অনলাইনে আছেন

  • জন ব্লগার

  • ৩৫ জন ভিজিটর

ঢাকা শহরের প্রতিটি বিল্ডিং-ই এক-একটি সুপ্ত ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরি!

লিখেছেন Shahmun মঙ্গলবার ০২ এপ্রিল ২০১৯
৭৯ খ্রিস্টাব্দের কোনো একদিনের ঘটনা!
ইতালির কাম্পানিয়া অঞ্চলের কাছে অবস্থিত পম্পেই নগরীতে অন্যান্য দিনের মত স্বাভাবিক কাজ-কর্ম চলছে। পানশালায় মাতালরা মদ খেয়ে মাতলামো করছে। হাম্মামখানায় কেউ কেউ একত্রিত হয়ে গোসল করছে। শহরের রাস্তাগুলোতে বাচ্চারা হৈ-হুল্লোড় করে খেলাধুলা করছে। আর এই শহরটি যেকারণে বিখ্যাত সেই যৌনপল্লীগুলোতে কেউ কেউ আদিম খেলায় মেতে উঠেছে। এই শহরে আদিম খেলাটা শুধু নারী আর পুরুষের মধ্যেই হতো না। পুরুষে-পুরুষেও হত। শোনা যায়, সেই শহরে নাকি পুরুষদের নিয়েও যৌনপল্লী গোড়ে তোলা হয়েছিল।

যে যাই হোক, আমাদের আলোচ্য বিষয় সেটি নয়। আলোচ্য বিষয় হল, ছোট্ট এই নগরটির পাশেই ছিল সুপ্ত আগ্নেয়গিরি ভিসুভিয়াস। শহরের মানুষজন যখন তাদের নিত্য কাজে ব্যস্ত ঠিক সেসময় সুপ্ত এই ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরিটা জীবন্ত হয়ে উঠল। জীবন্ত হয়ে লাভাগুলো দিগবেদিক ছড়িয়ে পড়তে শুরু করল। শহরের ব্যস্ত মানুষজন আগ্নেয়গিরির জীবন্ত অবস্থা আঁচ করার আগেই চরম সত্যের মুখোমুখি হল। তাদের শহরের দিকে ধেয়ে আসতে শুরু করল জলন্ত লাভা! এই জলন্ত লাভার নিচে হারিয়ে গেল পম্পেই নামে এই শহরটি। যা প্রায় ২ হাজার বছর পর প্রত্নতাত্মিকরা মাটির নিচে আবিষ্কার করে।
 
হঠাৎ এই শহরের কাহিনি কেন শোনাচ্ছি! গত কিছুদিন থেকেই আমার মনে হচ্ছে, বাংলাদেশটা পম্পেই নগরীর অবস্থায় রয়েছে। কীভাবে? তার আগে বলে নেই, এনটিভি্র ভবনে আগুন লাগা সেই বিসিইসি ভবনের কথা। বিসিইসি ভবনে যখন আগুন লাগল তখন আমরা দেখেছি কীভাবে অসহায় মানুষগুলো ছাদের উপর থেকে লাফ দিয়ে আগুন থেকে বাচার চেষ্টা করেছিল। সেইদিন আমাদের দেশের ফায়ার সার্ভিসের অসহায় অবস্থা অবলোকন করেছিলাম।
 
এরপর আগুন লাগল, বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সে। আগুন লেগেছিল টপফ্লোরে। যা ছিল ২০ তলায়। আমরা দেখেছি ফায়ার সার্ভিস ২০ তলায় পানি না ঢেলে তার নিচের ফ্লোরগুলোতে পানি দিচ্ছিল। ফায়ার সার্ভিস বলেছিল, ওতো উপরে পানি দেওয়ার মত ক্যাপাসিটি আমাদের নেই। তাই নিচের ফ্লোরগুলোতে পানি দিয়ে তা ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করছি, যাতে সেগুলোতে আগুন ছড়িয়ে না পড়ে।
আমাদের ফায়ার সার্ভিসের ক্যাপাসিটির যে কী বেহাল দশা তা এই ঘটনার পর উপলবদ্ধি করা গেছে।
 
এরপর এল নিমতলির সেই ভয়াল রাত। মাত্র কয়েকমিনিটে ১২৪ টি প্রাণ শেষ। সেখানে ফায়ার ব্রিগেডের কিছু করার সুযোগও ছিল না। তারা লাশগুলোকে উদ্ধার করে সেগুলোকে কবরস্থ করার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছে মাত্র।
 
নিমতলির ঘটনার পর সরকার থেকে বলা হয়েছিল, পুরনো ঢাকা থেকে ক্যামিকেল ফ্যাক্টরি যা আছে সব সরিয়ে ফেলা হবে। কিন্তু তা শুধুমাত্র বক্তব্য মাত্রই ছিল। যা দরুন চকবাজার ট্রাজেডি। চকবাজারেও মাত্র কয়েক মুহুর্তে শেষ হয়ে গেছে অর্ধশতাধিক প্রাণ।
 
এরপর আগুন লাগল নিউমার্কেট এলাকায়। তারপর আগুন লাগল লালবাগ। এরপর আগুন লাগল বনানীর এফ আর টাওয়ারে। এফ আর টাওয়ারেও আমরা দেখেছি ফায়ার ব্রিগেডের ক্যাপাসিটির কী অবস্থা। ফায়ার ব্রিগেডের ক্যাপাসিটি যদি ভালো থাকত, তাহলে হয়তো মৃতের সংখ্যা ২৫ না হয়ে আরও কিছুটা কম হতো, কিছু পরিবার সর্বশান্ত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেত। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি।
 
আমরা সাধারণ মানুষরাও কমদোষি না। কিছু টাকা বেশি লাভের আশায় অবৈধভাবে বিল্ডিং বানাচ্ছি কিন্তু অগ্নি নির্বাপনের ব্যবস্থা রাখছি না।
 
এসব অবস্থা দেখে আমার মনে হচ্ছে, ঢাকা শহরের প্রতিটি বিল্ডিং-ই এক-একটি সুপ্ত ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরি। যে হারে আগুন লাগতেছে তাতে পম্পেই নগরীর মত ঢাকা শহরও হয়তো একদিন আগুন লেগে বিলিন হয়ে যাবে।

আগুন
০ টি মন্তব্য      ৫৫৭ বার পঠিত         

লেখাটি শেয়ার করতে চাইলে: