অনলাইনে আছেন

  • জন ব্লগার

  • ৩৮ জন ভিজিটর

নতুন দলের আগমনি গুঞ্জন এবং কিছু কথা...

লিখেছেন জিবরান শনিবার ০৬ এপ্রিল ২০১৯

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে পদত্যাগকারী এবং বহিস্কৃত দুই নেতার তত্বাবধানে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এটি অবশ্য আরো আগে হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। ময়দানের অবস্থা যেমনটি উর্বর মনে করা হয়েছিল তেমনটি উর্বর না পেয়ে হয়ত এই বিলম্ব।

বাংলাদেশে নিবন্ধিত অনিবন্ধিত মিলে প্রায় সত্তরের উপরে রাজনৈতিক দল থাকলেও নতুন দলের উদ্যোক্তাগণ সেদিকে ফিরে না তাকানোর কারণে মনে করা হচ্ছে তাঁদের দল সামথিং স্পেশাল হবে। তাঁদের মূল স্পেশালিটি অবশ্য বেশ আগেই ডিকলার করা হয়ে গেছে এবং তা হলো ১৯৭১ সালে জামায়াতের ভূমিকার জন্য ক্ষমা চেয়ে জাতির নিকট পূতপবিত্র হয়ে বাংলাদেশের সংবিধানের মূলনীতির ভিত্বিতে ইসলাম কায়েমের পথে অগ্রসর হওয়া।

এটি অবশ্য মূলধারার ইসলামী আন্দোলন জামায়াতে ইসলামীর জন্য একটি প্লাস পয়েন্টও বটে। কারণ দলটির মূলধারার নেতৃবৃন্দ ৭১এ তাঁদের অবস্থানের যে ব্যাখ্যা দিয়ে, যতটুকু দুঃখ প্রকাশ করে বাংলাদেশের মু্ক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতাকে মেনে নিয়ে দেশের উন্নতি অগ্রগতিতে অবদান রেখে রাজনীতি করে যাচ্ছিলেন সে ব্যাখ্যা এবং দুঃখ প্রকাশ তাঁদের নিকট যথেষ্ট মনে হয়নি। আশা করা যায়, নতুনেরা সেক্যুলারদের চাহিদা মোতাবেক তাঁদের পূর্বসূরীদের পক্ষে ৭১ এর জন্য যথাযথ ক্ষমা চেয়ে নেবেন। ফলে জামায়াতের মূলধারার পাপও মোছন হয়ে যেতে পারে! যদিও সেক্যুলারদের নিকট এর কোন কানাকড়ি মূল্য নেই।

তবে নতুন দলটি গঠিত হলে ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য 'নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্যশীল সংগঠনিক শৃঙ্খলা' রক্ষার বিষয়টি তাঁরা কতটুকু মেনে চলতে পারবেন সে বিষয়ে যথেষ্ট সংশয় থেকে যায়। কারণ তাঁরা নিজেদের মতের কোরাবনী দিতে পারেননি বলেই দল থেকে সরে এসেছেন বা সরিয়ে দেয়া হয়েছে। আর যারা নিজেরা যেখানে নেতৃত্বের আনুগত্য করতে পারেননি, ধৈর্য ধারণ করতে পারেন নি। তারা কিভাবে আশা করতে পারেন তাঁদের অনুসারীরা তাঁদের যথাযথ আনুগত্য করবে? যথাযথ অনুগত্য ছাড়া আন্য কোন দল কল্পনা করা গেলেও ইসলামী আন্দোলনের কল্পনাও করা যায় না।

তাঁদের সামনে আরেকটি চ্যালেঞ্জ হবে অর্থনৈতিক। একটি দল দাঁড় করানোর জন্য যথেষ্ট পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন। জামায়াতে ইসলামীর প্রতি অনুগতরা প্রতি মাসে তাঁদের আয়ের একটি অংশ এমনভাবে দান করে থাকেন, যমনটি তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্য খরছের বাজেট রাখা হয় এবং সব খরছের আগেই তা দিয়ে থাকেন। তো! নুতন দলের কান্ডারীদের পক্ষে এই পর্যন্ত পরিচিতের মধ্যে যাঁদেরকে সক্রিয় দেখছি, তাঁরা যখন জামায়াতে ছিলেন তখন আনুগত্যে যেমন নিস্কৃয় ছিলেন তেমনি দানেও নিস্কৃয় ছিলেন।
সুতরাং তাঁদের নিকট থেকে মাল খসানো সম্ভব হবে বলে মনে হচ্ছে না। অবশ্য জামায়াতে ইসলামীতে ভাঙ্গনের উদ্দেশ্যে যদি তাঁদেরকে কোন মহল থেকে অর্থিক সহযোগীতা দিয়ে থাকেন তা ভিন্ন কথা।

বাংলাদেশের বর্তমান সমস্যা গণতন্ত্র উদ্ধার করা। দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই কেবল জনগণকে সাথে নিয়ে অধিকাংশ জনগণের সমর্থন পেলেই ক্রমান্বয়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠার কাজ করা যাবে ইনশাআল্লাহ্। এখন কথা হলো, যেখানে বাঘা বাঘা দলগুলো তথা বিএনপির মতো বড় একটি দল যারা দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় ছিলেন এবং রুট লেভেলে যাঁদের সংগঠন আছে তারা প্রহসনের নির্বাচিত সরকারের নিকট কুপোকাত। সে যায়গায় একটি দল থেকে কয়েকজন বের হয়ে কী করতে পারবেন এবং স্পেস কতটুকু পাচ্ছেন, সেটিও একটি বড় চিন্তার বিষয়। এ বিষয়ে কথা অবশ্য অনেক। আজ এ পর্যন্তই।

ইসলাম এবং ইসলামী আন্দোলন বুঝে যারা জামায়াতে ইসলামীর সাথে কাজ করে যাচ্ছেন তাঁরা কখনো হতাশ হন না। তাঁদের সামনে রয়েছে অতীত ইসলামী আন্দোলন এবং নবী-রসূল (আঃ) এর ইতিহাস। তাঁরা তাঁদের সাধ্যের মধ্যে কাজ করে আল্লাহর দরবারে হাত তুলবেন সাহায্যের জন্য। যে নামেই হোক আর যে অবস্থায়ই হোক, ইসলামী আন্দোলন চলতে থাকবে কিয়ামত পর্যন্ত এবং সৌভাগ্যবানেরা সঠিক আন্দোলন চিনে নিতে ভুল করবেন না, ইনশাআল্লাহ্। সুতরাং কে গেলো আর কে আসলো তা তাঁদের চিন্তার বিষয় হওয়া উচিৎ নয়। সমুদ্র থেকে উঠে যাওয়া পানিগুলো ঘুরে ফিরে ফের সমুদ্রেই ফিরে আসে, যদিও কিছু অপচয় হয়। অতীতের ইতিহাস তাই বলে।


জামায়াত
০ টি মন্তব্য      ৩৬৩ বার পঠিত         

লেখাটি শেয়ার করতে চাইলে: