অনলাইনে আছেন

  • জন ব্লগার

  • ১৬ জন ভিজিটর

আমার তুরস্ক ভাবনা...

লিখেছেন কহেন কবি সোমবার ০১ এপ্রিল ২০১৯

লিস্টে তুরস্কে অবস্থানরত অনেক পরিচিত মুখ আছেন। যাদের সাথে সরাসরি কখনো দেখা না হলেও অনেকবার কথা হয়েছে এমন কিছু প্রিয় মুখ।

আজকে তুরস্কে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হচ্ছে, এ নিয়ে এক এলাকায় একে পার্টি তথা প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের দলের প্রার্থীর এক আত্মীয়ের গুলিতে ইসলামিক পার্টি সাদেত পার্টির দুইজন সমর্থক নিহত হয়েছেন। (নিউজের সত্যতা জানিনা তবে যারা শেয়ার করেছেন বিশ্বস্ত)

অনলাইনে অনেক আগে থেকেই পরিচত মুখদের বিশেষ করে অনলাইনে দুই সমীকরণ থেকে কথা বলতে দেখেছি। এক পক্ষ এরদোয়ানের গুনগান গাইতে গাইতে এমন অবস্থায় নিয়ে যেতে ব্যস্ত যে কল্পনার বাইরে আর আরেকপক্ষ এরদোয়ানের বিপক্ষে গিয়ে অনেকটায় শুধু ভুলগুলো ধরিয়ে দিতে ব্যস্ত।

আমি এমন দুই পক্ষেরই সমর্থক আবার দুই পক্ষেরই বিরোধীও বলতে পারেন। এটা বলার কারণ হচ্ছে এমন ভাবনা নিয়ে সামনে আগালে আপানারা নিজেরা নদীতে কোন নৌকায় পা দিবেন বা কোন নদীর মাঝি তা একদিন ভুলে যাবেন।

এবার আসি দুইটি ভাবনা নিয়ে, ভুল না বললে আগে একবার এই দুইটি ভাবনা নিয়ে বলেছিলাম আবারো বলি,

প্রথম ভাবনা ছিলঃ বিশ্বের অধিকাংশ দেশের মূল ভোটারের অধিকাংশ ভোটারদেরই চাওয়া এমন যে, তাদের দেশজুড়ে শান্তি, দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা, জিনিসপত্রের দাম নাগালের ভেতরে থাকুক, ইত্যাদি।

আমাদের সবারই জানা, বর্তমান বিশ্বের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বা অন্যান্য সিদ্ধান্তের সবকিছুই পশ্চিমাদের হাতে বললে ভূল হবেনা। তাই প্রায় দেশের কর্ণধাররা (বিশেষকরে মুসলিম) যতই ক্ষমতাধর ব্যক্তি হোন না কেন প্রায় সবাই প্রথমে নিজের পিঠ বাঁচানোর কথা ভাবেন অর্থাৎ নিজ দেশের অর্থনীতি বা জনগণকে কিভাবে ভাল রাখা যায় তা ভেবে তারপরে সামনে চলো এমন নীতিতেই বিশ্বাস করেন। 
সেক্ষেত্রে আপনি যদি দেশের অধিকাংশ জনগণের চাওয়ার প্রতিফলন ঘটিয়ে দেশ চালাতে চান তবে প্রথমে নিজ দেশের জনগণের কথা বিবেচনা করবেন এটাই স্বাভাবিক। আর সেই চাওয়াগুলো বাস্তবায়ন করতে গিয়ে অনেকক্ষেত্রে আপনাকে পশ্চিমাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে যদি তা না করেন তবে তাদের হাতের ক্ষমতার শিকলে আবদ্ধ হয়ে আপনার দেশ বিভিন্ন অবরোধের মূখে পড়বে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে,পশ্চিমাদের সাথে সম্পর্ক বজায় রেখে (যতটুকু না হলেই নই) নিজের দেশের সার্বিক অবস্থা স্থিতিশীল রাখাটা গুরুত্বপূর্ন, না তাদের সাথে বিরূপ সম্পর্ক ? 
কোনটা বেশী গুরুত্বপূর্ন মনে হয়।

দ্বিতীয় ভাবনা ছিলঃ বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক চিন্তাধারা ক্ষেত্রবিশেষে ভিন্ন রকম। এমনটা হওয়ায় স্বাভাবিক, অস্বাভাবিক নই। উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে, আমাদের দেশের জনগণ যখন যাতায়াত ব্যবস্থায় ফ্লাইওভার চাচ্ছেন তখন অন্য দেশের মানুষ যাতায়াতের জন্য তাদের দেশে বিমান ব্যবস্থা চাচ্ছেন। 
এমনভাবে হিসেব করলে দেখা যাবে প্রত্যেক দেশের রাজনৈতিক দলগুলো তাদের দেশের জনগণ, দেশের প্রয়োজন ইত্যাদি মাথায় রেখে দলের পথচলার রূপরেখা এঁকে থাকেন।

এই পথচলার রূপরেখায় অবশ্যই আমি বা আমাদের ভাবনার প্রতিফলন ঘটার সুযোগ নেই। সহজ ভাষায় যদি বলি আমি বা আপনি যেহেতু সেদেশের নাগরিক নই সেহেতু আমার বা আপনার ভাবনার প্রতিফলন ঘটানো তাদের কাছে মূল্যহীন হবে এটাই স্বাভাবিক।

সে হিসেবে তাদের রাজনৈতিক চিন্তাধারার সাথে আমার বা আমাদের অনেকেরই ভাবনার পার্থক্য থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তাই তাদের এসব নিয়ে আমাদের এতটা ভাবনার প্রয়োজন আছে বলে আমার কাছে মনে হয়না। 
এজন্য যে, যখন আমরা এসব নিয়ে বলতে যাচ্ছি ঠিক তখনই দেখা যাচ্ছে, যে ব্যক্তিটি কিছুদিন আগে এরদোয়ানের গুনগান গাইলেন ঠিক তিনিই আজ তাঁর বিপক্ষে লিখতে বাধ্য হচ্ছেন।

 

আমার ভাবনাঃ চুপচাপ দেখে যান আর যারা ভাল কিছু করছেন, ইসলামের জন্য কিছু হলেও করছেন তাঁদের জন্য মন খুলে দোয়া করুন। নিজের ভাবনাগুলোর এতদ্রুত ইতি না টেনে নিজের ভাবনাকে আরো প্রশস্ত করুন।


তুরস্ক
০ টি মন্তব্য      ৩৩৯ বার পঠিত         

লেখাটি শেয়ার করতে চাইলে: