অনলাইনে আছেন

  • জন ব্লগার

  • ৩৪ জন ভিজিটর

পহেলা বৈশাখ পালনে ইমান নষ্ট হয় না।

লিখেছেন তারিক মাহমুদ শনিবার ০৬ এপ্রিল ২০১৯

ইনু বলল : পহেলা বৈশাখ পালনে ইমান নষ্ট হয় না।

কথাটার সাথে আমি শ'ভাগ একমত। পহেলা বৈশাখ পালনে ইমান আসলেই নষ্ট হয় না। কারণ ইমান মানে তো বিশ্বাস। এটা নববর্ষের মত কোন কালচার পালনের মাধ্যমে নষ্ট হবার নয়।

কিন্তু নববর্ষ পালনের কালচারে যদি কোন পৌত্তলিক কর্ম বা ভিন্নধর্মের উপাসনার চর্চা হয় সেটা কবিরা গুনাহ বা শিরকের পর্যায়ে যেতে পারে। সেটা সত্যিই ইমানের খরার কারণ হবে।

নববর্ষ তো আমরা ইবাদাত হিসেবে পালন করি না। সুতরাং এটা বিদআত হবার কোন সম্ভবনা নেই। এটা শুধুই উৎসব। সুতরাং পালনের ধরণ অনুসারে এটা বৈধ, মাকরুহ বা হারামের পর্যায়ে যেতে পারে। তবে অপকর্মের পথ রোধ করার জন্য কোন মুফতি নির্দিষ্ট কোন সময়ে এটাকে হারাম ফতোয়া দিতে পারেন। সেটা শুধু সেই নির্দিষ্ট সময়, অবস্থা এবং জনপদে প্রযোজ্য হবে।

তো! ইনু মিয়ার কথার সাথে তাত্ত্বিকভাবে আমি একমত। বিষয়টা একটু হাস্যকর হয়ে গেল না!
আমি একজন ইসলামী বিষয়ের স্টুডেন্ট হয়ে ইনু মিয়ার সাথে মতের মিল খুজতে বসলাম কেন?

আমি আসলে খুজতে বসি নাই। স্যোশাল মিডিয়া খুললেই ইনু মিয়ার ফতোয়া আমাকে খুজে নেয়।

কথা হল, ইনু মিয়া কেন ফতোয়া দিতে আসলেন? তাকে এখানে ঢুকার পারমিশন দিয়েছে কে?

জবাব একেবারেই ক্ষুদ্র। আলেম-ওলামা এবং মুফতি সাবদের নির্লিপ্ততা তাকে খালি মাঠে গোল দেয়ার জন্য ডেকে এনেছে।

আলেম-ওলামারা কেন নির্লিপ্ত?
এটা আরো সহজ প্রশ্ন।
আলিয়া মাদরাসার আলেমরা সম্মানী দ্বিগুন করার সাথে সাথে নম নম শুরু করে দিয়েছিল। তাদের সিলেবাস থেকে জিহাদ বাদ দেয়া হয়েছিল। তারা বিড়ালের মত নিশ্চুপ মেনে নিয়েছে। 
কওমী আলেমদের বশে আনতে এত বেশি কিছু করার দরকার হয় নায়। তারা কিঞ্চিৎ দুনিয়া বিমুখ। তবে একটা দুনিয়াবি সার্টিফিকেট ধরায়া দেয়ার পর তারা জননীর দুগ্ধের ঋণ শোধ করার পথই খুঁজে পাচ্ছেন না। 
আরেক ধরণের আলেম-ওলামা আছেন। তারা নিজেদের কখনো আহলে হাদীস আবার কখনো সালাফী দাবী করেন। যদি আমি পরিষ্কার দেখছি তারা আহলে হাদীসের জ্ঞানগত মিনিং থেকে দূরে অবস্থান করছে এবং সালাফের পথে না হেটে বিভক্তির পথে মজে আছেন। তারা আবার সরকারী শক্তির বিরোধীতা করে পথে কাঁটা আনতে চান না।

এই যখন পরিস্থিতি!
ফতোয়া ইনু না দিয়ে কে দেবে?
আমাকে এক ভাই যাত্রাবাড়ী থানার কোন এক হিন্দু ওসির গল্প শুনিয়েছিল। সে শিবিরের লোক পেলেই নিন্দা করে বলত: এই তোদের দলে কয়জন হাজী আছেরে?!
হাজী এখন ইনু মিয়া। কমিউনিষ্ট দলে এখন হাজীর সমাহার। সুতরাং ফতোয়া তাদের কাছ থেকে আসা বিচিত্র কিছু নয়।

মুফতি ইনু মিয়ার সফল ক্যারিয়ারের রস উপভোগ করার ইচ্ছে পোষণ করে ইজাজত নিচ্ছি।


পহেলা বৈশাখ ইমান সংস্কৃতি ফতোয়া হাজী সাব
০ টি মন্তব্য      ৪৮৪ বার পঠিত         

লেখাটি শেয়ার করতে চাইলে: