অনলাইনে আছেন

  • জন ব্লগার

  • ১৮ জন ভিজিটর

আউযুবিল্লাহ! আমি যেন গাদ্দার না হই।

লিখেছেন আফগানী রবিবার ০৫ মে ২০১৯

 

আমাদের দেশের মানুষরা ভালোকে ভালো বলতে জানে না। খারাপকে খারাপ বলতে জানে না। জানে সেভাবে কথা বলতে যেভাবে ক্ষমতাসীনেরা কথা বলে। তাই ইতিহাস চেইঞ্জ হয়ে যায়। বার বার চেইঞ্জ হয়ে যায়। সত্যকে মিথ্যা দিয়ে ঢেকে দেয়ার অপচেষ্টা করা হয়।

 

আজ সকালে প্রতিটা মিডিয়ায় খবর এসেছে হেফাযতের তাণ্ডবের কথা। প্রথম আলো রিপোর্ট করেছে আক্ষেপ করে 'হেফাযতের তাণ্ডবের বিচার হচ্ছে না'। কেউ বলেনি মতিঝিলে গণহত্যার কথা। হেফাযতের শহীদদের কথা। তাদের রক্তের কথা। এমনকি বলেনি হেফাযত নিজেও। এভাবে চলতে থাকলে একদিন মানুষ শুধু জানবে হেফাযতের তাণ্ডবের কথা। শহীদদের সাথে গাদ্দারী করতে থাকবে এদেশের মানুষ।

 

এদেশের মানুষ গাদ্দারি সবসময় করে আসছে...। নতুন নয়। আল্লাহ না করুন যেভাবে চলছে তাতে যদি তথ্যভিত্তিক প্রতিরোধ না গড়ে তোলা যায় তাহলে একদিন এদেশের আলেম সমাজ শাহবাগের নাস্তিকদের জন্য কান্না করবে। তাদের জন্য মসজিদে দোয়া করবে। মিলাদ পড়বে। আরো আরো অনেক কিছু করবে। ৫ ফেব্রুয়ারি ঘটা করে শাহবাগ দিবস পালন করবে। ৫ মে পত্রিকায় আসবে হেফাযত ইসলাম নামে সন্ত্রাসীদের কথা। নতুন প্রজন্ম জানবেই না, আসলে কী হয়েছিল?

 

১৯৫২ সালে এদেশের কিছু সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদী মানুষ ভাষার জন্য আন্দোলন করেছিল। বাংলার অধিকাংশ মানুষ সেই আন্দোলনের বিরোধীতা করেছিল। আন্দোলনকারীরা কোণঠাসা ছিল। অথচ যেদিন ভাষা আন্দোলন সরকারি স্বীকৃতি পেয়েছিল সেদিন সবাই এর সমর্থক হয়ে উঠেছে। মাঝে চাপা পড়ে গিয়েছে যারা এই সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদ রুখতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছে, নির্যাতিত হয়েছে।

 

১৯৬৬ সালে ছয় দফা আন্দোলন হয়েছে আইয়ুব-মুজিবের ষড়যন্ত্রের ফলে। যার ফলে ভাগ্যহারা হয়েছিল কাশ্মীরিরা। মুজিবের উত্থাপিত ছয় দফা পাশ হয়নি আওয়ামীলীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায়। সেসময় মুজিব ছাত্রলীগের সহায়তায় আওয়ামীলীগের তৎকালীন সভাপতি তর্কবাগীশকে ঘাড় ধরে বের করে দেয়। সভাপতির চেয়ার নিজেই দখল করে নেয়। এরপর যখন মুজিব হুমকি দিয়েছে তখন আওয়ামীলীগের সবাই ছয়দফাকে সমর্থন দিয়েছে। বৈষম্যমূলক অজনপ্রিয় ছয়দফা হয়ে পড়েছে জনপ্রিয়।

 

১৯৭০ সালে নির্বাচন যখন দিয়েছে ইয়াহিয়া। তখন স্বাধীনতার ডাক দিয়েছে ভাসানী। ভাসানী তখন সবচেয়ে জনপ্রিয় বাঙালি নেতা। ভাসানীর বিরুদ্ধে মুজিব পাকিস্তানের সংহতি রক্ষায় আন্দোলনে নেমেছে ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। জনগণ মুজিবকে সাপোর্ট দিয়েছে।

 

এরপর নানা ঘটনায় যখন একাত্তরের যুদ্ধ শুরু হয়েছে তখন মানুষ এটাকে মুক্তিযুদ্ধ মানতেই নারাজ ছিল। একাত্তরের বহুদিন পর পর্যন্ত এর নাম ছিল গণ্ডগোল। ৭১ এর কথা বলতে চাইলে এদেশের মানুষ বলতো গণ্ডগোলের বছর। সেসময় বেশিরভাগ মানুষ স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু যখন আজ সেই স্বাধীনতা বিরোধীরাও নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ হিসেবে প্রমাণ করতে সচেষ্ট।

 

এদেশে প্রায় সকল আলেম ওলামা পাকিস্তান বিভাগের বিরোধী ছিল। কয়েকজন মাসুদ টাইপের আলেম অবশ্য ছিল। তবে সেটা হাতে একেবারেই গোণা।

 

যাই হোক সেসময়ে যারা ভারতীয় দালাল ও ভারতীয় হানাদারদের বিরুদ্ধে ইসলাম ও দেশরক্ষায় প্রাণ দিয়েছিল তাদের রক্তকে অস্বীকার করেছে সবাই। সব আলেম সমাজ। এখন যেভাবে অস্বীকার করতে যাচ্ছে ৫ মে ২০১৩ সালের শহীদদের রক্ত।

 

আউযুবিল্লাহ। আমি যেন গাদ্দার না হই, আল্লাহ আমাকে গাদ্দার জাতির অন্তর্ভুক্ত না করুন।


হেফাযতে ইসলাম মতিঝিল গণহত্যা গণহত্যা শাপলা চত্বর শাহবাগ আওয়ামী নৃশংসতা
০ টি মন্তব্য      ৩৩৯ বার পঠিত         

লেখাটি শেয়ার করতে চাইলে: