অনলাইনে আছেন

  • জন ব্লগার

  • ২০ জন ভিজিটর

লঞ্চডুবিতে লাশের মিছিলঃ শেষ কোথায়?

লিখেছেন লাবিব আহসান মঙ্গলবার ৩০ জুন ২০২০
বাংলাদেশে আবারও লঞ্চডুবির ঘটনা ঘটেছে। এবার নিহতের সংখ্যা তিন ডজনের উপরে। ২৯ জুন সকালে সদরঘাটের শ্যামবাজার পয়েন্টে ময়ূর-২ নামের লঞ্চের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ডুবে যায় মর্নিং বার্ড লঞ্চ। নৌপুলিশের সিসি ক্যামেরায় রেকর্ড হওয়া দুঘর্টনার দৃশ্যতে দেখা যায়, সকাল ৯টা ১২মিনিটে ফরাশগঞ্জ ঘাট সংলগ্ন কুমিল্লা ডক এরিয়ায় ঘাট থেকে পেছন দিকে (ব্যাকে) যাচ্ছিল ময়ূর-২। এ সময় পেছনে থাকা মুন্সিগঞ্জ কাঠপট্টি থেকে আসা যাত্রীবোঝাই ‘মর্নিং বার্ড’ এর ওপর উঠে যায় দৈত্যাকার ময়ূর-২। মুহূর্তেই তলিয়ে যায় লঞ্চটি।
 
স্বাধীনতার পর সবচেয়ে বেশি নৌ দুর্ঘটনা ঘটেছে মেঘনা নদীতে। কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। মৃত্যুবরণ ছাড়াও অনেকেই পঙ্গু হয়ে গেছেন সারাজীবনের জন্য। একটি বেসরকারি সংস্থার তথ্য মতে, স্বাধীনতার পর মেঘনা নদীতে ছোট-বড় মিলিয়ে কমপক্ষে শতাধিক নৌ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ২০০৩ সালের ৮ জুলাই ‘এমভি নাসরিন’ ডুবে ৬৪১ জনের মৃত্যুর ঘটনা ছিল দেশের লঞ্চ দুর্ঘটনার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নৌ দুর্ঘটনা।
 
বার বার এ দুর্ঘটনা ঘটলেও সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের টনক নড়ছে না। দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও তা আলোর মুখে দেখে না। অনেক ক্ষেত্রে লঞ্চে মানা হচ্ছে না আইন। বেসরকারি সংস্থা কোস্ট ট্রাস্ট ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০০০ সালের ২৯ ডিসেম্বর ঈদুল আজহার রাতে চাঁদপুরের মতলব ষাটনল এলাকায় মেঘনা নদীতে ‘এমভি জলকপোত’ ও ‘এমভি রাজহংসী’ নামের দুটি যাত্রীবাহী লঞ্চের সংঘর্ষ হয়। প্রাণ হারায় রাজহংসীর ১৬২ যাত্রী। ওই সময়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ৭০০ যাত্রী ধারণক্ষমতার জলকপোতে ৭৮টির বিপরীতে ২৫টি লাইফবয়া (পানিতে ভেসে থাকার জন্য) ছিল। রাজহংসীতে ছিল ১৮টির পরিবর্তে ৮টি লাইফবয়।
 
২০০৩ সালের ৮ জুলাই ঢাকা থেকে লালমোহনগামী ‘এমভি নাসরিন-১’ চাঁদপুরের ডাকাতিয়া এলাকায় অতিরিক্ত যাত্রী ও মালবোঝাইয়ের কারণে পানির তোড়ে তলা ফেঁটে গেলে প্রায় ২ হাজারের বেশি যাত্রীসহ এটি ডুবে যায় মেঘনা নদীতে। এ দুর্ঘটনায় ১২৮ পরিবারের প্রধানসহ সরকারিভাবে ৬৪১ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। কিন্তু বেসরকারি হিসেবে লাশ উদ্ধার করা হয় প্রায় ৮০০। দুর্ঘটনার দুইদিন পর ভোলার মেঘনা পরিণত হয়েছিল লাশের নদীতে। লালমোহন ও চরফ্যাশনের প্রায় ৮ লাখ মানুষ জীবন হাতে নিয়ে উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিয়ে রাজধানীসহ সারাদেশে যাতায়াত করে থাকে। এসব মানুষ বাধ্য হয়ে লঞ্চে উঠলেও ভীত সন্ত্রস্ত থাকে।
 
 
২০০২ সালের ৩ মে চাঁদপুরের ষাটনল সংলগ্ন মেঘনায় ডুবে যায় সালাহউদ্দিন-২ নামের যাত্রীবাহী লঞ্চ। ওই দুর্ঘটনায় ভোলা ও পটুয়াখালী জেলার ৩৬৩ যাত্রী মারা যান। ২০০৬ সালে মেঘনা সেতুর কাছে ‘এম এল শাহ পরাণ’ লঞ্চ দুর্ঘটনায় ১৯ জন মারা যায়। ২০০৪ সালের ২২ মে আনন্দ বাজারে ‘এমভি লাইটিং সান’ লঞ্চ দুর্ঘটনায় ৮১ জন এবং ও ‘এমভি দিগন্ত’ ডুবির ঘটনায় শতাধিক যাত্রীর মৃত্যু ঘটে। এছাড়া ভৈরবে মেঘনা নদীতে এমএল মজলিসপুর ডুবে ৯০ জনের মৃত্যু হয়। ২০১১ সালের ২৮ মার্চ চাঁদপুরের বড় স্টেশন মোলহেড এলাকায় মেঘনা নদীতে দুটি লঞ্চের ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে যায় এমভি কোকো-৩ নামের একটি যাত্রীবাহী লঞ্চ।
 
 
কোস্ট ট্রাস্ট নামের একটি বেসরকারি সংস্থা সম্প্রতি তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, স্বাধীনতার পর নৌ-দুর্ঘটনা নিয়ে ২০ হাজার মামলা হয়েছে। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে প্রায় ২০০ মামলা। কিন্তু কারও কোনো শাস্তি হয়নি। এসব দুর্ঘটনা নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন হলেও কোনোটিই আলোর মুখ দেখেনি। এসব দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এগুলোতে পর্যাপ্ত লাইফবয়া ছিল না। এদিকে লঞ্চে আগুন লাগলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ‘কার্বন-ডাই অক্সাইড সিলিন্ডার’ রাখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু বেশিরভাগ লঞ্চে এ ব্যবস্থা নেই।

বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবি লাশের মিছিল স্বজনের আহাজারী বাংলাদেশে লঞ্চডুবির ইতিহাস ময়ূর-২
০ টি মন্তব্য      ৪৩১ বার পঠিত         

লেখাটি শেয়ার করতে চাইলে: