অনলাইনে আছেন

  • জন ব্লগার

  • ৩৪ জন ভিজিটর

ইতিহাসে বিস্মৃত এক মহানায়ক....

লিখেছেন লাবিব আহসান রবিবার ১৮ জুলাই ২০২১

আমরা জাতি হিসেবে অকৃতজ্ঞ। ইতিহাসের অনেক মহানায়ককে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করতে বেশ সিদ্ধহস্ত। ঠিক এভাবে ভুলে গেছি ইতিহাসের এক মহান কবিকে। তিনি ইসমাইল হোসেন সিরাজী। আধুনিক বাংলা গদ্য সাহিত্যের প্রথম দিকের মুসলমান সাহিত্যিকদের মধ্যে অন্যতম সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী। বাংলার ইতিহাস, বাংলাদেশের ইতিহাস, বাঙালির ইতিহাস, বাংলাদেশের মুসলমানদের ইতিহাস, বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির ইতিহাস, উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক জাজ্বল্যমান তারকার নাম সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী। 

 

 

রাজনৈতিক চেতনা, শিক্ষা, সর্বোপরি স্বাধিকার আদায়ের চেতনা বিকাশে যারা রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সমভাবে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন তাদের মধ্যে ইসমাইল হোসেন সিরাজীর স্থান অন্যতম। তবে ব্রিটিশ আমলেই জন্ম, আর ব্রিটিশ আমলেই মৃত্যু বলে স্বাধীনতার স্বাদ নিতে পারেননি। পারেননি মুক্ত বিহঙ্গের মতো মুক্ত আকাশে ডানা মেলতে। 

 

 

কিন্তু মুক্তচিন্তার অধিকারী এ স্বাপ্নিক মানুষটি মুক্তির চেতনায় ছিলেন সদা বিভোর। স্বাধীনতার প্রত্যাশায় জেল-জুলুম, টর্চার সেল, নির্যাতন, নিপীড়ন কোনো কিছুরই তোয়াক্কা করেননি। মানবতার মুক্তি এবং মানবাধিকার রক্ষার জন্য দেশব্যাপী চষে বেড়িয়েছেন এই হৃদয়বান মানুষটি। সরকারের হুমকি কিংবা পুলিশের ডান্ডাবেরী তাঁর কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দিতে পারেনি। মুসলিম জাতির হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারে তাঁর কলম চালিত হয়েছিলো অপ্রতিহত গতিতে। 

 

 

 

তাঁর কলমের তুলিতে উজ্জ্বল হয়ে ফুটে ওঠেছে ইসলামের ইতিহাস ঐতিহ্য আর শান শওকত। বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, আনলবর্ষী বক্তা, কবি ও বাগ্মী ইসমাইল হোসেন সিরাজীর আজ ৮৭তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৩১ সালের আজকের দিনে তিনি ই্ন্তেকাল করেন। বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে নবযুগের নতুন জীবন চেতনা ও সাংস্কৃতিক বোধ জাগ্রতকারী কবি ও ঔপন্যাসিক সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজীর মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

 

 

জাতীয় জাগরণের অগ্রদূত সৈয়দ ইসমাইল হোসেন ১৮৮০ সালের ১৩ জুলাই সিরাজগঞ্জের বাণীকুঞ্জ গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পারিবারিক ও ধর্মীয় কারণে তিনি নামের শেষে 'সিরাজী' গ্রহণ করেন। লেখাপড়া করেন জ্ঞানদায়িনী মাইনর স্কুল এবং বিএল হাইস্কুলে। তার পরিবার এতই দরিদ্র ছিল যে তার পড়াশুনার খরচ চালাতে পারত না। 

 

 

তবে নিজের অদম্য প্রচেষ্টায় লেখা পড়া চালিয়ে যান তিনি। মাত্র ১৯ বছর বয়সে মুন্সী মোহাম্মদ মেহেরুল্লাহর সহযোগিতায় ১৮৯৯ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘অনল প্রবাহ'। ১৯০৮ সালে কাব্যগ্রন্থটির দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হলে কাব্যে রাজদ্রোহ প্রচার এবং মুসলমান সমাজের মধ্যে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের অভিযোগে ১৯১০ সালের মার্চে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়।

 

 

 

একই বছরের ০৯ সেপ্টেম্বর সশ্রম কারাদন্ড প্রদান। ১৯১২ সালের ১৪ মে হাজারীবাগ জেল থেকে মুক্তি পান সিরাজী। একই বছর বলকান যুদ্ধের সময় তিনি একদল চিকিৎসকের সাথে তুরস্কে যান। পরবর্তীতে প্রথমে তিনি কংগ্রেস ও পরে মুসলিম লীগে যোগ দেন। সিরাজীই উপমহাদেশের প্রথম কবি যিনি স্বাধীনতার জন্য, জাতীয় জাগরণের জন্য কবিতা লিখে জেলের ঘানি টানেন। শুধু তাই নয় তাঁর কণ্ঠ রোধ করার জন্য তাঁর বক্তৃতা ও সভাস্থলে ব্রিটিশ সরকার ৮২ বার ১৪৪ ধারা জারি করেছিলো।

 


ইতিহাস ইসমাইল হোসেন সিরাজী কবিতা
০ টি মন্তব্য      ২৯১ বার পঠিত         

লেখাটি শেয়ার করতে চাইলে: