অনলাইনে আছেন

  • জন ব্লগার

  • ৩৩ জন ভিজিটর

বাংলাদেশে এসএসসি-এইচএসসি দুটোতেই গোল্ডেন পাওয়া ছেলেমেয়ের সংখ্যা খুব বেশি না; কিন্তু কেন?

লিখেছেন Muhammad Sajal শনিবার ০৬ এপ্রিল ২০১৯

বাংলাদেশে এসএসসিতে অনেকেই গোল্ডেন পায়, এইচএসসিতেও পায়, কিন্তু এসএসসি-এইচএসসি দুটোতেই গোল্ডেন পাওয়া ছেলেমেয়ের সংখ্যা খুব বেশি না। এর কারন এনএস করিডোর।
প্রতিটা এইচএসসি পরীক্ষায় একটা ন্যারো, স্লিপারি করিডোর থাকে। সংক্ষেপে সেটাকে আমরা এনএস করিডোর বলতে পারি।

এই করিডোরগুলো বানান শিক্ষাবোর্ড কর্তারা। রুটিন এমনভাবে সাজানো হয় যেন চার থেকে পাচটা পরীক্ষা আট থেকে বারো দিনের ভেতর হয়। এই পরীক্ষাগুলো সাধারনত হয় ডিসিপ্লিনারি ম্যান্ডেটরি সাবজেক্টগুলার। সায়েন্সের ক্ষেত্রে ফিজিক্স-কেমিস্ট্রি-বায়োলজি। এনএস করিডোর সেট করার পেছনে মূল টার্গেট হল এডমিশন টেস্টের কম্পিটিশনকে কিছুটা সিমপ্লিফাই করে আনা। 
আমাদের বেলায় রুটিনটা ছিল এমন-
৯ তারিখ ইংলিশ সেকেন্ড পেপার
১২ তারিখ ফিজিক্স ফার্স্ট পেপার
১৫ তারিখ ফিজিক্স সেকেন্ড পেপার 
১৭ তারিখ বোটানি
১৯ তারিখ জুলজি
এটা ছিল আমাদের বছরের এনএস করিডোর।

এবারেও এমন একটা করিডোর আছে।
২০ তারিখ, ২২ তারিখ, ২৪ তারিখ আর ২৭ তারিখ যথাক্রমে ফিজিক্স ফার্স্ট, সেকেন্ড, কেমিস্ট্রি ফার্স্ট, সেকেন্ড পেপার এক্সাম। ১৬ই এপ্রিল আইসিটি হওয়ায় ফিজিক্সের আগে ওরা তিনদিন বন্ধ পাচ্ছে যেকারনে ১৬ই এপ্রিলকে এনএস করিডোরে ধরছি না।
এনএস করিডোর হল এমন একটা সময় যার একটা ঘন্টা এদিক ওদিকে পুরো বারো বছরের পরিশ্রম পানিতে চলে যেতে পারে।

তুমি অনেক ভাল ছাত্র/ছাত্রী, জেএসসি- এসএসসিতে গোল্ডেন হোল্ডার, তুমি ২০-২২ তারিখে দুইটা ফিজিক্স ভাল দিয়ে প্রচুর কনফিডেন্ট হয়ে কেমিস্ট্রি ফার্স্ট পেপারে ঢিল দিয়ে বসলা, ২২ তারিখ রাতে পড়লা না, ২৩ তারিখ প্রচুর প্রেসার নিয়ে পড়া শেষ করলা কিন্তু ২৪ তারিখ হলে গিয়ে দেখলা অনেক কিছু মনে পড়তেসে না।
এই রকম সিচুয়েশান হতেই পারে।
অথবা, ২০,২২,২৪ তিনটা এক্সাম ফাটাফাটি দিলা কিন্তু শরীরের ওপর দারুণ লোড গেল, রাতে বেশ কয়টা দিন ঘুম কম হওয়ায় ২৬ তারিখ বিকাল থেকে তোমার মাথাব্যথা ধরলো, পরদিন এক্সামে তুমি এভারেজ একটা পারফরম্যান্স করলা, মার্কিং টাইট করা হল।
খেল খতম। গোল্ডেন মিস।

এই ধরনের এক্সামগুলার জন্য পরীক্ষার অন্তত ১৫ দিন আগে থেকে নিজেকে রোবটে পরিনত করা জরুরী।
নিজের ইচ্ছাশক্তিকে এমনভাবে নিয়ন্ত্রনে আনতে হবে যেন তুমি চাইলেই পড়তে বসতে পারো। মনের কোন ইচ্ছা তাতে বাধ না সাধতে পারে।
নিজের ঘুমের পরিমানটা অন্তত এক্সামের দুই মাস আগে থেকে কমিয়ে আনা উচিত, তা না পারলে স্বল্পপাল্লার ঘুমে নিজেকে এডজাস্ট করে নেয়া উচিত।
এক্সাম দিয়ে এসেই দুই ঘন্টার একটা ঘুম দিতে পারলে তোমার সন্ধ্যার পর পড়তে বসে নিজেকে অনেকটা ঝরঝরে লাগবে।

পরীক্ষা দিতে যাবার এক ঘন্টা আগে পনেরো মিনিট ঘুমিয়ে নিতে পারা একটা বাড়তি স্কিল বলে আমি মনে করি কিন্তু ইস্পাতের মত নার্ভ না থাকলে একজন সিনসিয়ার স্টুডেন্ট ঐ সময়ে ঘুমানোর কথা ভাবতে পারে না। আর একজন ক্লান্ত স্টুডেন্টের জন্য এই গ্যারান্টি দেয়া কঠিন যে আদৌ সে পনেরো মিনিট পর উঠতে পারবে কি না।

এনএস করিডোর তোমার জীবনে স্লিপ খাওয়ার একেবারে মোক্ষম জায়গা। নার্ভ হারিয়ে এনএস করিডোরের চারটা এক্সামের তিনটাই তুমি খারাপ দিয়ে বসতে পারো, যা শেষমেশ তোমার ইঞ্জিনিয়ারিং-ইউনিভার্সিটি লেভেল এডমিশনকে অসম্ভব জটিল করে তুলতে পারে।
তাই যারা এইচএসসিতে সাকসেস চাও, নিজের ঘুম আর নার্ভের ওপর এক্সট্রা কন্ট্রোল আনার চেষ্টা করো।

আমার নিজের একদিন ঘুমের গোলমাল হওয়ায় বোটানিতে সাত মার্ক রিটেনে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিলাম, ফিজিক্স সেকেন্ড পেপার আর বায়োলজি সেকেন্ড পেপার এক্সাম দিতে যাওয়ার আগে ঘুমের অভাবে প্রায় ঘোরের মধ্যে থেকে এক্সাম হলে ঢুকেছি, এমনকি ঢোকার আগে ব্রেইনে এতটাই প্রেসার মাউন্ট করেছিল যে মাথায় পুরো আধ লিটার পানি ঢেলে এরপর হলে ঢুকতে হয়েছে।

বাংলাদেশে প্রচুর ছেলেমেয়ে এনএস করিডোরের ট্র‍্যাপে পড়ে গোল্ডেন মিস করে।
নিজেকে ম্যানেজ করতে পারলে এনএস করিডোর সারভাইভ করা খুবই সম্ভব।
এখানে সবচেয়ে বড় কথা হল একটা পরীক্ষা খারাপ হলেও ভেঙ্গে না পড়ে পরের পরীক্ষাটা আরো ভালো দেয়া। এক্ষেত্রে তোমাকে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করবে নিজের দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মন। কোন মতেই ফোকাস হারানো যাবে না।
এক ঘন্টার জন্য ফোকাস নড়ালেই তোমার খেল খতম হয়ে যেতে পারে।


শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষা
০ টি মন্তব্য      ৩৮২ বার পঠিত         

লেখাটি শেয়ার করতে চাইলে: