অনলাইনে আছেন

  • জন ব্লগার

  • ২৫ জন ভিজিটর

অধিকাংশ মানুষ ইতিহাস পড়ে আর ইতিহাস শোনে, কিন্তু খুব অল্প কিছু মানুষ ইতিহাস গড়ে......

লিখেছেন লাবিব আহসান সোমবার ২৭ জুলাই ২০২০

সত্যিকারার্থে, সমাজের সক্রীয় অংশ থাকে মাত্র ১৫% লোক। মূলত  এরাই সমাজের নেতৃত্বের আসনে থাকে। বাকি ৮৫% লোক সমাজের নিষ্ক্রীয় অংশ। এদের সম্পর্কে ইঞ্জিনিয়ার হিশাম আল তালিব তাঁর বিখ্যাত বই “ট্রেনিং গাইড ফর ইসলামিক ওয়ার্কার্স” বইয়ে লিখেছেন, “ ্রা অনেকটা ভেড়ার পালের মতো। কোথায় যাচ্ছে, কি জন্যে যাচ্ছে;  তাঁর কিছুই জানে না। জানার প্রয়োজনও অনুভব করে না।” সমাজ পরিবর্তনে এদের কোনো ভূমিকা থাকে। মাঝে মাঝে এদের বক্তব্য আমরা শুনতে পাই, “আমরা ভাই ছাপোষা মানুষ। এসব রাজনীতির ঝুট ঝামেলায় আমরা জড়াতে চাই না। আমরা নিজেরা কোনো রকম খেয়ে পরে বেঁচে থাকতে পারলেই হয়।”

 

 

শুনেছি, ইতিহাস কথা কয়। আজকের পৃথিবীর কর্মসূচি অতীত ইতিহাসেরই প্রতিধ্বনি। ইতিহাসের হাজারো অপরাজনীতি-অপশাসন এবং নির্মম ও নৃশংস ধ্বংসলীলাগুলোর মধ্যে নিকৃষ্টতার বিচারে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে ১২২০ সালের মধ্যএশিয়া এবং পারস্য অঞ্চল অধ্যুষিত খাওয়েরেজম সাম্রাজ্যের কালা-কানুন। অন্য দিকে, যে বীভৎস ঘটনা-দুর্ঘটনার মাধ্যমে সাম্রাজ্যটির পতন ঘটেছিলো তা যেমন অন্য কোথাও ঘটেনি। তেমনি চেঙ্গিস খানের হাজারো বিজয় অভিযানে যে নির্মমতার কথা আমরা জানতে পারি সেগুলোকে একত্র করলেও খাওয়েরেজমের নির্মমতার পিরামিডের উচ্চতা স্পর্শ করতে পারবে না। তাহলে প্রশ্ন হলো, চেঙ্গিস খান কেন খাওয়েরেজমের প্রতি এতটা বিক্ষুব্ধ ও ক্রোধান্বিত হয়ে পড়েছিলেন। দ্বিতীয়ত! মধ্যযুগের সবচেয়ে বৃহত্তম সাম্রাজ্যটির রাজা-বাদশাহ, আমির ওমরাহ এবং জনগণ এমন কি ভয়াবহ পাপ করেছিল, যার কারণে বিধাতার অভিশাপরূপে চেঙ্গিসীয় তাণ্ডবে সেখানকার সবকিছু তছনছ হয়ে গিয়েছিলো!

 

 

ইতিহাসবিদরা উল্লেখিত বিষয়াদি নিয়ে গবেষণা করে যে অনুসিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন তা হলো, মধ্যযুগে পৃথিবীর রাজনীতি একদিকে যেমন যুদ্ধ-বিগ্রহে ভরপুর ছিল। তেমনি সুশাসন ন্যায়বিচার এবং নীতি নৈতিকতাপূর্ণ রাজনীতি অর্থনীতি এবং সামাজিক বিধিব্যবস্থার কারণে বহু দেশে কিংবদন্তির শাসনব্যবস্থা চালু হয়েছিল। ফলে সুশাসন সমৃদ্ধ অঞ্চলে মধ্যযুগে যেসব জ্ঞান-বিজ্ঞান শিল্প-সাহিত্য এবং স্থাপত্যকলার চর্চা হয়েছে সেসব সুকীর্তির ঝলক বর্তমান আধুনিক সভ্যতাকেও বিস্ময়ে বিমূঢ় করে তোলে। অন্য দিকে, যেসব দেশে মানুষের অধিকার পদদলিত করা হয়েছে এবং জনগণ যখন পদদলিত থাকার মধ্যেই নিজেদের বেঁচে থাকার সার্থকতা খুঁজে পেয়েছে তখন সেসব স্থানে প্রকৃতির প্রতিশোধ নেমে এসেছে। কারণ প্রকৃতি মানুষের কিছু কর্ম কখনোই বরদাস্ত করতে পারে না। কোনো একটি মানুষ্যরূপী শ্রেণী বা জাতিগোষ্ঠী যখন পাশবিক আচরণ শুরু করে এবং অন্যান্য মানুষকে পশুবৎ ধ্যানজ্ঞান করে দমন পীড়ন চালায় এবং নির্যাতিতরা সেই পাশবিকতার কবলে পড়ে নিজেরাও পশু হয়ে যায় তখন প্রকৃতি সেই জনগোষ্ঠীকে বাঁচিয়ে রাখার প্রয়োজন অনুভব করে না। যার রসায়নে খাওয়েরেজম ট্র্যাজেডি ঘটেছিলো।


আমরা সমাজ পরিবর্তন করতে চাই। আমরা এই ঘুণে ধরা সমাজকে ভেঙ্গে ফেলে একটি নতুন সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাই। এজন্যই প্রয়োজন সেই ১৫% মানুষের কাছে পৌঁছানো। যাঁরা এই ঘুণে ধরা সমাজকে ভেঙ্গে একটি নতুন সমাজ ব্যবস্থা গড়ার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। যাদের উচ্চারণে প্রকম্পিত হবে সমাজ। বইবে নতুন এক ফল্গুধারা। ইতিহাসের পূর্বোক্ত জাতিগুলো ধ্বংস হয়েছে তাদের এই রাজনৈতিক নেতৃত্বের দেউলিয়াত্যে। সে জন্যই চাই সমাজের সেই সাহসী মানুষদের সামনে আনার প্রয়াস। যাঁদের সংস্পর্শে বাকি ৮৫% লেঅক স্বয়ংক্রীয়ভাবে পরিবর্তন হয়ে যাবে।

 

সমাজ ইতিহাস হিশাম আল তালিব
০ টি মন্তব্য      ৩৩০ বার পঠিত         

লেখাটি শেয়ার করতে চাইলে: