অনলাইনে আছেন

  • জন ব্লগার

  • ১৪ জন ভিজিটর

গণমাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরার আখ্যান

লিখেছেন আফগানী বুধবার ৩০ মার্চ ২০২২

 

অপরিহার্যভাবে স্বৈরাচারী শাসনের বাধা হয়ে দাঁড়ায় সংবাদমাধ্যম। ১৯৭২ সালে প্রথমেই শেখ মুজিবের দুঃশাসনের চক্ষুশূল হয় বিদেশী সাংবাদিকরা। শেখ মুজিব তাদের কার্যক্রম একে একে বন্ধ করে দেন। এরপর মাত্র চারটি পত্রিকা ছাড়া বাকীসব পত্রিকা বন্ধ করে দেন।

 

বিন্দুমাত্র ব্যাতিক্রম নন শেখ হাসিনা। বহু পত্রিকা, টিভি চ্যনেল, অনলাইন মিডিয়া কোনো কারণ ছাড়াই বন্ধ করে দেয় হাসিনা। চ্যানেল ওয়ান, আমার দেশ, একুশে টিভি, ইসলামিক টিভি, পিস টিভি ও দিগন্ত টিভির মতো জনপ্রিয় মিডিয়াগুলো আর ইতিহাসে ঠাঁই নিয়েছে। 

 

সাংবাদিকদের মারধর, হত্যা, গুম কোনোটাই বাদ থাকে না। আসকের তথ্যানুসারে ২০০৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে খুন হয়েছেন ৫৯ জন সাংবাদিক। ২০১৩ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আহত, হত্যা, নির্যাতন মিলিয়ে মোট হয়রানির শিকার ১২২৬ জন। এর মধ্যে আওয়ামীলীগ নির্যাতন করেছে ৩৮৩ জন সাংবাদিককে। পুলিশ ১৩০ জনকে, বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্তৃক নির্যাতিত হয়েছেন ২৪০ জন। একটি ঘটনারও বিচার হয়নি। 

 

সংবাদ মাধ্যমের শুরু থেকেই পুরো পৃথিবীতে সাংবাদিকতাকে একটা নিরাপদ মাধ্যম হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। বলা হয়, রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ সংবাদপত্র হল সমাজের দর্পণ। আর সাংবাদিকরা দেশ ও জাতির বিবেক। গত এক যুগে গণমাধ্যম এখন আর প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা, অনলাইন পত্রিকা ও অনলাইন রেডিও, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক, ব্লগসহ লেখার নানা মাধ্যম বিস্তৃত হয়েছে। বেড়েছে যেমন তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যম তেমনি বেড়েছে কর্মী সংখ্যা। আর ততোধিক বেড়েছে এই পেশার সাথে যুক্তদের ঝুঁকির মাত্রা।

 

আধুনিক প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার সাথে পাল্লা দিয়ে গণমাধ্যম তার দায়িত্ব পালনে কার্পণ্য করছে না বটে! কিন্তু ঝুঁকি মোকাবেলা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে প্রতিবাদ-প্রতিরোধের ক্ষেত্রে পিছিয়ে যাচ্ছে এই মাধ্যমের কর্মীরা। তাদের জীবন বিপন্ন করে পেশার প্রতি দায়বদ্ধতা টিকিয়ে রাখাই এখন দুষ্কর হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে আমাদের দেশে, রাজনৈতিক-সামাজিক, দুর্নীতি-অনিয়ম প্রকাশ হলেই হলো। আক্রোশের শিকার হতে হচ্ছে গণমাধ্যম কর্মীদের। তাদের ওপর ঝাপিয়ে পড়ছে সরাসরি প্রতিপক্ষ বিবেচনায়। যা একটি সভ্য সমাজে কারো কাম্য হতে পারে না। এক্ষেত্রে সরকার ও সরকারি বাহিনীও অনেকটা গা ছাড়া ভাব তো দেখাই। আসকের রিপোর্টে দেখা গেছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারাই ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যে কারণে সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুধুমাত্র শারীরিক নির্যাতন করেই থেমে থাকছে না। এই গনমাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরার জন্য করা হচ্ছে নতুন নতুন আইন। যেসব আইনে আছে ব্যাপক ফাঁকফোঁকর। যেগুলোর যথাযথ ব্যাখ্যা অতিব জরুরী। কিন্তু যখন যে সরকারই আসে, সেই মিষ্টি মিষ্টি কথার বুলি শুনিয়ে আইনের অনেক ফাঁকফোঁকর রেখেই সাংবাদিকদের মতামত না নিয়েই এসব আইন পাশ করিয়ে নেয়। পরবর্তীতে এসব আইনই সংবাদকর্মীদের জন্য বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়ায়।

 

শেখ হাসিনার শাসনামলের ১ম ধাপে সাংবাদিক মৃত্যুর ঘটনা ২১-এ গিয়ে ঠেকেছে। আর ২য় মেয়াদে সেই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ এ । এ তথ্যটি পাওয়া যায় পরিবর্তন পত্রিকার ২৯ আগস্ট ২০১৮'র একটি রিপোর্ট থেকে। আসকের তথ্যানুসারে ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে খুন হয়েছেন ৫ জন সাংবাদিক। বর্তমান আওয়ামী শাসনামলে মোট ৫৯ জন সাংবাদিক খুন হন। 

 

আর যদি সাংবাদিক নির্যাতন তথা শুধু আক্রমণ বা আহতের হিসাব দেই তাহলে ২০১৩ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আসকের রিপোর্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সে সংখ্যাটা সাতশরও অধিক ৭০৫ জন। আর এসব আহত, হত্যা, নির্যাতন মিলিয়ে মোট হয়রানির শিকার ১২২৬ জন। এর মধ্যে আওয়ামীলীগ নির্যাতন করেছে ৩৮৩ জন সাংবাদিককে। পুলিশ ১৩০ জনকে, বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্তৃক নির্যাতিত হয়েছেন ২৪০ জন আর ৩০ জন আহত হয়েছেন বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনগুলোর কাছ থেকে।

 

১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ রাজধানীর মগবাজারে দৈনিক সংগ্রামের প্রধান কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছে। ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’ নামের একটি সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালায়। মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নাম হলেও হামলাকারীরা ছিলো স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী। তারা পত্রিকার কম্পিউটারসহ প্রকাশনার সমস্ত যন্ত্রাংশ অচল করে দেয়। এতে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। 

 

এরপর পত্রিকা অফিসের গেটে তালা লাগিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। পত্রিকা অফিসের কম্পিউটার, দরজা, জানালা, চেয়ার, টেবিল ও সম্পাদক আবুল আসাদের কক্ষে ভাঙচুর চালিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীরা। এরপর তারা গেটের বাইরে সংগ্রাম পত্রিকায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। অফিসে ভাঙচুরের এক পর্যায়ে সম্পাদক আবুল আসাদকে হাতিরঝিল থানা পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নিয়ে নেয়।সংগ্রামে কর্মরত সাংবাদিকরা জানান, বাইরে বিক্ষোভের এক পর্যায়ে তারা জোর করে অফিসের ভেতরে ঢুকে পড়েন। কক্ষগুলোয় ভাঙচুর চালায়। এরপর সম্পাদককে তার রুমের বাইরে এনে টিভি সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে দাঁড় করিয়ে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে বলা হয়।

 

হামলাকারীরা প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা ধরে পত্রিকাটির অফিসের বার্তাকক্ষসহ বিভিন্ন কক্ষে ব্যাপক ভাংচুর করে। তান্ডব চলাকালে সংবাদকর্মীরা কার্যালয়ের ভেতরে অসহায়ের মতো অবস্থান করেন। তারা পত্রিকাটির সম্পাদকের কক্ষ, বার্তাকক্ষ, চীফ রিপোর্টারের কক্ষ, সম্পাদনাসহকারী, সহ-সম্পাদকের কক্ষসহ প্রতিটি কক্ষে তান্ডব চালায়। ভাংচুরের পর পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক প্রবীণ সাংবাদিক আবুল আসাদকে জোরপূর্বক অফিস থেকে ধরে বাইরে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। পরে পুলিশ তাকে থানা হেফাজতে নিয়ে যায়। পুলিশ যেখানে হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনার কথা তা না করে পুলিশ প্রবীণ সাংবাদিক ও লেখক আবুল আসাদের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা করে। এই মামলা দীর্ঘদিন বন্দী থাকেন প্রবীণ সম্পাদক আবুল আসাদ।  

 

২০১৩ সালে, দৈনিক আমার দেশ, দিগন্ত টিভি, চ্যানেল ওয়ান, সিএসবি, ইসলামিক টিভির পর একসঙ্গে ৩৫টি অনলাইন পোর্টাল বন্ধ করে দেয়। যার ফলে হাজার হাজার সাংবাদিক বেকার হয়ে পড়েন। এছাড়াও ইটিভির সাবেক চেয়ারম্যান আবদুস সালাম বহুদিন জেল খেটেছেন। ৪ জানুয়ারি ২০১৫ তারিখের রাতে যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত একটি সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫০ মিনিটের একটি বক্তব্য ইটিভিতে সরাসরি সম্প্রচারের এক দিন পর ৬ জানুয়ারি ভোরে আবদুস সালামকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তাঁকে পর্নোগ্রাফি আইনে দায়ের করা ক্যান্টনমেন্ট থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। 

 

তারপর ২৫ নভেম্বর ২০১৫ এ অর্থ ঋণ আদালতের ১২ ধারা মোতাবেক প্রতিষ্ঠানটির দখল নেয় আওয়ামী বিজনেজ মেগনেট এস আলম ও তার গ্রুপ। এরপর নতুন মালিকানায় চ্যানেলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিযুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী এবং আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান (গোলাপ)। তখন থেকেই এই চ্যানেলের সৎ ও যোগ্য সাংবাদিকরা বিতাড়িত। একুশের চোখ অনুষ্ঠানের এক সাংবাদিক ইলিয়াস সড়ক আন্দোলনের সময় এক ভিডিও বার্তায় তুলে ধরেন ইনুরা কিভাবে অযাচিত হস্তক্ষেপ করছে গণমাধ্যমের উপর। তাও নির্লজ্জভাবে বলা হচ্ছে গণমাধ্যম স্বাধীন।

 

এ মহাজোটের আমলে সবচেয়ে বেশি আলোচিত খবর ছিলো সাগর-রুনি হত্যাকান্ড। বিবিসি বাংলার ১০ ফেব্রুয়ারী ২০১৭ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়, আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের মামলার তদন্তকারী সংস্থা র‍্যাব দাবি করছে, তাদের তদন্তে কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, আদালতের কাছে ৮৫ বার সময় নেয়ার পরও র‍্যাব তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। সাগর সরওয়ার এবং মেহেরুন রুনি এই সাংবাদিক দম্পতিকে ঢাকায় পশ্চিম রাজাবাজার এলাকায় তাদের বাসায় নির্মমভাবে হত্যা করা হয় ২০১২ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি। ঘটনার সময় ঐ বাসায় থাকা তাদের একমাত্র শিশু সন্তান মাহি সরওয়ার মেঘ বেঁচে যায়। হত্যাকাণ্ডের পর পাঁচ বছরে তদন্তে অগ্রগতি নেই। এমন পরিস্থিতিতে সান্ত্বনা পাওয়ার পথও খুঁজে পাচ্ছে না সাংবাদিক দম্পতির বিপর্যস্ত পরিবার দু’টো।

 

এছাড়া ঢাকার মগবাজারে ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে আওয়ামী সরকারের প্রথম শিকার হন এনটিভির ভিডিও এডিটর আতিকুল ইসলাম আতিক। ২১ শে ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে রাজধানীর রামপুরা থেকে প্রবীণ আলোকচিত্র সাংবাদিক আফতাব আহমেদের হাত- পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই বাসায় তিনি একাই থাকতেন। ২০০৬ সালে একুশে পদক পাওয়া আফতাব দীর্ঘদিন ইত্তেফাকের জ্যেষ্ঠ আলোকচিত্রী হিসাবে কাজ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। আফতাব আহমেদের জন্ম ১৯৩৫ সালে, তার গ্রামের বাড়ি রংপুরের গঙ্গাচড়ায়। আলোকচিত্র সাংবাদিক হিসাবে তিনি ইত্তেফাকে যোগ দেন ১৯৬২ সালে। পশ্চিম রামপুরার ৬৩ নম্বর হোল্ডিংয়ে চারতলা ওই বাড়ির তৃতীয় তলায় থাকতেন আফতাব। 

 

২০১৮ সালে হত্যার শিকার হন সাংবাদিক সুবর্ণা নদী। ২৮ আগস্ট ২০১৮ তারিখে রাত ১০টার দিকে তিনি বাড়ির ফটকে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে করে তিন থেকে চারজনের একদল দুর্বৃত্ত সেখানে তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। সাংবাদিক সুবর্ণা নদী বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আনন্দ টিভির পাবনা জেলা প্রতিনিধি পদে কর্মরত ছিলেন। শহরের রাধানগর মহল্লায় ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রতিবেশী ও স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

 

এছাড়া নির্যাতন তো আছেই। প্রথম আলোর ০২ জানুয়ারি ২০১৪ তারিখের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, লালমনিরহাটের এক সাংবাদিক সায়েম সাবু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ২৩টি মামলা করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন ক্ষুব্ধ হওয়ার কারণেই পরিবারটির বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা হয়।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক-এ ২০১০ সালের ৩ জুন ‘গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর নৈরাজ্য!’ শিরোনামে একটি প্রচ্ছদ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে প্রতিমন্ত্রী, তাঁর ছেলে ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছিল। প্রতিবেদন প্রকাশের পর ওই মাসেই সায়েম, তাঁর তিন ভাই, বোন ও বোন জামাইসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা হয়।

 

এরপর গত আড়াই বছরে সায়েমের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, টাকা ছিনতাই, ধানের চারা উপড়ে ফেলা, সার ও বীজ ছিনতাই, গাড়িতে আগুন, হামলা-ভাঙচুর, জমি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২৩টি মামলা করা হয়। মামলায় লড়তে লড়তে পরিবারটি পর্যুদস্ত।

 

২৪ শে নভেম্বর ২০১৬ তারিখে ‘আমার দেশ’ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান জামিনে মুক্তি পান৷ রাষ্ট্রদ্রোহিতা এবং ধর্মীয় অস্থিরতা সৃষ্টিতে উস্কানির নামে বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগে তিন বছরেরও বেশি সময় তিনি কারাবন্দি ছিলেন৷ ৬৩ বছর বয়সি মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে গাড়ি ভাংচুর থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর পুত্রকে হত্যার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগ করা হয় ৷ ২০১৩ সালের এপ্রিলে বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের ব্যাপক ধরপাকড় শুরুর সময় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়৷ রহমানের আইনজীবী জয়নাল আবেদিন মেসবাহ বলেন, ‘‘তাঁর বিরুদ্ধে করা ৭৮টি মামলার শেষেরটিতে জামিন পাওয়ায় আজ তাঁকে মুক্তি দেয়া হয়েছে৷”

 

২২ জুলাই ২০১৮ তে তার ওপর হামলাও করে ছাত্রলীগ। প্রধানমন্ত্রীর ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিক সম্পর্কে মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলায় জামিন পেতে কুষ্টিয়া আদালতে গিয়েছিলেন তিনি। জামিন মঞ্জুর করার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা আগে থেকে আদালত চত্বরে অবস্থান নেন। জামিন মঞ্জুরের পর তাঁরা মাহমুদুর রহমানকে আদালতের একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে ফেলেন। একপর্যায়ে সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি নিজের গাড়িতে ওঠার চেষ্টা করেন। এ সময় ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা তাঁকে লক্ষ করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। এতে একটি ইটের টুকরা লেগে রক্তাক্ত হন মাহমুদুর রহমান। এছাড়া যায়াযায়দিনের সাবেক সম্পাদক ৮১ বছর বয়সি ব্রিটিশ নাগরিক, খালেদা জিয়ার ‘স্পিচরাইটার’ শফিক রেহমানও পাঁচমাস কারাভোগ করেন এই সরকারের আমলে।

 

এবার আসি সরকারপন্থী সাংবাদিক ও ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের উপর নির্যাতনের চিত্র নিয়ে। ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টক শোতে এক-এগারোর সময় সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের বিচ্যুতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মাহফুজ আনাম তাঁর পত্রিকায়ও এমন ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়েছিল বলে স্বীকার করেন। পরদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে এবং তাঁর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি-বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় নিজের ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে ডেইলি স্টার সম্পাদকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ তুলে বিচার চান। এক দিন পর ৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে কয়েকজন সাংসদ ডেইলি স্টার বন্ধ করা এবং মাহফুজ আনামের পদত্যাগ ও বিচার দাবি করেন। এর পরদিন থেকেই মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দেওয়া শুরু হয়। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ডেইলি স্টার সম্পাদকের বিরুদ্ধে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় ৭৭টি মামলা হয়। মামলাগুলোর বাদী ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ, এর অঙ্গ-সহযোগী ও সমমনা সংগঠনের নেতা এবং সরকারি কৌঁসুলিরা। এসব মামলায় কেবল মানহানি, কেবল রাষ্ট্রদ্রোহ আবার কোথাও কোথাও মানহানির পাশাপাশি রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগও আনা হয়েছে।

 

এতক্ষণ তো গেলো ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগের নির্যাতনের গল্প। বাংলা ট্রিবিউনের ১৩ই মার্চ এক নিউজে ফুটে উঠে পুলিশের সাংবাদিক নির্যাতনের চিত্র। নিউজে বলা হয়, দুপুরে দক্ষিণ চকবাজারের পুরাতন বিউটি হলের সামনে ডিবি পুলিশ একটি বাসায় মাদকের অভিযান চালালে বেসরকারি টেলিভশন চ্যানেল ডিবিসি নিউজের ক্যামেরাপারসন সুমন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। অভিযানের বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ৮ পুলিশ সদস্য মিলে সুমনের ওপর চড়াও হয়। এসময় তারা সুমনকে বেধড়ক মারধর করে অজ্ঞান করে ফেলে। পরবর্তীতে ডিবি কার্যালয়ে গিয়ে জ্ঞান ফিরলে পুনরায় তাকে মধ্যযুগীয় কায়দায় মারধর করা হয়। এ ঘটনাটি সেসময় মিডিয়াকে বেশ নাড়া দেয়।

 

সর্বশেষ কোটা ও সড়ক আন্দোলনে সাংবাদিকরা তাদের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশ ও ছাত্রলীগের দুমুখী নির্যাতনের শিকার হন সাংবাদিকরা। এতে অন্তত ২০ জন সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হন। এ সময় সরকারের সবচেয়ে বড় শিকার “দৃক গ্যালারীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইন্সটিটিউট” এর চেয়ারম্যান আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল বাতেন বলেন, ডিবির একটি টীম শহীদুল আলমকে চলমান ছাত্র বিক্ষোভের বিষয়ে তার কিছু ফেসবুক পোস্ট নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে । তারপর মামলা হয় তথ্য-প্রযুক্তি আইনে। সাত দিনের রিমান্ডও মঞ্জুর হয়। । প্রায় সাড়ে তিন মাস কারাভোগের পর গত ২০ নভেম্বর ২০১৮ এ কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। এ গেল হত্যা নির্যাতনের কথা। এবার দেখি, আইনের জটিলতা।

 

ধারা ৫৭ : সরাসরি নির্যাতনে জড়িত থেকেও সরকার ক্ষান্ত হয় নি। আশ্রয় নিয়েছে আইনের। মামলার দোহাই দিয়ে মুখ চেপে ধরা হচ্ছে। এমন একটি আইন হচ্ছে তথ্য প্রযুক্তি আইন। আইসিটি আইনটি প্রথমে প্রণয়ন করা হয় ২০০৬ সালে। পরে ২০১৩ সালে সংশোধন করে শাস্তি বাড়িয়ে সেটিকে আরও কঠোর করা হয়। সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং এ-সংক্রান্ত অপরাধের শাস্তির বিষয়ে নতুন আইন প্রণয়নের কাজ শুরু হয় ২০১৫ সালে। প্রথমে ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০১৫’ নাম দেওয়া হলেও পরে সেটি ‘ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন, ২০১৮ ’ নাম দেওয়া হয়। এটি মন্ত্রিসভায় উত্থাপন হলে তা নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয় ২৯ জানুয়ারী ২০১৮ তে। কি ছিলো ৫৭ ধারায়??

 

তথ্য ও প্রযুক্তি আইন ২০০৬ ( সংশোধিত ২০১৩) এর ধারা- ৫৭,

১/ কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েব সাইটে বা অন্য কোন ইলেক্ট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যাহা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেহ পড়িলে, দেখিলে বা শুনিলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হইতে উদ্বুদ্ধ হইতে পারেন অথবা যাহার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করিতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোন ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উস্কানি প্রদান করা হয়, তাহা ইহলে তাহার এই কার্য হইবে একটি অপরাধ৷

২/ কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন অপরাধ করিলে তিনি অনধিক চৌদ্দ বৎসর এবং অন্যূন সাত বৎসর কারাদণ্ডে এবং অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন৷

 

এটি এমন একটি ধারা যার মধ্যে অনেকগুলো শব্দ আছে যার পূর্ণ ব্যাখ্যার প্রয়োজন আছে। নয়তো ধারাটি অপব্যবহারের সুযোগ থাকে। যার শাস্তি ১৪ বছর পর্যন্তও হতে পারে। এবং এর অপব্যবহার হচ্ছেও তা সাইবার সিকিউরিটি ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরের দেওয়া তথ্য দেখলেই বুঝা যায়। সাইবার সিকিউরিটি ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরের দেওয়া তথ্য মতে, ২০১৭ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত সারাদেশে তথ্য-প্রযুক্তি আইনে ৭৪০টি মামলা দায়ের হয়েছে, যার মধ্যে ৬০ শতাংশ মামলা করা হয় ৫৭ ধারায়৷ এমন কি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল ও আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের নামেও আইসিটি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা হয়।

 

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ :

এ আইনের অপকারিতা বুঝতে পেরে পুরো ২০১৭ সালের বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিকরা এ আইন বাতিলের জন্য সরব ছিলো। আন্দোলনের ফল হিসেবে ৫৭ ধারাসহ বিতর্কিত ৫৪, ৫৫, ৫৬ ও ৬৬ ধারা পুরোপুরি বিলুপ্ত করা হয় ২৯ জানুয়ারী ২০১৮ তে।

 

মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম প্রেস ব্রিফিং এ জানিয়েছেন যে তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৪, ৫৫, ৫৬, ৫৭ ও ৬৬ ধারা বাতিল করে তার পরিবর্তে এসব ধারার অপরাধের প্রকৃতি অনুযায়ী শাস্তির বিধান রাখা হবে।

 

এ থেকেই বোঝা যায় পূর্বের আইন বাদ যাচ্ছে না ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮’ এ। বরং পুনর্বিন্যাসিত হচ্ছে। নতুন আইনের ১৭ থেকে ৩৮ ধারায় বিভিন্ন অপরাধ ও শাস্তির বিষয় উল্লেখ রয়েছে। যার মধ্যে পূর্বের আইনেরই প্রতিস্থাপন হয়েছে। নতুন আইনের ১৯ ধারার সাথে মূলত পূর্বের আইনের ৫৭ ধারার মিল আছে। কিন্তু শাস্তির পরিমান কিছুটা কম। এইটুকুই পরিবর্তন । এ আইনটির ৩২ ধারা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এ ধারায় ডিজিটাল অপরাধের বদলে গুপ্তচরবৃত্তির সাজার বিধান রাখা হয়েছে। এতে বলা হয়, কোনো সরকারি, আধাসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে ঢুকে কেউ কোনো কিছু রেকর্ড করলে, তা গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধ হবে। এর জন্য ১৪ বছরের জেল এবং ২০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

 

অনুমোদনের পর আইনটির ব্যাপারে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বিবিসি বাংলাকে বলেন, আইসিটি অ্যাক্টের অপরিচ্ছন্ন যে ৫৭ ধারা ছিল, সেটিকে বিলুপ্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে ৫৭ ধারার যে অপরাধ, সেগুলো বিস্তারিতভাবে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে। আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা বাতিল হলেও নতুন আইনে আগের মতো হয়রানির আশঙ্কা থাকবে কি-না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অযথা হয়রানি যাতে না হয় সে জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে। অপপ্রয়োগের সুযোগ ৯৭ ভাগ বন্ধ হবে।

 

এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল সমকালকে বলেন, এর আগে ৫৭ ধারার অপপ্রয়োগ নিয়ে সাংবাদিকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তখনও বলা হয়েছিল, এ আইন পেশাগত কাজে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হবে না। কিন্তু পরবর্তী সময়ে দেখা গেছে, অতি তুচ্ছ কারণে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে একের পর এক ৫৭ ধারার অপপ্রয়োগ করা হয়েছে। এখন দেখা যাচ্ছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনেও ৫৭ ধারার আদলে কিছু বিধান রাখা হয়েছে, যা মত প্রকাশের এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে বড় বাধা হতে পারে। এ আইনটি শুধু মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে। সরকারের কাছে অনুরোধ থাকবে, আইনটি চূড়ান্তভাবে পাসের আগে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দসহ মানবাধিকার কর্মীদের বক্তব্য নেওয়া এবং আইনের অপপ্রয়োগ রোধে পূর্ব নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থাসহ আইনটি পাস করা।

 

এসব থেকেই বুঝা যাচ্ছে ৫৭ ধারার অশুভ ছায়া থেকে জাতি এখনো মুক্ত হতে পারে নি। গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি হিসেবে দাবীদার মহাজোট সরকারও খুব একটা সুবিধাকর নয় তা উপরোক্ত আলোচনা থেকেই স্পষ্ট। বরং তাদের সময়েই গণমাধ্যম তার স্বকীয়তা হারিয়েছে সবচেয়ে বেশি। সব ধরনের মহাজোট বিরোধী খবরকেই তারা রাষ্ট্র বিরোধী খবর বলে চাপিয়ে দিচ্ছে। এই অজুহাতে বন্ধ হচ্ছে গণমাধ্যম। এমন কি হত্যাও করা হচ্ছে সাগর-রুনির মতো সংবাদকর্মীদের। আর মামলা- আপহরণ তো আছেই।

 

বিশ্ব দরবারও যে বাংলাদেশের গণমাধ্যম নিয়ে চিন্তিত তা ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স -২০১৮ সূচক দেখলেই বোঝা যায়। এ সূচকে পৃথিবীর ১৮০ টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের ১৪৬ তম। অথচ ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার যখন ক্ষমতা গ্রহণ করে তখন এই একই প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন অনুযায়ীই বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১২১তম। ৯ বছরে ২৫ ধাপ অবনতি ঘটে এ বছর ১৪৬তম হয়েছে । সবচেয়ে বড় বিপর্যয়টি ঘটে ২০১৩ সালে। এ বছর ১৫ ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান হয় ১৪৪ তম। যেখানে ২০১২ সালে ছিলো ১২৯ তম। কারন এ বছরেই বন্ধ করে দেয়া হয় দৈনিক আমার দেশ, দিগন্ত টিভি, ইসলামিক টিভির পর একসঙ্গে ৩৫টি অনলাইন পোর্টাল। 

 

গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের কিছু খন্ডচিত্র 

 

সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধে বিএফইউজে-ডিইউজের বিবৃতি

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শওকত মাহমুদ, মহাসচিব এমএ আজিজ ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুল হাই শিকদার ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান গতকাল মঙ্গলবার এক যুক্ত বিবৃতিতে প্রথম আলোর পটুয়াখালীর বাউফল প্রতিনিধি মিজানুর রহমানের উপর পুলিশ নির্যাতন এবং ছাত্রলীগ কর্তৃক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এটিএনের দুই সাংবাদিককে নির্যাতন করে থানায় দেয়ায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। অবিলম্বে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং এ জন্য দায়ী পুলিশের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।

২৫ মার্চ ২০১৫/ সংগ্রাম 

 

বিচারহীনতায় কমেনি সাংবাদিক নির্যাতন 

পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন সাংবাদিকরা। পুলিশ, রাজনৈতিক নেতা, সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী যখন যার অপকর্ম, দুর্নীতির খবর প্রকাশ পায় তখন তারাই সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়। এসব হামলায় কখনও কখনও সাংবাদিকদের প্রাণ দিতে হয়।  সাংবাদিকদের ওপর অযাচিত আক্রমণ, সহিংস ঘটনার বিচারিক তদন্তেদীর্ঘসূত্রতা, বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে নির্যাতনের ঘটনা কমছে না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

৩ মে ২০১৬/ বাংলা ট্রিবিউন 

 

বাংলাদেশে ৩৫ নিউজ ওয়েব সাইট বন্ধের নির্দেশ

বাংলাদেশে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন,জঙ্গি বিরোধী অভিযান নিয়ে বিভ্রান্তিকর এবং উস্কানিমূলক খবর বা বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশের পরামর্শে নিউজ পোর্টালসহ ৩৫টি ওয়েবসাইট বন্ধ করা হয়েছে। কিন্তু এ ব্যাপারে আগে কোন নোটিশ দেয়া হয়নি বলে কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল অভিযোগ করেছে।

 

বিশ্লেষকদের অনেকে বলেছেন, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে সরকারের এমন পদক্ষেপ অনেক প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি গত রাত থেকে এগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। বন্ধ করে দেয়া ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই অনলাইন নিউজ পোর্টাল।এরমধ্যে শীর্ষ নিউজ,আরটিনিউজ২৪ এবং আমার দেশ পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ রয়েছে।

৫ আগস্ট ২০১৬/ বিবিসি বাংলা 

 

সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধে তিন জেলায় মানববন্ধন

সারা দেশে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর নির্যাতন বন্ধ ও বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর সাভার প্রতিনিধি নাজমুল হুদার মুক্তির দাবিতে গতকাল রোববার মাগুরা, বরিশাল ও যশোরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

২৩ জানুয়ারি ২০১৭/ প্রথম আলো 

 

শাবিতে সাংবাদিক নির্যাতন : তিন বিশ্ববিদ্যালয়ে কালোব্যাজ

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় দুই সাংবাদিক নেতাকে পিটিয়ে আহত করে ছাত্রলীগ নামধারী কতিপয় বখাটে সন্ত্রাসী। শাবি ছাত্রলীগের সভপাতি সঞ্জীবন চক্রবত্রী পার্থর নির্দেশে ওই হামলা হয়েছে। ন্যাক্কারজনক ওই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একযোগে নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দেয়া হয়েছে। এছাড়া মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার তিন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে কালোব্যাজ ধারন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

১১ এপ্রিল ২০১৭/ ক্যাম্পাস লাইভ 

 

সাংবাদিক নির্যাতন: ৯ পুলিশ সদস্যকে অভিযুক্ত করে তদন্তপ্রতিবেদন

রামপাল প্রকল্প বাতিলের দাবিতে তেল গ্যাস বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় সমন্বয় কমিটির ডাকা হরতালে রাজধানীর শাহবাগ থানায় পুলিশের হাতে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় ৯ পুলিশ সদস্যকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পুলিশের তদন্তকমিটি। ঘটনার জন্য শাহবাগ থানার ৩ কর্মকর্তাসহ ৫ পুলিশ সদস্য এবং ডিএমপির পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

৩১ জানুয়ারি ২০১৭/ চ্যানেল আই 

 

সাংবাদিক নির্যাতন : ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের শাস্তি দাবি

পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ কর্তৃক দুই সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিকবৃন্দ। তা না হলে আগামী মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ঐক্যবদ্ধভভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে। রোববার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সামনে সাংবাদিক কামরুল হাসান ও কিরণ শেখের ওপর পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এ ঘোষণা দেয়া হয়। সাধারণ সাংবাদিকদের ব্যানারে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮/ জাগো নিউজ 

 

সাংবাদিক নির্যাতন: ডিএমপি কার্যালয়ের সামনে গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতিবাদ

গতকাল রাজধানীর পল্টনে দায়িত্বপালনের সময় পুলিশের হাতে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, বিএনপির একটি বিক্ষোভ মিছিল কভার করার সময় পুলিশের মতিঝিল জোনের উপ-কমিশনার আনোয়ার হোসেন বেসরকারী বাঙলা টেলিভিশনের দুই সাংবাদিকের ওপর নির্যাতন চালায়। দায়ি পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ডিএমপি কমিশনারের কাছে স্মারক লিপি দিয়েছে সাংবাদিক নেতারা।

 

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা যেভাবে সংকুচিত হচ্ছে

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্নে ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১৪৬ নম্বরে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা বাংলাদেশের বিশ্লেষকরা মনে করেন, দেশে গণমাধ্যম কখনোই স্বাধীন ছিল না এখন স্বাধীনতা আরো সংকুচিত হচ্ছে

২৬ এপ্রিল ২০১৮/ ডয়েচে ভেলে 

 

বাংলাদেশে সাংবাদিকরা যেসব ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন

নানা নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশের সাংবাদিকরা প্রশাসন ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দ্বারা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন আরও আছে মামলার ভয় সবসময় পাশে থাকে না প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনগুলো

৩ মে ২০১৮/ ডয়েচে ভেলে 

 

বাংলাদেশে সাংবাদিক নির্যাতন: সরকারকে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত সাংবাদিকদের ওপর গত কয়েকদিন একের পর এক হামলা চালানো হয়। এমনকি পুলিশের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাংবাদিকদের চিহ্নিত করে হামলা চালায় কিছু দুর্বৃত্ত। মানববন্ধনে সাংবাদিকরা জানান, ছাত্রআন্দোলন চলাকালে গত ২ আগস্ট উত্তরা জসিম উদ্দিন রোড এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন 'সারাবাংলা ডটনেট'র সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট উজ্জল জিসান। একই দিন মিরপুর এলাকায় মোহনা টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যান ও রিপোর্টার লাঞ্ছিত হন। গত ৪ ও ৫ আগস্ট রাজধানীর ধানমন্ডি, জিগাতলা, সাইন্সল্যাব, বাড্ডা, রামপুরাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহের সময় পুলিশের উপস্থিতিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়েছে। এ সময় প্রথম আলোর সাংবাদিক আহমেদ দীপ্ত, এপির সাংবাদিক এএইচ আহাদসহ বেশ কিছু সাংবাদিকের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা।

৭ আগস্ট ২০১৮/ পার্স টুডে

 

সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতন কি চলতেই থাকবে?

২০১৪ সালে মোট ২১৩ জন সাংবাদিক ও আটজন ব্লগার বিভিন্নভাবে আক্রমণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে চারজন হত্যাকা ন্ডের শিকার হয়েছেন, গুরুতর জখম হয়েছেন ৪০ জন। আর শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৬২ জন সাংবাদিক। পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ সাল থেকে এ পর্যন্তপেশাগত কারণে ২৬ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।

৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮/ কালের কন্ঠ 

 

গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন

সাংবাদিক, সম্পাদক ও নাগরিক সমাজের প্রতিবাদ উপেক্ষা করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে প্রস্তাবিত সংশোধনী ছাড়াই সংসদীয় কমিটিতে চূড়ান্তকরার প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশের নেতারা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পুরোপুরি হরণের অসৎ উদ্দেশ্যেই এটি করা হয়েছে।

১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮/ যুগান্তর 

 

৫৮টি নিউজ পোর্টাল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে বিটিআরসি

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) দেশের ৫৮টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে। রবিবার (৯ ডিসেম্বর)   বিকালে বিটিআরসি দেশের আইআইজিগুলোকে (ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে) এই নির্দেশ দেয়। দেশে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবি’র সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে বাংলা ট্রিবিউনের একটি খবরে বলা হয়েছে। ইমদাদুল হক বলেন, "বিটিআরসি’র নির্দেশ পাওয়ার সাথে সাথেই নিউজ পোর্টালগুলো বন্ধে দ্রুতত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।"

১০ ডিসেম্বর ২০১৮/ ঢাকা ট্রিবিউন 

 

মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে আটকে রেখে সাংবাদিক নির্যাতন

বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল যমুনা টেলিভিশনের ইনভেস্টিগেশন সেল ৩৬০ ডিগ্রির অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও ক্যামেরা পারসনের উপরে সংবাদ সংগ্রহের সময় আটকে রেখে মারধর করা হয়েছে। বগুড়ায় একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে এই হামলার শিকার হন অনুসন্ধানী প্রতিবেদক এস এম জিয়া ও ক্যামেরা পারসনের তানভীর মিজান।

১৭ জানুয়ারি ২০১৯/ বিডি মর্নিং 

 

সিলেটে থামছেই না সাংবাদিক নির্যাতন

সিলেটে ক্ষমতাসীনদের হাতে একের পর এক সাংবাদিক নির্যাতন চলছেই। এক হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই ঘটছে অপর হামলা। হামলার পর পর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আপোষ না হয় রফাদফা করার জন্য চেষ্টায় নামেন নেতারা। প্রতিটি হামলার পর নিন্দা জানানো আর এ ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না হয় সে মর্মে প্রতিশ্রুতি দেন নেতারা। তবুও থামে না সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা।

১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/ সিলেট ভয়েস

 

সাংবাদিক নির্যাতন: জামালপুরের ছাত্রলীগ নেতা রাকিব বহিষ্কার

ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে জমির দলিল নিবন্ধনের তথ্য সংগ্রহ করতে গত ২৮ মে দুপুরে জামালপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে গেলে হামলার শিকার হন দৈনিক কালের কণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি মোস্তফা মনজু। এ ঘটনায় পৌর কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য হাসানুজ্জামান খান রুনুসহ নয়জনকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়। গত ১২ জুন আট আসামির জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

১৯ জুন ২০১৯/ ঢাকা ট্রিবিউন 

 

১০ নিউজ পোর্টাল বন্ধের ঘোষণা 

সামাজিক মাধ্যমে পদ্মা সেতু নিয়ে উদ্ভট যে গুজব ছড়ানো হয়েছে, সেটা পরিকল্পিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। এর সঙ্গে বেশ কিছু অনলাইন নিউজ পোর্টালেরও সংশ্লিষ্টতা আছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ প্রধান জাবেদ পাটোয়ারি।

 

সারা দেশে গুজব ছঙানোর কাজে ব্যবহৃত ৬০টি ফেসবুক লিংক ও ২৫টি ইউটিউব লিংক এবং ১০টি নিউজ পোর্টাল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এসব ফেসবুক ও ইউটিউব লিংকের মাধ্যমে সুপরিকল্পিতভাবে গুজব ছঙানো হচ্ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।

২৪ জুলাই ২০১৯/ বাংলাদেশ টুডে 

 

বাংলাদেশের সাংবাদিকরা নির্যাতনের শিকার হয়েও বিচার পান না কেন

"আমাদেরকে একটা কথা বলারও সুযোগ দেয়নি। এলোপাথাডড় পেটাতে থাকলো, আমার হাত ভাঙলো, মাথা ফেটে গেল । রক্তারক্তি অবস্থা" - এ হচ্ছে পেশাগত দাযড়ত্ব পালন করতে যাওয়া একজন সাংবাদিকের অভিজ্ঞতা। শুনতে যেমনই শোনাক, বাংলাদেশে সাংবাদিকদের এরকম নির্যাতনের শিকার হওয়া কোন বিরল ঘটনা নয়, বরং এ প্রবণতা বাঙছে । তার পরেও নানা কারণে আইনের আশ্রয়ও নিতে চান না অনেক সাংবাদিক।

২ নভেম্বর ২০১৯/ বিবিসি বাংলা

 

মুরাদনগরে ছাত্রলীগ সভাপতিসহ ৪ জন কারাগারে-সাংবাদিকের ওপর হামলা

কুমিল্লার মুরাদনগরে দিন-দুপুরে বাড়িতে ঢুকে সাংবাদিক শরিফুল আলম চৌধুরীর ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় পালিয়ে থাকা দারোরা ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি নুরুজ্জামানসহ চার আসামি আদালতে হাজিরা দিতে গেলে তাদেরকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। 

১২ নভেম্বর ২০২০/ নয়াদিগন্ত

 

রুহুল আমিন গাজীকে গ্রেফতার সাংবাদিক কণ্ঠ রোধের অপপ্রায়াস

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজীকে গ্রেফতার করেছে হাতিরঝিল থানা পুলিশ।

১২ নভেম্বর ২০২০/ যুগান্তর

 

ধর্ষণবিরোধী লংমার্চে হামলা -সাংবাদিকসহ আহত ২০

ধর্ষণবিরোধী লংমার্চে ফেনীতে ধর্ষণবিরোধী লংমার্চে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের ১৭ নেতাকর্মীসহ ২০ জন আহত হয়েছেন। ফেনী শহরের শান্তি কোম্পানি মোড় এলাকায় এই হামলা হয়। স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালিয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।হামলা -সাংবাদিকসহ আহত ২০।

১৭ অক্টোবর ২০২০/ যুগান্তর

 

মধ্যরাতে সাংবাদিকের ওপর বর্বরতা

কুড়িগ্রামে মধ্যরাতে বাড়িতে ঢুকে বাংলা ট্রিবিউনের জেলা প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগানকে ধরে নিয়ে গিয়ে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত এক বছরের কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। টাস্কফোর্সের মাদকবিরোধী অভিযানে গত শুক্রবার মধ্যরাতে শহরের চড়ুয়াপাড়ার বাড়ি থেকে তাঁকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা বলেছেন, জোর করে তুলে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত সাজা দিতে পারেন না। মাদকবিরোধী টাস্কফোর্সের অভিযানের কথা বলা হলেও ওই অভিযানে একমাত্র সাংবাদিক রিগানকে ছাড়া আর কাউকে আটক করা বা সাজা দেওয়া হয়নি। স্থানীয় সাংবাদিকরা প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন করেছেন।

১৫ মার্চ ২০২০/ কালের কন্ঠ

 

সিরাজগঞ্জে সাংবাদিককে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার ‘চড়-থাপ্পর’

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে ঝাঐল ও ভদ্রঘাট ইউনিয়নের কৃষকদের ধান ক্রয়ের জন্য লটারির সংবাদ সংগ্রহের জন্য সেখানে যাই। এ সময় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আল-আমিন বাবু ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন আমার কলার ধরে চেয়ারম্যানের রুম থেকে টেনে-হিঁচড়ে নিচে নামিয়ে এনে মারধর করে। পরে আমি চিৎকার করলে উপজেলা চেয়ারম্যান শহীদুল্লাহ সবুজ গিয়ে আমাকে উদ্ধার করে।”

০১ জানুয়ারী ২০২০/ বিডিনিউজ২৪.কম

 

সাংবাদিক নির্যাতনকারী আরডিসির আলোচিত সেই ভিডিও ভাইরাল

গত শুক্রবার নিজ বাড়ি থেকে সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে গভীর রাতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাকে এক বছরের জেল ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযোগ আনা হয়, আরিফুলের বাড়ি থেকে আধা বোতল মদ ও ১৫০ গ্রাম গাঁজা পাওয়া গেছে। যদিও আরিফুলের স্ত্রী ও স্থানীয়দের দাবি, মদ-গাঁজা তো দূরের থাক পানসেবী বা ধূমপায়ীও নয়  আরিফুল। প্রসঙ্গত কুড়িগ্রামের ডিসি সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে নিজ নামে পুকুর খননের অভিযোগ ওঠায় সে বিষয়ে একটি প্রতিবেদন লেখেন আরিফুল। সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের নিয়োগ অনিয়ম নিয়েও প্রতিবেদন করছিলেন তিনি। এজন্যই তাকে এই শাস্তি দেওয়া হয়। 

১৬ মার্চ ২০২০/ যুগান্তর 

 

সুনামগঞ্জে গাছের সঙ্গে বেঁধে সাংবাদিক নির্যাতন

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের যাদুকাটা নদীর তীর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ছবি তুলতে যাওয়ায় গাছের সঙ্গে বেঁধে এক সাংবাদিককে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসময় তার কাছ থেকে ক্যামেরা, মোবাইল ফোন এবং মোটরসাইকেল নিয়ে যান নির্যাতনকারীরা। নির্যাতনের শিকার ওই সাংবাদিকের নাম কামাল হোসেন। সোমবার সকালে তিনি এ হামলার শিকার হন। তিনি তাহিরপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক স¤পাদক ও দৈনিক সংবাদ এরং দৈনিক শুভ প্রতিদিনের উপজেলা প্রতিনিধি। তিনি প্রথমে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সুনামগঞ্জে স্থানান্তর করা হয়।

০১ ফেব্র“য়ারি ২০২১/ ঢাকা টাইমস 

 

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে খুলনার মেয়রের মামলায় সাংবাদিক গ্রেপ্তার

খুলনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় আবু তৈয়ব নামের এক সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি টিভি চ্যানেল এনটিভির খুলনা ব্যুরোর প্রধান হিসেবে কর্মরত। গতকাল মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে খুলনা নগরের নূরনগর এলাকায় অবস্থিত তাঁর বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে সদর থানার পুলিশ।

২১ এপ্রিল ২০২১/ প্রথম আলো 

 

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় সাংবাদিক গ্রেপ্তার

ঝালকাঠির নলছিটিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় স্থানীয় সাংবাদিক মো. খলিলুর রহমান মৃধাকে (৪৮) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার রাত দেড়টার দিকে উপজেলা শহরের সবুজবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে রাত সোয়া ১২টায় নলছিটি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. শহিদুল ইসলাম টিটু বাদি হয়ে সাংবাদিক খলিলুর রহমান মৃধার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন।

১১ মে ২০২১/ বাংলাদেশ জার্নাল

 

সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের গ্রেপ্তারের ঘটনা উদ্বেগজনক: জাতিসংঘ

জাতিসংঘের স্থায়ী সংবাদদাতা মুশফিকুল ফজল আনসারীর প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র বলেন, ‘বাংলাদেশে যে সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাকে নিয়ে প্রকাশিত গণমাধ্যমের খবর আমাদের নজরে এসেছে। অবশ্যই আমরা নজর রাখছি। এটা ¯পষ্টতই উদ্বেগজনক বিষয়।

১৯ মে ২০২১/ মানবজমিন 

 

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় সাংবাদিক তানভীর হাসান তানু গ্রেপ্তার 

জনরোষ সৃষ্টিকারী ও মানহানিকর দাবি করে শুক্রবার ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ নাদিরুল আজিজ বাদী হয়ে ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫(১)(ক) ২৫(১)(খ) ২৯(১)/৩১(১)/৩৫(১) ধারায় মামলাটি করেন। এর আগে, গত ৫ জুলাই অনলাইন সংবাদমাধ্যম জাগো নিউজে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে করোনা ওয়ার্ডে রোগীদের খাবার নিয়ে দিনে বরাদ্দ ৩০০ হলেও করোনা রোগীদের খাবার দেয়া হচ্ছে ৭০ টাকার!’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই থানার অফিসার ইনচার্জ তানভিরুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, এই মামলায় তানভীর হাসান তানু ছাড়া আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন- বাংলাদেশ প্রতিদিনের আব্দুল লতিফ ও নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের জেলা প্রতিনিধি রহিম শুভ। 

তানভীর হাসান তানু জাগো নিউজ ছাড়াও ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন ও ইত্তেফাকের জেলা প্রতিনিধি 

হিসেবে কর্মরত।

১১ জুলাই ২০২১/ ডেইলি স্টার 

 

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে স্বাধীন সাংবাদিকতার পথরুদ্ধ

দেশে গণতন্ত্র এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার ক্রান্তিকাল চলছে উল্লেখ করে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন দেশে স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ সরাসরি রুদ্ধ করেছে। প্রকৃত অপরাধীদের পরিবর্তে ভিন্নমতের সাংবাদিকদের এই আইনে টার্গেট করা হচ্ছে। এই আইন করার পর সাংবাদিক বা সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পেয়েছেন এমন কোনো নজির নেই। কারাবন্দি বিএফইউজে’র সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর মুক্তির দাবিতে বুধবার বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) এক ভার্চুয়াল সমাবেশের আয়োজন করে। 

১১ আগস্ট ২০২১/ যুগান্তর 

 

সংবাদ পরিবেশন করায় মিথ্যা মামলায় নির্যাতন করেন ওসি প্রদীপ

মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানের নামে নানা অপকর্মের তথ্যবহুল সংবাদ পরিবেশন করার জের ধরে ওসি প্রদীপ মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে রিমান্ডের নামে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়েছে। পাশাপাশি ইচ্ছেমতো যাকে তাকে ধরে নিয়ে ‘ক্রসফায়ারের’ ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতানোর পরও অনেককে নির্বিচারে হত্যা করেছেন ওসি প্রদীপ। সিনহা হত্যা মামলার ১৮তম সাক্ষী সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা খান বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) আদালতকে এমন সাক্ষ্য দিয়েছেন। 

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১/ ইত্তেফাক


০ টি মন্তব্য      ১১৩ বার পঠিত         

লেখাটি শেয়ার করতে চাইলে: