অনলাইনে আছেন

  • জন ব্লগার

  • ৪১ জন ভিজিটর

ইসলামের ইতিহাস ও আপনি...

লিখেছেন Shahmun রবিবার ০৩ এপ্রিল ২০২২

খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতকে পৃথিবী ডুবে ছিল অতল অন্ধকারে। পাপ আর জুলমে ছেয়ে ছিল দুনিয়া। ব্যথিতের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছিল পৃথিবীর বাতাস। কিন্তু জালিমের হুংকার থামছিল না। এদিকে বিশৃঙ্খলা আর অশ্লীলতায় আক্রান্ত ঘুনে ধরা সমাজের পতন রোধ করার শক্তি কারো ছিলনা। গোটা পৃথিবী ঘুরে কোনো আলোর সন্ধান পাওয়া যেতো না। কারণ খ্রিস্টবাদ পৃথিবী রক্ষার দায়িত্ব আগেই জলাঞ্জলী দিয়েছে, ইহুদীরা দেশে দেশে তাড়া খেয়ে ফিরছে, আর পার্সিয়ানরা আগুনের পূজায় মত্ত।

এমনি এক সময়ে অপেক্ষা ছিল একজন মহামানবের। একটি নতুন দ্বীনের৷ যে দ্বীন মানবতাকে মুক্তি দেবে। তিনি এলেন। তার আগমনে আরবের মরুভূমিতে বয়ে গেলো শান্তির ঝর্ণাধারা। তিনি রাহমাতুল্লিল আলামীন...হযরত মুহাম্মাদ (সা.)। তিনি নিয়ে এলেন ইসলাম -আল্লাহর মনোনীত পরিপূর্ণ দ্বীন। ইসলাম দিকে দিকে শুনিয়ে গেলো ইনসাফের বাণী। নিয়ে এলো মুক্তির সওগাত। গড়ল সোনার মানুষ সাহাবা রাযিআল্লাহহ আনহুমদের।
যুদ্ধের ময়দানে সাহসী বীরদের ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তায় আর দাওয়াতের ময়দানে মুসলমানদের চারিত্রিক শুভ্রতায় ছড়িয়ে পড়ল ইসলাম পৃথিবীর দুই -তৃতিয়াংশে ছড়িয়ে পড়ল। ইসলাম হয়ে উঠল একটি শক্তিশালী সভ্যতা। যে সভ্যতার স্বকীয়তার কাছে হেরে যেতো বাকী সব সভ্যতা। যে সংস্কৃতি সব সংস্কৃতিকে জয় করে নিতো। ইসলাম তো মানুষকে ভিতর থেকে জয় করে নিয়েছে, তলোয়ারের জোরে ছড়ায়নি।
ইসলামের আশ্রয়ে জ্ঞান-বিজ্ঞান পেয়েছিল ভিন্ন মাত্রা। চারশো বছর ধরে টিকে থাকল সোনালি যুগ। নতুন নতুন আবিষ্কার মুসলিম জাহানকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলো। স্মরণীয় সেই নামগুলো...ইবনে সিনা, আল হাইসাম, আল খাওয়ারিজমি, আল রাযী, ওমর খৈয়াম।
ইসলামের ছায়াতলে আন্দালুস হয়ে উঠল দুনিয়ার ফেরদৌস। কর্ডোভা, গ্রানাডা, সেভিলের খ্যাতি তখন বিশ্বজোড়া। বাগদাদ পরিণত হলো জ্ঞান-বিজ্ঞানের কেন্দ্রে। ঐতিহাসিক ইস্তাম্বুলের মসজিদগুলোর মিনার থেকে আযানের সাথে সাথে ইসলামের শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণাই ভেসে আসত।
ক্রুসেড কিংবা মোঙ্গল আগ্রাসন - শত্রুর ষড়যন্ত্র ও স্বজাতির বিশ্বাসঘাতকতা ইসলামের অস্তিস্ত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে বারবার। তবে প্রতিটি ক্রান্তিকালে পৃথিবী দেখেছে মুসলিম উম্মাহর শ্রেষ্ঠ বীরদের উত্থান । সুলতান সালাহুদ্দীন আইয়ুবী, সুলতান সাইফুদ্দীন কুতুয, সুলতান মুহাম্মাদ আল ফাতিহদের।
উমাইয়া, আব্বাসীয়, মামলুক, ফাতেমি, অটোমান, মোঘল, শাফাবী...কতশত সাম্রাজ্য প্রবল বিক্রমে পৃথিবী শাসন করল। অনেকে কালের আবর্তে হারিয়েও গেলো। কিন্তু কখনো মুসলমানরা সমগ্র পৃথিবীতে একসাথে নেতৃত্ব হারায়নি।
এক সময় ঘটল ছন্দপতন। হাজার বছরের এক সভ্যতা ঔপনিবেশিক শত্রুর কাছে হেরে গিয়ে খুইয়ে বসল সব সমৃদ্ধি, নেতৃত্ব। এই হেরে যাওয়া শুধু ভূখন্ড হারানো নয়। এই পরাজয় বুদ্ধিবৃত্তিক পরাজয়। সাংস্কৃতিক পরাজয়। এখন মুসলমানরা পরিচিত পরাজিত, দুর্বল, ব্যাকডেইটেড জাতি হিসেবে ।
কালের ঠিক এই প্রান্তে দাড়িয়ে আছেন আপনি। এই অবস্থানে আপনাকে ঘিরে ধরেছে হীনম্মন্যতা। কারণ আপনার সত্যিকারের পরিচয় বিলীন হয়ে গেছে। আপনার সংস্কৃতি দুর্বলের সংস্কৃতি। আপনি হয়তো শক্তিমানের অণুকরণে ব্যস্ত। আপনার আইডল হয়তো মুসলিম কেউ নয়। আপনার পথ গেছে বেঁকে।
অন্ধকার হাতড়ে চলা আর কতদিন?
আপনি কি জানেন আপনার নিজের একটি শেকড় আছে? সমৃদ্ধ ইতিহাস আছে? আছে অসংখ্য অণুসরণীয় ব্যক্তিত্ব?
জানেন? গুড। না জানলে অসুবিধা নাই।
আপনাকে জানাতেই চলে এসেছে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি অলিম্পিয়াড।
ইসলামের হারিয়ে যাওয়া এ ইতিহাস থেকে আপনি জানবেন আপনি কে। কোন জাতির। সে জাতির গৌরব। সে জাতির লিগ্যাসি। সে জাতির বর্তমান ও ভবিষ্যত।
এই ইতিহাস যাত্রায় আপনাকে স্বাগতম।

ইতিহাস
০ টি মন্তব্য      ১৫৬ বার পঠিত         

লেখাটি শেয়ার করতে চাইলে: