অনলাইনে আছেন

  • জন ব্লগার

  • ২৩ জন ভিজিটর

মুসলিমদের ইউরোপ বয়কটের অক্ষমতা...

লিখেছেন জিবরান বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর ২০২০
সেক্যুলারিজমের দৌরাত্ম্য ইউরোপীয়দের বস্তুবাদী ইলাহর স্পষ্ট জানান দেয়। ইউরোপীয়রা এমন এক ইলাহর দাসত্ব করছে যার নিয়মকানুন কালের পরিক্রমায় প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হয়। আজ ইউরোপীয়রা বস্তুজগৎকে ইলাহর আসন দিয়েছে আর সারাবিশ্ব ইউরোপীয়দের ইলাহর আসন দিয়েছে। আফসোসের বিষয় হচ্ছে আজ মুসলিম বিশ্ব ইউরোপীয় দাসত্বে মারাত্মকভাবে আবদ্ধ।
বাস্তুজগতের ক্ষমতার দাপটে ইউরোপীয়রা সারা বিশ্বকে বোঝাতে সক্ষম যে, আমরাই তোমাদের প্রভু। আমরা তোমাদের ত্যাগ করলে তোমরা ভাতে মরবে। মস্তিষ্কের জং ধুয়ে মুছে সাফ করে চিন্তা করুন ইউরোপীয় ইউনিয়ন যখন কাউকে বয়কট করার ইচ্ছা পোষণ করে তখন তাদের মানসিক অবস্থা কেমন হয়৷ বস্তুবাদী ইউরোপীয়দের কাছে সারাবিশ্বের সমগ্র জাতি মাথানত করলেও মুসলিমদের মাথা নিচু করা কাম্য নয়। কেননা, ইউরোপীয় মুসলিমদের রিজিকদাতা নয়। আমাদের রিজিকদাতা মহান রব৷ যার রিজিকের ভাণ্ডারে কোনো শেষ নেই।
মনস্তাত্ত্বিক বা ইউরোপীয়দের পা চাটা গোলামরা বস্তুজগতের বয়কটকে বিরূপভাবে উত্থাপন করে। তারা বোঝাতে চেষ্টা করে যে ইউরোপীয়রা আমাদের বয়কট করলে আমরা ভাতে মরব। তবে বাস্তবতা এর থেকে বহুদূর। ইউরোপীয়রা বস্তুজগতকে খোদা হিসেবে গ্রহণ করার পর সারাবিশ্বে তারা তাদের খোদায়ী দাওয়াত প্রচার করেছে। তারা দেখিয়েছে সভ্যতার শিখরে পৌঁছার একমাত্র পাথেয় হচ্ছে বস্তু। তাদের যুক্তি প্রত্যেকটা জাহিলি দর্শনে বৈধ্য থাকলেও ইসলামে এর কোনো বৈধতা নেই।
যারা বস্তুবাদী ইউরোপীয়দের খোদার আসনে বসিয়েছে তাদের সবসময় মনে রাখা দরকার যে, একসময় তাদের খোদা ইউরোপের কোনো অস্তিত্ব ছিল না। আর তারা যেই বস্তুর ইবাদত করছে তা আদতে ধ্বংসপ্রাপ্ত। বস্তুর নেশা মানুষের মানবিকতাকে কোত্থেকে কোথায় নিয়ে গেছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
ইসলাম ও বস্তুবাদের দর্শন সাংঘর্ষিক। বস্তুবাদের যাত্রা যেখানে বস্তু দিয়ে সেখানে ইসলাম শূন্য থেকে শুরু করার কেবল হিম্মতই রাখে না; শূন্য থেকে শুরু করে দেখিয়েছে। পৃথিবীতে বস্তুজগতের প্রতিষ্ঠিত সাম্রাজ্য থাকতে মুসলিম শূন্য থেকে শুরু করে সভ্যতার শিখরে পৌঁছে দেখিয়েছে। মুসলিমদের সভ্যতা ও সংস্কৃতির সমৃদ্ধি বস্তুর মাধ্যমে হয় না। আমাদের সভ্যতা ও সংস্কৃতি হয় ঈমান ও আমলের উপর। জাতিগতভাবে আমাদের যত তাকওয়া ও ইখলাসের বিকাশ ঘটবে আমরা তত সমৃদ্ধ হব। তবে ইলাহর আসনে বস্তুজগতকে বসিয়ে আমলের বিকাশ ঘটানো বেকার।
বস্তুজগতকে ইলাহর আসনে বসিয়ে আমলের বিকাশটা একটু পরিষ্কার করে বলছি। এই বিষয়টা অনেকটা ইবাদত করে আল্লাহর কাছ থেকে চেয়ে স্বীয় বস্তুজগত সমৃদ্ধ করা। যা আদতে ইউরোপীয়দের গোলামীই। আরেকভাবে ইউরোপীয়দের ইলাহর আসনে বসিয়েছে মুসলিমরা। যেমন, সাত ওয়াক্ত নামাজ পড়া ব্যক্তিটা ইউরোপীয়দের বয়কটে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে৷ নিজের বিশ্বাসের বস্তুটা ইউরোপীয়দের হাতে তুলে দিয়ে জমিনে পাঁচবার মাথা ঠুকাটা অনেকটা প্রশ্নবিদ্ধ। ইউরোপের গোলামী করে দিনে দশবার খাওয়ার চাইতে এক আল্লাহর গোলামী করে দিনে দু'বার খাওয়াই ভালো। এতে করে অন্তত আমাদের স্বকীয়তা বজায় থাকবে। আমাদের দিকে আঙুল তুলে কথা বলতে তাদের অন্তত দুবার ভাবতে হবে।
এত দীর্ঘ আলোচনার উদ্দেশ্য হয়তো অনেকে ধরে ফেলেছেন। ফ্রান্স বিরোধী আন্দোলনে অনেক পরাজিত মনমানসিকতার মুসলিমরা হীনমন্যতায় ভুগছেন। ভয় করছেন ইউরোপীয়রা বাংলাদেশকে ত্যাগ করলে এদেশের অর্থনীতি আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। যারা এমনটা ধারণা করছেন তারা মুসলিম ও বাঙালি দুই জাতি হিসেবেই কলঙ্কিত। কী করলেন বাঙালি হয়ে? এতদিনেও নিজের দেশের স্বতন্ত্র একটা অর্থনৈতিক অবকাঠামো তৈরি করতে পারলেন না? ধিক্কার জানাই আপনার এমন মনমানসিকতা। হুজুররা আন্দোলন করার সময় আপনি বলে উঠেন, হুজুররা জাকাত ফিতরার টাকায় খায়। মানুষের টাকায় পেট চালিয়ে দেশের অর্থনীতির কী বুঝবে। তবে আমরা বলি আপনারা ইউরোপীয়দের টাকায় খান। আপনারা এতটাই অক্ষম যে ইউরোপীয়রা বয়কট করতে পারে চিন্তা করে আপনার ঘুম হচ্ছে না।
মনস্তাত্ত্বিক দাসত্ব বা অর্থনৈতিক বন্দীদশা থেকে মুক্ত থাকা মুসলিমদের জন্য অতীব জরুরি। কারণ, এমন অবস্থা স্বীয় দ্বীনের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এখনকার অবস্থার কথাই চিন্তা করুন। ফ্রান্স রাসুল স.-এর অবমাননা করল কিন্তু আমরা তাদের পরিপূর্ণ বয়কট করতে পারছি না। ব্যক্তিগতভাবে করার প্রচেষ্টা থাকলে রাষ্ট্রীয়ভাবে করা সম্ভব হচ্ছে না। রাষ্ট্র ভীত হচ্ছে নিজেদের বয়কট হওয়ার চিন্তা করে। কেননা এদেশে মোটা অংকের অর্থনৈতিক যোগান আসে ইউরোপ থেকে। তন্মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পোষাক শিল্প ও রেমিট্যান্স। রাষ্ট্রীয়ভাবে যা করতে পারছি না সেটা ব্যক্তিগত ভাবে করে তাদের বিশাল ক্ষতি পৌঁছুতে পারব না। অন্তত ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের কিছুই করতে পারব। না তাদের অর্থনীতির মধ্যে কোনো ফাটল ধরাতে পারব। আর যদি আমরা আজ মনস্তাত্ত্বিক দাসত্ব থেকে মুক্ত থাকতাম আর আমাদের স্বতন্ত্র অর্থনৈতিক অবকাঠামো থাকতো তবে তারা বার বার ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ প্রকাশ করার দুঃসাহস দেখাতে পারত না৷ ইসলামী সাম্রাজ্য যত ছোটোই হোক না কেন এর বিশেষত্ব হচ্ছে সাম্রাজ্য ও সাম্রাজ্যের মানুষ স্বীয় স্বকীয়তা বজায় রেখেছে।
আল্লাহ সবাইকে বোঝার তৌফিক দান করুন।

মুসলিম ইউরোপ বয়কট
০ টি মন্তব্য      ৪১৬ বার পঠিত         

লেখাটি শেয়ার করতে চাইলে: