অনলাইনে আছেন

  • জন ব্লগার

  • ৩৭ জন ভিজিটর

একাধিক বিয়ে: গল্পের এপিঠ ওপিঠ (পর্ব ১)...

লিখেছেন Shahmun সোমবার ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২২
 
(সতর্কবার্তা: একাধিক বিয়ের বৈধতা আল্লাহ তাআ'লা কুরআনে কারীমে ঘোষণা করেছেন। তাই সবার জন্য এর বৈধতা স্বীকার করা আবশ্যক। কেউ যদি একাধিক বিয়ের বৈধতা অস্বীকার করে, তাহলে তার ঈমানহানীর সমূহ আশঙ্কা আছে [১])
 
একাধিক বিয়ে সম্পর্কে আমাদের সমাজে বাড়াবাড়ি ছাড়াছাড়ি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ ব্যাপারে ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ নীতি সবার জানা থাকা দরকার। একাধিক বিয়ে সম্পর্কে ইসলামের দর্শন ভালো করে বুঝা দরকার। সে লক্ষ্যে কিছু আলোচনা করার চেষ্টা করা হয়েছে এই লেখায়। আল্লাহ তাআ'লা আমাকে ইনসাফ বজায় রেখে লেখার তাওফিক দান করুন।
(১) একাধিক বিয়ে সম্পর্কে কুরআনের নির্দেশনা:
আল্লাহ তাআ'লা বলেন,
وَاِنۡ خِفۡتُمۡ اَلَّا تُقۡسِطُوۡا فِی الۡیَتٰمٰی فَانۡکِحُوۡا مَا طَابَ لَکُمۡ مِّنَ النِّسَآءِ مَثۡنٰی وَثُلٰثَ وَرُبٰعَ ۚ فَاِنۡ خِفۡتُمۡ اَلَّا تَعۡدِلُوۡا فَوَاحِدَۃً اَوۡ مَا مَلَکَتۡ اَیۡمَانُکُمۡ ؕ ذٰلِکَ اَدۡنٰۤی اَلَّا تَعُوۡلُوۡا ؕ
অর্থ: আর তোমরা যদি আশঙ্কা কর যে, তোমরা এতিমদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না, তবে (তাদের) কাউকে বিবাহ করার পরিবর্তে অন্য কোন মহিলাকে বিবাহ কর, যাকে তোমাদের পছন্দ হয়, (তাদের থেকে) দুই, তিন অথবা চারজনকে। হ্যাঁ, আর যদি আশঙ্কা কর, তোমরা (একাধিক স্ত্রীদের মাঝে) সুবিচার করতে পারবে না, তবে এক স্ত্রীর উপর ক্ষান্ত কর। অথবা সেই দাসীর উপর (ক্ষান্ত কর) যে তোমার অধিকারভুক্ত। এ পদ্ধতিতে এ কথার বেশি সম্ভাবনা রয়েছে যে, তোমরা অবিচারে লিপ্ত হবে না। [২]
জাস্টিস আল্লামা তাকী উসমানী হাফিজাহুল্লাহ বলেন, জাহেলি যুগে স্ত্রী গ্রহণ-পরিপালনের নির্দিষ্ট কোন সংখ্যা ছিল না। কোন ব্যক্তি এক সময়ে এক সাথে দশ-বিশ মহিলাকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ রাখত। এ আয়াতে সেই সংখ্যা নির্ধারণ করে চার-এ সীমাবদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আর তা এ শর্তের সাথে যে, সে তার সকল স্ত্রীর সাথে সমান আচরণ করবে। যদি কেউ একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করার পর তাদের সাথে সদাচরণ করতে পারবে না বলে আশঙ্কা করে, তবে তাকে এক স্ত্রীতে সন্তুষ্ট থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমতাবস্থায় একাধিক বিবাহ করতে নিষেধ করা হয়েছে। [৩]
উপরোক্ত আলোচনা থেকে বুঝা গেল একাধিক স্ত্রী রাখার ব্যাপারে মৌলিক নির্দেশনা দু'টি।
১. স্ত্রীর সংখ্যা একই সময়ে চার জনের বেশি হতে পারবে না।
২. স্ত্রীদের মাঝে ইনসাফ ভিত্তিক ব্যবহার করার ব্যাপারে নিশ্চিত হতে হবে। এছাড়া একাধিক বিয়ে করা দূষণীয়।
এজন্য আমরা বলতে পারি, যার দেহমন, অর্থকড়ি একাধিক নারীকে প্রটেক্ট করতে পারে, তিনি একাধিক বিয়ে করতে পারেন। যার কোন একটার কমতি আছে, তিনি একাধিক বিয়ে করার যোগ্য না।
তথ্যসূত্র:
[১] ফতওয়ায়ে দারুল উলুম দেওবন্দ, ৭/৪৪-৪৫ পৃষ্ঠা.
[২] সূরা নিসা, আয়াত ৩.
[৩] তাফসীরে তাওযীহুল কুরআন, ১/১৭১.

একাধিক বিয়ে
১ টি মন্তব্য      ২২৫ বার পঠিত         

লেখাটি শেয়ার করতে চাইলে:

৩ মাস পূর্বে

Md Hasan Mahmud

জাযাকাল্লাহ

Reply