অনলাইনে আছেন

  • জন ব্লগার

  • ১৯ জন ভিজিটর

বিশ্বের সেরা ৫ গোয়েন্দা সংস্থার নাম ও পরিচয়...

লিখেছেন জিবরান মঙ্গলবার ০৮ ডিসেম্বর ২০২০

বর্তমান বিশ্বের ছোট বড় প্রায় সব দেশেরই রয়েছে এক বা একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। কারণ, গোয়েন্দা সংস্থা ছাড়া একটি দেশের এগিয়ে চলা কার্যত কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। দেশে বা দেশের বাইরে বড় কোনো সমস্যার প্রথম ইঙ্গিত পায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। তাই গোয়েন্দা সংস্থাকে বলা হয়ে একটি দেশের ফার্স্ট লাইন অফ ডিফেন্স’।

একটা দেশের সবচেয়ে বুদ্বিমান এবং চৌকশ নাগরিকরাই কেবল গোয়েন্দা সংস্থাতে নিয়োগ পায়। কারণ,তাদেরকে সর্বদা চোখ কান খোলা রাখতে হয়। দেশের অভ্যন্তরে বা দেশের বাইরে কি হচ্ছে সেসব বিষয়ে নজর রাখতে হয়।

কোনো সন্ত্রাস বা জঙ্গিগোষ্ঠী বড়সড় কোনো হামলার পরিকল্পনা করছে কিনা, জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে কিনা এসব বিষয়ে খবরাখবর রাখা, প্রয়োজনে সেইসব পরিকল্পনা ভেস্তেও দেয় এই গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। অনেক দেশকে তাদের বৈদেশিক নীতির রুপরেখা তৈরিতে ও গোয়েন্দা সংস্থার উপর নির্ভর করতে হয়।

কোন দেশের গোয়েন্দা সংস্থা সবচেয়ে শক্তিশালী,এ নিয়ে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। আসুন জেনে নেই বিশ্বের সেরা ৫ গোয়েন্দা সংস্থা সম্পর্কে।

১.মোসাদ, ইজরায়েল

বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর এবং সেরা দুর্ধর্ষ গোয়েন্দা সংস্থার নাম মোসাদ (MOSSAD)। ১৩ ডিসেম্বর ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের ইংরেজি নাম হচ্ছে (Institute for Intelligence and Special Operations)। মোসাদের প্রধান হন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। এর সদর দফতর ইসরায়েলের তেলআবিবে।
সারা বিশ্বে ইহুদেরদের রক্ষাকবচ হচ্ছে মোসাদ। বলা হয়ে থাকে যে, ইসরাইল রাষ্ট্রটি টিকেই আছে মোসাদের জন্য। সমগ্র পৃথিবীর যেকোনো জায়গায়, যেকোনো পরিস্থিতিতে অপারেশন চালানোর ক্ষমতা রাখে মোসাদ। তবে মোসাদের কর্মী সংখ্যা কত তা আসলে সঠিকভাবে বলা যায়না। অনেকে ধারণা করেন মোসাদ মাত্র ১২০০ কর্মীর সাহায্যে সারা পৃথিবীতে দাপটে বেড়ায়।

মোসাদের জন্যে কত টাকা বরাদ্দ, তাও কারো জানা নেই। প্রধানমন্ত্রীর কাছে সরাসরি দায়বদ্ধ মোসাদের নেটওয়ার্ক সমগ্র পৃথিবী জুড়ে বিস্তৃত।সাধারণভাবে মোসাদের কাজ বিশ্বজুড়ে ইহুদি নেটওয়ার্ক তৈরি, শত্রু এজেন্টদের সন্ধান,গুপ্তহত্যা, কাউন্টার টেররিজম, বিদেশি কূটনীতিকদের ওপর নজরদারি, নতুন প্রযুক্তি সংগ্রহ ইত্যাদি। ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষায় যেকোনো কিছু করতে প্রস্তুত থাকে সংস্থাটি।

মোসাদের গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন গুলো হচ্ছেঃ-
১৯৬০ সালে আর্জেন্টিনায় আইখম্যান হান্ট, ১৯৬৫ সালে হেবাররত চুকারস হত্যা, ১৯৬৩-৬৬ সালের অপারেশন ডায়মন্ড, ১৯৭২ সালের মিউনিখ অলিম্পিকে ইজরায়েলি অ্যাথলিটদের হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ, ১৯৯০ সালের অপারেশন জেরাল্ড বুল কিলিং, ২০১০ সালের মোহাম্মদ আল মাবহু হত্যাকাণ্ড।

২.সিআইএ, আমেরিকা

হলিউদের বদৌলতে সিআইএ এর নাম আমরা অনেকেই জানি। সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি বা সিআইএ তুখোর বুদ্ধির সব গোয়েন্দাদের নিয়ে তৈরি
যা ১৯৪৭ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়। এর সদর দফতর ল্যাংলি, ভার্জিনিয়ার জর্জ বুশ সেন্টার ফর ইন্টেলিজেন্সে।এটি একটি স্বাধীন সংস্থা, যার জবাবদিহিতা করতে হয় মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে গঠিত অফিস অফ স্ট্র্যাটেজিক সার্ভিসেস (OSS) এর উত্তরসূরী হিসেবে সিআইএর জন্ম। এর কাজ ছিলো যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন শাখা-প্রশাখার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান করা। ১৯৪৭ সালে অনুমোদিত হওয়া ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট এর মাধ্যমে সিআইএ গঠন করা হয়।

সিআইএ মূলত, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের আওতাধীন একটি বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থা। এর প্রধান কাজ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উচ্চপদস্থ নীতিনির্ধারকদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করা।

তবে,২০০৪ সালে সিআইএ এর কাজ উল্লেখযোগ্য হারে পরিবর্তন হয়। পূর্বে সিআইএ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান গোযন্দো সংস্থা। যা নিজেদের কাজের পাশাপাশি অন্য গোয়ন্দো সংস্থাগুলোর কর্মকাণ্ডও দেখাশোনা করত। 'ইন্টেলিজেন্স রিফর্ম অ্যান্ড টেররিজম প্রিভেনশন অ্যাক্ট, ২০০৪ অনুযায়ী তা পরিবর্তিত হয়।

পৃথিবীর সর্ববৃহৎ নেটওয়ার্ক রয়েছে এই গোয়েন্দা সংস্থাটির। সিআইএ পৃথিবীর সব ধরনের ডিভাইসে একসেস নিতে পারে। বিশেষ সার্চ ইঞ্জিনের সাহায্যে অনলাইন-অফলাইনের সব ধরনের তথ্য তারা পেতে পারেন। এর কর্মীসংখ্যা অজ্ঞাত। তবে অনুমানিক এই সংখ্যা ২০ হাজারের বেশি হতে পারে। সিআইএ'র বাজেটের পরিমাণ ২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এটি বিশ্বের সবচেয়ে ধনী গোয়েন্দা সংস্থা হিসেবে স্বীকৃত।

সিআইয়ের বিখ্যাত অপারেশন গুলো হচ্ছেঃ-
বে অব পিগস হামলা, বিন লাদেন হত্যা, ভিয়েতনামে অপারেশন ফোনিক্স, অপারেশন গ্লাডিও, আফগানিস্থান এবং ইরাকে মার্কিন সেনা অভিযান ইত্যাদি।

৩.এমআইসিক্স, ব্রিটেন

MI6 পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন গোয়েন্দা সংস্থা হিসেবে খ্যাত। শক্তিমত্তার দিক থেকে MI6 কে ৩য় অবস্থানে রাখা যায়। এর অফিসিয়াল নাম সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস। ১৯০৯ সালের অক্টোবরে উইলিয়াম মেলভিল 'সিক্রেট সার্ভিস ব্যুরো' নামে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯১১ সালে সিক্রেট সার্ভিস ব্যুরোর নাম পরিবর্তন করে সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস করা হয়। এর সদর দপ্তর লন্ডনের এসআইএস বিল্ডিং।

MI6 ব্রিটিশ মিলিটারির ইন্টেলিজেন্স-এর একটি বিশেষ শাখা। প্রথমদিকে নৌ সেনা সেকশন ও আর্মি সেকশন নামে দুটি আলাদা বিভাগে কাজ করত। নেভাল বিভাগের কাজ ছিল অন্য দেশে গোয়েন্দাগিরি আর সেনা বিভাগের কাজ ছিল দেশের ভিতরের সন্ত্রাস দমন। পরে এই নেভাল বিভাগের নাম পরিবর্তন করে দেওয়া হয় MI6 আর সেনা বিভাগের নাম দেওয়া হয় MI5.

MI6 যুক্তরাজ্য সরকার তথা ব্রিটিশ গভর্নমেন্টের বৈদেশিক গুপ্তচর বিভাগের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা। এটি দেশের অভ্যন্তরে এমআই৫, সরকারি যোগাযোগের প্রধান দফতর , প্রতিরক্ষা সংস্থার সঙ্গে এবং দেশের বাইরে কখনো সিআইএ আবার কখনও মোসাদের সঙ্গে একযোগে কাজ করছে। এসআইএস বা এমআইসিক্স বর্তমানে ব্রিটেনের জাতীয় নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়ে গুপ্তচরের প্রধান ভূমিকা পালনে সক্ষম।

এমআইসিক্সের প্রধান কাজ হচ্ছে বৈদেশিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স পরিচালনা, বন্ধুভাবাপন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা, দেশ ও মিত্রদের অর্থনৈতিক ও সামরিক স্বার্থ রক্ষায় গোয়েন্দা তৎপরতা পরিচালনা।

৪.এফএসবি, রাশিয়া

রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা FSB পূর্ণ নাম ফেডারেলনায়া সুলঝবা বেজপাসনোস্তি রাশিস্কয় ফেডেরাটসি যা সংক্ষেপে এফএসবি নামে পরিচিত। এটি ১৯৯৫ সালের ৩ এপ্রিল প্রতিষ্ঠিত হয়। এর সদর দফতর রাশিয়ার মস্কো শহরের ল্যুবিয়াঙ্কা স্কোয়ারে। মূল নিয়ন্ত্রণ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের হাতে।

পৃথিবীর অনান্য গোয়েন্দা সংস্থার তুলনায় নবীন এ সংস্থাটিকে তাদের অভিজ্ঞতা দিয়ে বিচার করা হবে বোকামি। বয়স দিয়ে এফএসবির কার্যকারিতা ও ভয়াবহতার প্রভাব মোটেও অনুমান করা যাবে না। এদের রুদ্ধশ্বাস সব অভিযান আর ভয়বহতা শুনলে কেঁপে উঠতে হবে।

এফএসবির সাহায্যকারী সংস্থার নাম গ্রু। এফএসবির মোট ১০টি বিভাগ রয়েছে। সারা বিশ্বে FSB-র এজেন্ট সংখ্যা লক্ষাধিক। তারা সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থেকে প্রতিমুহূর্তে গোপন খবর রাশিয়ায় পাঠাচ্ছে। এফএসবির নামকরা এজেন্টের নাম আন্না চ্যাপম্যান।
এফএসবির মূল দায়িত্ব বৈদেশিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স পরিচালনা, গুপ্তহত্যা, বর্ডার সার্ভেইল্যান্স, রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ, কাউন্টার টেররিজম, নিজস্ব লোক সংগ্রহ ও নেটওয়ার্ক তৈরি, বিদেশি কূটনীতিকদের ওপর নজরদারি।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থার নাম পালটে যাওয়া। প্রথম গোয়েন্দা সংস্থার নাম ছিল চেকা। পরে তৈরি হয়েছিল কেজিবি। আর বর্তমানে চলছে এফএসবি।

৫.বিএনডি, জার্মানি

ফেডারেল ইনটেলিজেন্স সার্ভিস (BND)। ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা হিসেবে পরিচিত। জার্মানির অন্যতম সেরা এই গোয়েন্দা সংস্থারটি ১৯৫৬ সালের ১ এপ্রিল মেজর জেনারেল রেইনহার্ডরের নেতৃত্বে সংস্থাটি নির্মিত হয়েছিল। এর সদর দফতর জার্মানের মিউনিখে অবস্থিত। পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করে জার্মান চ্যান্সেলরের অফিস। গোয়েন্দারা যাবতীয় তথ্য জানান চ্যান্সেলরকেই। বিএনডির পেছনে প্রতি বছর প্রচুর বাজেট ধরা হয়।

বিএনডি শুরুতে আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র সহযোগী হিসেবে কাজ করে। পরবর্তীতে নিজেরাই সমস্ত দায়িত্ব গুছিয়ে নেয়। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস, মাদক পাচার, প্রযুক্তির অবৈধ পাচার, অস্ত্র পাচারের গোপন তথ্য সংগ্রহ করে। মোটকথা, এই সংস্থাটি জার্মানিতে ও বিশ্বের যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকে।

তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া, ঢাকা টাইমস, কালের কন্ঠ,এই সময়।


গোয়েন্দা সংস্থা
০ টি মন্তব্য      ১০৬৩ বার পঠিত         

লেখাটি শেয়ার করতে চাইলে: