অনলাইনে আছেন

  • জন ব্লগার

  • ৪৮ জন ভিজিটর

শামখোলের ঠোঁট অভিনব যন্ত্র...

লিখেছেন Nazrul Islam Tipu বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর ২০২০
আমরা সবাই হাস দেখেছি। হাসের অন্যতম পছন্দের খাবার হল শামুক। শামুকেরও আবার বহু জাত আছে। হাস নিজের গলার সাইজ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। গলার নল দিয়ে যে আকৃতির শামুক পার হতে পারবে, চোখ বন্ধ করে তা খেতে থাকে। প্রাচুর্য পেলে এমন ভাবে খায় পুরো গলা জুড়েই শামুক ভর্তি থাকে। প্রবাদে আছে, 'হাস জিহ্বা উল্টিয়ে খাদ্য গলা পর্যন্ত পৌঁছেছে কিনা এটা দেখেই বুঝে নেয় যে, তার পেট ভরেছে!'
হাঁস আস্ত শামুকটাই খেয়ে নেয়, কি স্বাদ পায় জানি না। নিশ্চয়ই তাদের কাছে পুরো শামুকটাই বড় মজাদার! কেননা একটি শামুকের আশায় হাসকে পুকুরে বহুবার তাদের ব্যর্থ ঢুব দিতে দেখেছি। শামুকের খোলসের কারণেই হাস বেশী ডিম দিতে পারে। তবে আজকের বিষয় হাঁস নয়, হাসেরই জ্ঞাতিভাই শামুকখোল পাখিকে নিয়ে!
এটার ইংরেজি নাম 'Asian Openbill'. যার সরল অর্থ ফাঁকওয়ালা ঠোটের পাখি। বাংলায় শামুকখোল তথা শামখোল। এর অন্যতম পছন্দের খাবার হল শামুক। একটি বড় শামুকের আশায়, এরা অবিরাম খালে, বিলে, জলাশয়ের কাদায় উপুর্যপরি খোঁচাতে থাকে। খোঁচার গুঁতোয় যদি বাইন, শিং, মাগুর ঠোটের ফাঁক গলে পালিয়ে যেতে চায়, যাক! অত টেনশন নেয় না! তাই দৌড়াদৌড়ি হুলস্থুল করে পলায়নপর মাছের পিছনে ধাওয়া করার ধান্ধায় থাকেনা। কেননা তার চাই একটি আস্ত শামুক কিংবা ঝিনুক!
না! শামখোল হাসের মত পিচাশ প্রকৃতির নয়। হাসের মত তারা শামুকের আস্ত খোলস সহ খায়না। তাদের কাছে তাজা শামুকের মজাদার গোশতই বেশী প্রিয়। তাদের মননশীলতা ও শিল্পবোধ খুব দারুণ। শামুক-ঝিনুকের খোলসটা না ভেঙ্গে, সেটাকে অবিকল অবিকৃত অবস্থায় রেখে, খুব সুনিপুন ভাবে আস্ত গোশতটুকুই বের করে টুপুস করে খেয়ে ফেলে। শামুক ঝিনুককের শক্ত কপাট সে সহজেই খুলে ফেলতে পারে, এই ধরণের অভিনব দক্ষতা তাদের ঠোঁটের বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে!
মূলত আল্লাহ তাকে দিয়েছে এক যুতসই কারিগরি জ্ঞান। মানুষকে দা দিয়ে ভেঙ্গে-কেটে ঝিনুক থেকে গোশত আলাদা করতে হয়। সেখানে শামুক-খোল অদ্ভুত এক কারিগরি দক্ষতায় শামুক-ঝিনুক আবরণের কোন ক্ষতি না করে সহজেই গোশত বের করে ফেলতে পারে! এই যোগ্যতার দক্ষতার কারণেই সে কৌতুহলী ও চিন্তাশীল মানুষের কাছে ভাবনার বিষয়।
বিজ্ঞানীরা শামখোলের চোখ বন্ধ করেই তার সামনে ঝিনুক দিয়ে দেখেছে। সে খুব নিপুণতার সাথে এই কাজ দক্ষতার সাথে করেছে। উল্লেখ্য শামুক ও ঝিনুক দুটোর শারীরিক গঠন ভিন্ন ও কঠিন। তবুও শামখোল তার ফাঁকওয়ালা ঠোট দুটো ভিন্ন কৌশলে অভিন্ন লক্ষ্য হাসিল করতে পারে। এটা আরেকটা বিস্ময়! আগে বাংলাদেশের জলাশয় গুলোর আশে-পাশে শামুক-ঝিনুকের অগণিত খোলস পাওয়া যেত। এই কাজের মূল হোতা ছিল এই শামখোল। শামখোল একমাত্র পাখি যার সাথে কৃষক-চাষার কোন শত্রুতা নেই। কৃষকের ক্ষতি হয় এমন কোন কাজে তার সম্পৃক্ততা নেই।
শামুক কাদা পানিতে জন্মে, প্রচুর ডিম দেয়। তার বংশবৃদ্ধির হার ব্যাপক। গাণিতিক হারে বাড়ে। হাস ছোট শামুক খায়, শামখোল বড় শামুক খায়। কিছু মানুষের কাছেও শামুক কিন্তু প্রিয় প্রাণী, তারাও ভিন্নভাবে খায়। ভুল বুঝবেন না, ফিলিপাইনের মানুষ শামুক রান্না করে খায় আর বাংলাদেশের মানুষ শামুখের খোলস চূর্ণ করে, পানের সাথে চুনা বানিয়ে খায়! শামুক-ঝিনুক কদাকার প্রাণী কিন্তু উভয়টি মানুষের জন্য অর্থনৈতিক ভাবে উপকারী। জমিতে রাসায়নিক বিষ ব্যবহার করার কারণে, এখন আর বিলে শামুক জন্মায় না।
যে যেভাবেই শামুক খায় না কেন। শাম-খোলের কারিগরি জ্ঞান কিন্তু সবার চেয়ে শ্রেষ্ঠ। কেননা শাম-খোলের ঠোট দুটো পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সেভাবেই বানানো হয়েছে। নাস্তিকেরা বলে থাকে, পৃথিবীর ওসব এমনিতেই হয়েছে। কিন্তু আল্লাহ দাবী করেছেন, তিনি আল্লাহ "যিনি সৃষ্টি করে সবকিছু সঠিক কাঠামোতে আবদ্ধ করেছেন" আলা-২। আল্লাহর দাবী সত্য ও চিরন্তন। তার দাবীর সাথে বিজ্ঞানের কোন বৈপরীত্ব্য নেই। প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রয়োজনেই তিনি হাস ও শামখোল সৃষ্টি করেছেন। এসব প্রকৃতিকে ভারসাম্য রক্ষায় কাজ করে, যাতে করে পৃথিবীতে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্য সহকারে বসবাস করতে পারে।

শামখোল
০ টি মন্তব্য      ৪১০ বার পঠিত         

লেখাটি শেয়ার করতে চাইলে: