অনলাইনে আছেন

  • জন ব্লগার

  • ২২ জন ভিজিটর

একে পার্টির অস্বস্তির জয় এবং আগামীর তুরস্কের রাজনীতি।

লিখেছেন জিবরান মঙ্গলবার ০২ এপ্রিল ২০১৯

গতকাল অনুষ্ঠিত নির্বাচনে একে পার্টি সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে একনম্বর দল হলেও এই বিজয়টা দলের জন্য স্বস্তিকর নয়। কারণ, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহর ইস্তান্বুল এবং রাজধানী আনকারায় সিটি মেয়র পদে একে পার্টির হেরে যাওয়া সামনের দিনের বেশকিছু সংকেত বহন করে। আজ থেকে ২৫ বছর আগে ইস্তান্বুল ও আনকারায় ইসলামপন্থীদের জয়ের মাধ্যমে তুরস্কে ইসলামপন্থীদের বিজয়ের দ্বার উন্মোক্ত হয়েছিল, সে নির্বাচনে এরদোয়ান নিজেও ইস্তান্বুলের মেয়র হয়েছিলেন। এরপর থেকে টানা ৪ টি স্থানীয় নির্বাচনে এই দুই গুরুত্বপূর্ণ শহরের মেয়রশীপ তাদের হাতেই ছিল।

এ দুটো শহরে দীর্ঘদিন পর সেক্যুলারদের উত্থান নিঃসন্দেহে উদ্বেগের। যদিও আপাতত ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত আর কোন নির্বাচন হওয়ার সম্ভবনা নেই এবং প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের নেতৃত্বেই তুরস্ক চলবে তারপরও নানা শঙ্কা থেকেই যায়। এখন থেকেই জল্পনা-কল্পনা শুরু হবে আগামী প্রেসিডেন্ট ও সংসদ নির্বাচনের। ফলে এই কেন্দ্রীক নানা সমীকরণ শুরু হবে। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের জন্য সামনের এই দিনগুলো হবে খুবই চ্যালেঞ্জের।

অবশ্য নির্বাচনের হারার মূল কারণ অস্থিতিশীল অর্থনীতির বিষয়টি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান খুব ভালো করেই সনাক্ত করেছেন বলে মনে হয়ছে বিশেষ করে তার গতকালের নির্বাচন পরবর্তী বক্তব্যে। তিনি অর্থনীতিসহ পুরো তুরস্কের একটি সংস্কার (Reform) শুরু করার ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

সামনের দিনে পথচলাকে সহজ করতে হলে এই সংস্কারকে সফল করতে হবে এবং নির্বাচনের রাজনীতিতে নতুন পার্টনার খুজতে হবে। তাতে বিরোধী জোট থেকে দুয়েকটি দলকে কাছে টানতে হবে। যদিও বর্তমানের সমীকরণে এটা জটিল মনে হচ্ছে তবুও সাড়ে চার বছর বড় একটি সময়, এরমাঝে অনেক সমীকরণ বদলাবে।

একে পার্টির সাবেক নেতা বিশেষ করে আব্দুল্লাহ গুল ও আহমেদ দাওতুলু কতৃক নতুন দল খোলার আলোচনাও বাজারে কয়েকবছর ধরেই শোনা যাচ্ছে। আগামী নির্বাচনে এই ধরনের নতুন কোন সমীকরণও দেখা যেতে পারে।

তবে একটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়! যেকোন সমীকরণে ডানপন্থীদের কোন ভুলে (সে যেই দলই হোক) যদি সিএইচপি তথা সেক্যুলার ব্লক ক্ষমতায় আসে তা ডানপন্থী সবার জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারন হবে, ক্ষতি হবে তুরস্কের এবং স্বভাবতই পুরো মুসলিম বিশ্বেরও। যদিও আমি সেক্যুলার দলটির এককভাবে ক্ষমতায় আসার কোন লক্ষণ দেখি না কিংবা সম্ভবনাও নেই।

পাশাপাশি আগামী চার বছর পশ্চিমাদের প্রেসার খুববেশী মোকাবেলা করতে হবে তুরস্ককে। বিশেষ করে ২০২৩ সাল তথা তুরস্ক প্রজাতন্ত্রের ১০০ বছর পূর্তিতে পশ্চিমাদের সাথে নানা চুক্তির রফাদফার ব্যাপারটি রয়েছে।

সবমিলে নতুনভাবে চিন্তা করতে হবে সবাইকে। জনগন স্পষ্ট একটি মেসেজ দিয়েছে যে, সতর্ক হয়ে কাজ করতে হবে। যদি এই মেসেজ বুঝে কাজ করা হয় তবে আগামীর দিনগুলো সুন্দর হবে আর না হলে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে।

(বিশেষ দ্রষ্টব্য: এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলে ইস্তান্বুলে সিএইচপির প্রার্থী এগিয়ে আছে, তবে ৮৪ টি কেন্দ্রের ফলাফল রাজনৈতিক দলগুলোর আপত্তি থাকায় স্থগিত রয়েছে। ওগুলো আবার গণনা হবে। ফলে এখনো আনুষ্ঠানিক কাউকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়নি)


তুরস্ক
০ টি মন্তব্য      ৩৪০ বার পঠিত         

লেখাটি শেয়ার করতে চাইলে: