য পিপল' অনুষ্ঠানে ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী এবং এ্যাড. মিজানুল ইসলাম সমগ্র উম্মাহর পক্ষ হয়ে যেভাবে ডিফেন্ড করেছেন, তা নিঃসন্দেহে একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে ইসলাম বিদ্বেষী মহলকে। তারা বুঝতে পেরেছে- ইসলামী অঙ্গন একাকী অভিভাবকহীন নয়। তারা তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেয়ার মতো ফেলনাও নয়। এমনকী জ্ঞানের দুনিয়ায়ও দৈন্য নয় তারা। আগামীদিনে তাদেরকে মোকাবেলা করার কর্কট চ্যালেঞ্জ ঝুলে আছে ইসলাম বিদ্বেষীদের নাকের ডকায়।
আমরা দাবী করছি না- ১১৬ জনের তালিকায় থাকা প্রত্যেকেই ধোয়া তুলসি পাতা। তাদের মধ্যে কতক এমন ব্যক্তিও রয়েছে, যাদের জন্য ইসলামী অঙ্গন বহুবার বিব্রত হয়েছে। তাদের অনেকেরই কথা, কাজ, আচরণ প্রকৃত ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করেনা মোটেও। বেফাঁস কথাবার্তা, নীতিনৈতিকতা বিবর্জিত কর্মকাণ্ডের জন্য একাধিকবার তারা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। শ্বেতপত্রের দ্বিতীয় সুবিধাজনক দিকটা এখানেই। এবার যদি অন্তত তারা সংশোধিত হতে চেষ্টা করে, যদি কথায় টেনে ধরে লাগাম, যদি মন দেয় পড়াশুনায়, তাহলে গণকমিশন আর শ্বেতপত্র উভয়ই বুমেরাং হয়ে গিয়ে আত্মঘাতী গোলে রূপান্তরিত হবে তাদের জন্য; সন্দেহ নেই।

গণকমিশন শ্বেতপত্র ইসলামী রাজনীতি
০ টি মন্তব্য      ১০১ বার পঠিত         

লেখাটি শেয়ার করতে চাইলে: