অনলাইনে আছেন

  • জন ব্লগার

  • ১৯ জন ভিজিটর

সুন্নাহর নির্ভুলতা সংরক্ষণে আলেমদের ভূমিকা...

লিখেছেন কহেন কবি শনিবার ১৩ নভেম্বর ২০২১
 
এ কথা সত্য যে, কিছু লোক বিভিন্ন কারণে রাসূলের নামে মিথ্যা কথা রচনা করেছে। যারা এহেন জঘন্য কাজ করেছে, তারা জাহান্নামকে নিজেদের বাসস্থান হিসেবে ঠিক করে নিয়েছে। এর চেয়েও আরও আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, কিছু লোক তো স্বয়ং আল্লাহর নামেই মিথ্যা কথা রচনা করেছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন—
“(সে বলে) আমার কাছে ওহি করা হয়েছে, অথচ তার কাছে কোনো কিছুই ওহি করা হয় নি।” সূরা আনয়াম : ৯৩
কিন্তু এই উম্মাহর আলেম ও সুন্নাহর সঠিক জ্ঞানের ধারকরা এ সকল দাজ্জালদের অপকর্ম মানুষের সামনে প্রকাশ করে দিয়েছে, তাদের মুখোশ উন্মোচন করে দিয়েছে এবং তাদের মিথ্যবাদিতার হাটে হাঁড়ি ভেঙ্গে দিয়েছে। ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক রাহি. কে বলা হলো—
‘এই যে জাল হাদিস, এগুলোর কি হবে?
তিনি বললেন—
‘এগুলোর (জাল হাদিস চিহ্নিত করা) জন্য আলেমরা তো বেঁচে আছে।”
সত্যিই এই বিচক্ষণ আলেমরা সুন্নাহর নির্ভুলতা সংরক্ষণের জন্য আমরণ কাজ করে গেছেন। তারা সেভাবেই জাল ও বানোয়াট হাদিসগুলো চিহ্নিত করেছেন, যেভাবে একজন বিজ্ঞ লোক অতি সহজেই বাজারের জাল মুদ্রা চিহ্নিত করে থাকে। স্বার্থান্বেষী লোকদের অপচেষ্টার কারণে কিছু কিছু সাধারণ মানুষ হয়তো জাল মুদ্রা গ্রহণ করে ফেলে এবং এই জাল মুদ্রা এক হাত থেকে আরেক হাতে চালিত হয়। কিন্তু দিনশেষে, এই ধান্ধাবাজদের ধোঁকাবাজি ও প্রতারণা ঠিকই সাধারণ মানুষের কাছে প্রকাশিত হয়ে যায়।
হাদিসের পণ্ডিতরা হাদিস যাচাই-বাছাই করার জন্য নির্দিষ্ট নিয়মনীতি প্রণয়ন করেছেন। তারা ‘উলুমুল হাদিস’ বা ‘মুসতালাহুল হাদিস’ এর মতো শাস্ত্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। তারা কতিপয় শর্ত নির্দিষ্ট করেছেন, যার ভিত্তিতে কোনো হাদিস গ্রহণ বা পরিত্যাগ করা হবে। এ সম্পর্কে আমরা পূর্বে আলোচনা করেছি। মোটকথা তারা রাসূল সা. এর নবুওয়তি উত্তরাধিকার রক্ষা করার জন্য এমন এক মহান কাজ আঞ্জাম দিয়েছেন, যা দুনিয়ার অন্য কোনো উম্মাহ তার নবির উত্তরাধিকার রক্ষার জন্য করতে পারে নি।
এবার এই দাবি নিয়ে কথা বলা যাক যে, ‘সহিহ হাদিস যয়িফ হাদিসের সাথে এবং বিশুদ্ধ হাদিস বানোয়াট হাদিসের সাথে মিশে গেছে।’ এই ধরনের দাবি মূলত তারাই করতে পারে, যারা ইলমুল হাদিস সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখে না এবং হাদিসের মহান মহান পণ্ডিত ও বিজ্ঞ ব্যক্তিত্বদের অবদান সম্পর্কে অবগত নয়। হাদিসের নির্ভুলতা সংরক্ষণে তারা তাদের গোটা জীবনটাই বিলিয়ে দিয়েছেন। তারা এই মহৎ কর্ম সম্পাদন করতে গিয়ে ‘উলুমুর রিজাল’ প্রণয়ন করেছেন, যাতে নির্ভরযোগ্য ও পরিত্যক্ত উভয় ধরনের হাজারো রাবির জীবনি ও ইতিহাস সংকলিত হয়েছে। হাদিসের এই মহান পণ্ডিতরা প্রায় ৯০ ধরনের জ্ঞান উদ্ভাবন করেন ও বিকাশ ঘটান, যা একত্রে ‘উলুমুল হাদিস’ নামে পরিচিত। ফিকাহর ক্ষেত্রে উসুলের অবস্থান যা, হাদিসের ক্ষেত্রে উলুমুল হাদিসের অবস্থানও তাই। তারা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে সহিহ হাদিস, আহকাম সংক্রান্ত হাদিস, মাওযু হাদিস, হাদিসের ইল্লত ও মতন পর্যালোচনাসহ প্রতিটি বিষয়েই অসংখ্য স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন।
পৃথিবীর ইতিহাসে এমন একটি জাতিও পাওয়া যায় না, যারা তাদের নবির বাণী সংরক্ষণের জন্য মুসলমানদের মতো অবদান রেখেছে। এখন কথা হচ্ছে, কিছু জাল হাদিস আছে বলে সমস্ত হাদিসের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করা মোটেই কোনো যুক্তিসঙ্গত বিষয় নয়। কোনো বিবেকবান মানুষ কি কখনো এ কথা বলবে নাকি যে, ‘যেহেতু মাঝে মাঝে নকল মুদ্রা পাওয়া যায়, তাই সমস্ত আসল মুদ্রাও পরিত্যাগ করতে হবে এবং কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনে তা ব্যবহার করা যাবে না।’ কেবল পাগলই এ প্রলাপ বকতে পারে।
ইউসুফ আল কারযাভী

সুন্নাহ
০ টি মন্তব্য      ৮৮০ বার পঠিত         

লেখাটি শেয়ার করতে চাইলে: