অনলাইনে আছেন

  • জন ব্লগার

  • ১৯ জন ভিজিটর

রাসূল সা. যেভাবে আলী রা.-কে গড়ে তুলেছিলেন...

লিখেছেন কহেন কবি বুধবার ০৬ জানুয়ারী ২০২১

রাসূল সা.-এর জীবনের এই দিকটি আমার কাছে খুবই আবেগের। এ নিয়ে যখন চিন্তা করি তখন অবচেতনে চোখ আদ্র হয়ে ওঠে। সে বিশেষ দিকটি হলো- আলী রা.-কে রাসূল সা.-এর প্রতিপালন।

কী উন্নত, অভিজাত ও প্রাকৃতিক মমতায় রাসূল সা. তাঁকে গড়ে তুলেছেন; বীট বাই বীট, ক্ষীণকায় বাঁকা ম্রিয়মাণ, লতায় দোলখাওয়া ভঙ্গুর চাঁদ যেভাবে পূর্ণ চাঁদ হয়ে ওঠে। আলী রা.-এর জীবনের সাথে নববি শিক্ষা একই স্রোতে ঢেউয়ের কলতান হয়েছে । চরম ভঙ্গুর সময়ে আলী রা. হয়ে ওঠেছিলেন মুহাম্মদ সা.-এর গ্রেট ডিফেন্ডার।

খালিদ রা.-এর জীবনী নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তাঁর অসাধারণ কিছু বৈশিষ্ট্য অনুভব করেছি। খালিদ ছিলেন অসাধারণ যোদ্ধা, সুনিপুণ কৌশলী। শৈশবে ভাবতাম খালিদ ছিলেন দূরন্ত যোদ্ধা, কিন্তু তার জীবনী নিয়ে কাজ করতে গিয়ে দেখলাম সেনাপতি হওয়ার জন্য শুধু কমপিটেন্ট ওয়ারিওর হওয়া যথেষ্ট না, জেনারেল হওয়ার জন্য প্রয়োজন ইন্সট্যান্ট কৌশল ডিভাইস করার যোগ্যতা, নিজ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাহসের সাথে বিজয় চিনিয়ে আনার অডাসিটি।

খালিদের জীবনীতে দেখেছি প্রায় সুনিশ্চিত পরাজয়ের ক্ষণ থেকে খালিদ তাঁর রণনৈপুণ্যে বিজয়কে আলিঙ্গন করেছেন। এটাই খালিদকে খালিদ বানিয়েছে। ঠিক এই কারণেই মানুষের মনে ধারণা বদ্ধমূল হচ্ছিল খালিদ না হলে এ বিজয় সম্ভব ছিল না।
কিন্তু আলী রা.-এর জীবন এর চেয়ে অনেক ভিন্ন। অনেক বেশি গভীর, সমাহিত। তাই সে অরিন্দমগুলোকে অনুভবের মধ্য দিয়ে স্পর্শ করতে হয়। রাসূল সা. যখন হিজরত করছেন আলী রা. তাঁর বিছানায় রিপ্লেসড হয়েছেন। কতটা ক্লোজড; রাসূলের একটা অধ্যায়ের সমাপ্তিতে।

প্রবল উত্তেজনাকর পরিস্থিতি। খালিদ বিন ওয়ালিদও যখন মুসলিমদের শত্রু। কুরাইশদের শক্তিশালী যোদ্ধার সাথে ডুয়েলে লড়তে হবে, এমন পরিস্থিতিতে আলী রা. নিজেকে এগিয়ে দিয়েছেন বারবার। ডুয়েল মানে তো নতুন জীবন কিংবা মৃত্যুর ললাটে চুমু আঁকা। আলী রা. জীবনে বহু প্রতিপক্ষ বীর যোদ্ধাকে পরাজিত করেছেন। যখন মুসলিমদের একজন অকুতোভয় বীরের প্রয়োজন, অথচ মুসলিমরা সংখ্যায় নগন্য, তখন আলী রা. নিজেকে মেলে ধরেছিলেন বীরত্বের সবকটি রঙ মেখে। কতটা অনিবার দ্যোতনা!

যখন খালিদরা এলেন, আলীকে আর তেমন প্রয়োজন ছিল না, তিনি সরে এলেন যুদ্ধের ময়দান থেকে। তিনি হয়ে উঠলেন খলিফাদের উপদেষ্টা। উসমান রা. শাহাদাৎ বরণ করলেন আলী রা. হয়ে উঠলেন রাষ্ট্রনায়ক। রাসূল সা.-এর যৌবনে আলী রা. ছিলেন ভাতৃত্বের মেলবন্ধনে সুবাসিত সেবক, মুসলিমদের দুর্দিনে, অসহায় সময়ে; বীরযোদ্ধা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মুসলিমদের রক্ষা করেছেন, সেনাপতির ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। রাসূল সা.-এর কঠিন সময়ে হয়ে উঠেছেন উপদেষ্টা। নিভৃতে সমাহিত হয়েছেন কবিতায়, জ্বলে ওঠেছেন জ্ঞানের চারণভূমিতে, প্রয়োজন তাঁকে করে তুলেছিল শেষ্ঠ বিতার্কিকও। ইসলামের স্বার্থেই আবার নিজের জয়কে কুরবান করেছেন।

রাসূল সা. তাঁকে নিজ চরিত্রের শুভ্রতায় পরিশুদ্ধ করেছেন। একসাথে খেয়েছেন, উপোস করেছেন, বিচরণ করেছেন মরুতে। এটাকে প্যারেন্টিং বলতে আমার ভালো লাগে না। প্যারেন্টিং শব্দটায় কেমন একটা আর্টিফিশিয়াল ইম্প্রেশন আছে। এটা এরচেও গভীর, এতটাই গভীর যে তা শব্দে বর্ণনার চেয়ে অশ্রুতে অনুভব করা যায় বেশি।

খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.-এর ছোট্ট জীবনী আমার অনুবাদের সুযোগ হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ইচ্ছা পুষেছি আলী রা. ও মুহাম্মদ সা.-এর মধ্যাকার এই সম্পর্ক নিয়ে একটা মলাটবদ্ধ উপস্থাপনার। কিন্তু এর জন্য প্রয়োজনীয় সে যোগ্যতা এখনও অর্জন করতে পারিনি।

- মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ


রাসূল সা আলী রা
১ টি মন্তব্য      ৪৪৫ বার পঠিত         

লেখাটি শেয়ার করতে চাইলে:

২ বছর পূর্বে

লাবিব আহসান

জাস্ট অনবদ্য!

Reply