অনলাইনে আছেন

  • জন ব্লগার

  • ৪৬ জন ভিজিটর

এবার করোনা ভাইরাস আরও বেশি ভয়ংকর...

লিখেছেন Shahmun শনিবার ২৬ জুন ২০২১

 

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হেনেছে। এটা ঠিক দ্বিতীয় ঢেউ নাকি তৃতীয় ঢেউ তা সঠিক করে বলা যাচ্ছে না। কিন্তু এতোটুকু নিশ্চিত যে, সারা বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণ ঘটেছে। অথচ গত এপ্রিলেও করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ মোটামুটি নিয়ন্ত্রণেই ছিলো। একটি দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আছে কিনা, তা নির্ভর করে সংক্রমনের হার ৫ শতাংশের মধ্যে আছে কিনা- তার উপর। বর্তমানে বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের হার ২০ শতাংশেরও বেশি।

এই ঢেউ কি হঠাৎ করেই এলো?

না। এই ঢেউ হঠাৎ করেই আসেনি। সরকারসহ আমরা দেশের সাধারণ মানুষরাও জানি যে, বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের আরও একটি ঢেউ আঘাত হানতে যাচ্ছে। আর এই ঢেউ হতে পারে মারাত্মক। কারণ, আমাদের পাশ্ববর্তি দেশ ভারতে করোনা ভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণ ঘটেছে। আর ভারতে করোনা ভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে। আর ভ্যারিয়েন্ট ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি করে। ফলে এই ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হলে যাদের ফুসফুস একটু দুর্বল বা যারা বয়োবৃদ্ধ তাদের সুস্থ হয়ে ফিরে আসাটা বেশ কঠিন। তাই অনেক আগে থেকেই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সাবধান করে দিয়ে আসছিলো, এই ভাইরাস বাংলাদেশে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। তাই অতিস্বত্ত্বর ভারতের সাথে সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া হোক।

সীমান্ত কিন্তু বন্ধ করাও হয়েছিলো। কিন্তু সেটা নামে বন্ধ ছিলো। কার্যত এই সময়টাতে ভারত থেকে প্রায় সহস্রাধিক মানুষ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। বাংলাদেশে প্রবেশ করলেও তাদের কোয়ারিন্টিনে রাখা হয়েছিলো। কিন্তু কতকজন সেই কোয়ারিন্টিন থেকে পলায়ন করেছিলো। তারপর তাদের আবার পুলিশ ধরে এনে কোয়ারিন্টিনে রাখে। কিন্তু প্রকৃত ব্যাপার হলো, ভারতের সাথে সীমান্ত পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি। বন্ধ করা হয়নি নাকি বাস্তবতার কারণে বন্ধ করা যায়নি, সেই বিতর্কে যাবো না। কিন্তু সত্য এটাই ভারতে যখন করোনা ভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণ ঘটছে, তখন ভারত-বাংলাদেশের সীমান্ত সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা যায়নি। আর সীমান্ত বন্ধ করতে না পারার দরুন দেখা যাচ্ছে, সীমান্তবর্তি অঞ্চলগুলোতে করোনা ভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণ ঘটেছে।

বিগত সময়গুলোতে দেখা যেত, সংক্রমণ আর মৃত্যুর হার ঢাকা আর চট্টগ্রাম অঞ্চলেই সবচেয়ে বেশি। কিন্তু এবার সংক্রমনের হার ঢাকা, চট্টগ্রামের পাশাপাশি রাজশাহী, চুয়াডাঙ্গা আর খুলনা অঞ্চলে বেশি। এর মধ্যে শুধু গতকালই রাজশাহীতে করোনাতে ১৭ জন মৃত্যুবরণ করেছে। আর চুয়াডাঙ্গায় করোনা টেস্টের বিপরীতে আক্রান্তের হার প্রায় ১০০%। আরও খারাপ সংবাদ হলো, করোনা টেস্টিং কীট ঢাকার বাহিরের এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। তাই দৈনিক মোটা জনসংখ্যার বিপরীতে খুব অল্প সংখ্যক টেস্ট করানো সম্ভব হচ্ছে। ফলে, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা বা পরিমাণ নিরুপন করা সম্ভব হচ্ছে না। এমতাবস্থায় আমাদের স্বাস্থ্যখাত তেমন কোনো ভূমিকা পালন করতে পারবে বলে মনে হয় না।

এই দ্বায় কি কেবল সরকারের?

না, এই দ্বায় কেবল সরকারের নয়। এই দ্বায় সরকারের পাশাপাশি আমাদেরও। কারণ, আমরা আর আগের মতো সুরক্ষার বিষয়ে ততোটা সচেতেন নই। আমাদের মাঝে এখন একটা গা ছেড়ে দেওয়া ভাব। মুখের মাস্ক থুতনিতে ঝুলে থাকে। বাহির থেকে এসে হাত ধোঁয়া তো প্রায় বন্ধই হয়ে গেছে। এই স্বাস্থ্য সচেতনতা আমাদের নিজেদের প্রয়োজনেই মেনে চলা উচিত ছিলো। কিন্তু আমরা পারিনি। যার দরুন সমগ্র বাংলাদেশে আবারও করোনার ব্যাপক সংক্রমণ ঘটছে। এই বিপদ থেকে আমরা আদৌ মুক্তি পাবো কিনা, তা সময়ই হয়তো বলে দিবে।


করোনা ভাইরাস
০ টি মন্তব্য      ২৮৮ বার পঠিত         

লেখাটি শেয়ার করতে চাইলে: