অনলাইনে আছেন

  • জন ব্লগার

  • ১৯ জন ভিজিটর

ইবনে সিনাদের কৃতিত্বের ইতিহাস জানাতে হবে উত্তরপ্রজন্মকে.......

লিখেছেন লাবিব আহসান রবিবার ২১ জুন ২০২০

ইবনে সিনা তাঁর আত্মজীবনীতে  লিখেছিলেন, “এমন বহু রাত অতিবাহিত হয়েছে যার মধ্যে আমি ক্ষণিকের জন্যও ঘুমাইনি। কেবল পড়াশুনা করেই রাতের পর রাত পার করে দিয়েছি।” সত্যি বলতে, জীবনের বেশির ভাগ সময়ই তিনি গবেষণা করতেন। ক্লান্তিতে যখন ঘুমিয়ে পড়তেন তখন অমীমাংসিত প্রশ্নগুলো স্বপ্নের ন্যায় তাঁর মনের মধ্যে চলে আসত। জ্ঞানের দরজা যেন খুলে যেত। হঠাৎ ঘুম থেকে উঠেই সমস্যাগুলোর সমাধান পেয়ে যেতেন।

 

মাত্র ১০ বছর বয়সেই তিনি পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা মুখস্থ করে ফেলেন। তাঁর জন গৃহশিক্ষক ছিলেন। তাদের মধ্যে ইসমাইল সুফি তাঁকে শিক্ষা দিতেন ধর্মতত্ত্ব, ফিকাহশাস্ত্র আর তাফসির। মাহমুদ মসসাহ শিক্ষা দিতেন গণিতশাস্ত্র এবং বিখ্যাত দার্শনিক আল না তেলি শিক্ষা দিতেন দর্শন, ন্যায়শাস্ত্র, জ্যামিতি, টলেমির আল মাজেস্ট, জাওয়াহির মানতিক প্রভৃতি। মাত্র ১৭ বছর বয়সে প্রভূত জ্ঞান তিনি লাভ করে ফেলেন। বিখ্যাত এই দার্শনিকের কাছে এমন কোনো জ্ঞান আর অবশিষ্ট ছিল না, যা তিনি ইবনে সিনাকে শিক্ষা দিতে পারবেন।

 

একবার বোখারার বাদশাহ নুহ বিন মনসুর এক দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হলেন। সব চিকিৎসক এই চিকিৎসায় ব্যর্থ হয়ে গেলো। ততদিনে ইবনে  সিনার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিলো সব জায়গায়। ইবনে সিনা বাদশাহকে সম্পূর্ণ সারিয়ে তুললেন। তাঁর খ্যাতি সময় দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে পড়লো। আরোগ্য লাভের পর বাদশাহ ইবনে সিনাকে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা করলেন।  কিন্তু ইবনে সিনা কেবল বাদশাহর দরবারের গ্রন্থাগারে প্রবেশ করে পড়াশোনার অনুমতি প্রার্থনা করলেন। বাদশাহ তাঁর প্রার্থনা মঞ্জুর করলেন।

 

 

এভাবেই ইবনে সিনা শাহী গ্রন্থাগারে প্রবেশের সুযোগ পান। গ্রন্থাগারের ভিতরে গিয়ে অবাক হয়েছিলেন সিনা। কারণ এমন সব বইয়ের সন্ধান তিনি সেখানে পেয়েছিলেন যেগুলো এর আগে কোনো দিনও দেখেননি এবং এরপরেও কখনো দেখেননি। প্রাচীন থেকে শুরু করে সব লেখকের বইয়ের অমূল্য ভাণ্ডার ছিল এই গ্রন্থাগার। সব লেখকের নাম তাদের রচনাসমূহের বিস্তারিত বর্ণনা তৈরির পর তিনি সেগুলো অধ্যয়ন করতে শুরু করেন। তিনি এই গ্রন্থাগারে এমনই পাগল হয়ে গিয়েছিলেন যে, নাওয়া-খাওয়ার কথা তার মনেই থাকত না। মজার বিষয় হলো মাত্র অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই ইবনে সিনা অসীম ধৈর্য একাগ্রতার সঙ্গে কুতুবখানার সব কিতাব মুখস্থ করে ফেলেন।

 

কিন্তু আফসোস! আজকের মুসলিম ইতিহাস থেকে আমাদের এ কর্মবীর, জ্ঞানসাধকদের মুছে ফেলার পায়তারা চলছে। আমাদের প্রজন্মকে  জানতে দেয়া হচ্ছে না তাঁদের জীবনী। আমাদের জানতে হবে এই গৌরবোজ্জ্বল অতীতকে। জানতে  হবে আমদের পূর্বপুরুষদের। আমরা একদিন জ্ঞান বিজ্ঞানে পৃথিবীকে নেতৃত্ব দিয়েছি। অন্ধকার পৃথিবীকে দেখিয়েছি আলোক মশাল। জানাতে হবে উত্তর প্রজন্মকে।


ইবনে সিনা জ্ঞান সাধক মুসলিম চিকিৎসা বিজ্ঞানী মুসলিম ইতিহাস আমাদের অতীত
০ টি মন্তব্য      ৩২৬ বার পঠিত         

লেখাটি শেয়ার করতে চাইলে: