অনলাইনে আছেন

  • জন ব্লগার

  • ৩৮ জন ভিজিটর

পরিসংখ্যানের আড়ালে রাজনীতি হাসে...

লিখেছেন Sabina Ahmed রবিবার ০৭ জুন ২০২০

গ্রাফ দেখে তুই হোস না খুশি
আড়ালে তার রাজনীতি হাসে

বাংলাদেশ সরকার সেই মার্চ মাস থেকেই দেশে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত-সুস্থ হয়ে উঠা-মৃতের সংখ্যা সরকারী ভাবে রিপোর্ট করে আসছে। যেমনটি করে আসছে বিশ্বের প্রায় আরও ১৬০ টি দেশ। কিন্তু একমাত্র বাংলাদেশ সরকারের রিপোর্টিং এ যে গরমিলটা আছে তা অন্য কোন দেশের সরকারের রিপোর্টিং এ নাই।

আমি ইনফোমুলেটকে অনুরোধ করেছিলাম বাংলাদেশের রিপোর্টিং ট্রেন্ড নিয়ে একটা এনালিসিস করতে। এনলিসিসে যা উঠে এসেছে তাতে ডিজিটাল বিজ্ঞান সম্মত বাংলাদেশের সঠিক রূপটি বেরিয়ে এসেছে। অরিজিনাল পোস্ট এর লিঙ্ক কমেন্টে দিয়ে আমি অনুবাদটি এখানে দিলাম । অনুবাদটি আছে স্টার মার্ক করা লাইন দুটোর মাঝে। বুঝার সুবিধার্থে আমি সরলভাবে অনুবাদ করেছি। আর সেই সাথে নিজের কমেন্ট এর মাঝে যোগ করে দিয়েছি।


" কিছু সপ্তাহ আগে আমি বাংলাদেশে কোভিড-১৯ এ মৃত্যুর রিপোর্টিংয়ের এক অদ্ভুত প্রবণতার দিকে ইঙ্গিত করেছিলাম এবং ইঙ্গিত দিয়েছিলাম যে তারা সম্ভবত মৃতের সংখ্যা নিয়ে মিথ্যা বলছে বা লুকিয়ে রাখেছে।

বিশ্বের সব দেশের কোভিডএ মৃত "ক্রুড ফ্যাটালিটি রেট" (সিএফআর) আমরা ট্র্যাক করে যাচ্ছি।

ক্রুড ফ্যাটালিটি রেট = কোভিডে মৃতের সংখ্যা/ নিশ্চিত ভাবে কোভিডে আক্রান্তের সংখ্যা।, যা একটি শতকরা হিসাব, আমাদের মুলেট অ্যাপগুলি সময়ের সাথে এই শতাংশটি গতিশীলভাবে ট্র্যাক করে।

বাংলাদেশের রিপোর্টিং অনুযায়ী দেশটির সিএফআর শুরুতেই হাই, তারপর হঠাত ড্রপ, আর তারপর সেই নাম্বার নিচেই অবস্থান করেছে।

[ইনফোমুলেট যা বলছে না তা হচ্ছে বাংলাদেশে রিপোর্টিং এর কোন বিজ্ঞান সম্মত আগামাথা পাছাতলা নাই, যেভাবে মনে হয়েছে সেভাবে রিপোর্ট করেছে, ভাবাছে মৃতের সংখ্যা কম দেখালে বিশ্বে বাহবা কুড়াবে, ভুলেও ভাবে নাই আন্তর্জাতিক মানের সংস্থাগুলো তাদের এই শুভাঙ্করের ফাঁকি সহজেই ধরে ফেলবে]

আজ পর্যন্ত বাংলাদেশ ৬০,০০০ কেইস রিপোর্ট করেছে। কিন্তু মৃতের সংখ্যা এই রিপোর্টেড আক্রান্তের সংখ্যার তুলনায় অত্যন্ত কম। আর সে সাথে সিএফআর এর সংখ্যার কোন পরিবর্তন হয়নি।

[ সময়ের সাথে সাথে সিএফআর এর সংখ্যা বাড়ার কথা ছিল। কারন প্রতিদিন মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, আগের দিনের সংখ্যার সাথে পরের দিনের সংখ্যা যোগ হচ্ছে। কিন্তু সরকারী ভাবে সেসব মৃত্যুর কোন সন্ধান নাই। যেন অল অন এ সাডেন বাংলাদেশের কোভিডে মানুষ আক্রান্ত হলেও মরছে না, অথচ প্রতিদিন আমরা সাধারন জনগন মৃত্যু দেখছি। ]


বিশ্বের প্রতিটি অঞ্চলের সিএফআর একটা নির্দিষ্ট ট্রেন্ড ফলো করে, আর দক্ষিন এশিয়ার ট্রেণ্ড হোল এই গ্রাফটি মটামোটি ফ্ল্যাট। অন্যান্য দেশের তুলনামূলক চার্ট অন্তর্ভুক্ত করা হলো যেখানে কমন ট্রেন্ড ধরা পড়ে যেমন মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়া, ফিশ-হুক বিপরীতকরণ, তরঙ্গ-রূপ ইত্যাদি।

বাংলাদেশের সিএফআর চার্টের সম্ভাব্য কারণগুলো হলোঃ


১) বাংলাদেশ কোভিড কেইস সনাক্ত করতে সক্ষম হলেও মৃতদের সনাক্ত করতে অক্ষম।

২) মৃতের খবর জানার অসম্পূর্ণতা।

৩) মৃত্যুকে অন্যরকম কিছু বলে পুনর্বিবেচনা করে মিথ্যাচার করা বা দমন করা।

৪) বাংলাদেশ কোভিড১৯ সঠিক চিকিৎসা পেয়ে গেছে বিধায় মৃতের সংখ্যা হ্রাস পাওয়া।

বাংলাদেশের ডেমোগ্রাফিক বা এনভায়রেনমেন্ট এর কারনে মানুষ কম মরছে তা বলা যাবে না কারন বিশ্বের অনেক দেশের েডমোগ্রাফিক আর এনভায়রন্মেন্ট বাংলাদেশের মতন, কিন্তু তাদের সিএফআর ট্রেন্ড
বাংলাদেশের মতন নয়।

এই ভাইরাস একদম নতুন তাই এটা অবিশ্বাস্য যে বাংলাদেশ সঠিক চিকিৎসা দেয়ায় সেখানে মানুষ কম মরছে, তাই ৪ নম্বর কারন হওয়ার সম্ভাবনা নাই। এখানে মিরাক্যাল কিওর বলে কিছু এখন পর্যন্ত বের হয় নাই। হয়তো ১ আর ২ সম্ভব কারন সেখানে উপযুক্ত রিসোর্স নাই।

কিন্তু এও লক্ষ্য করা গেছে যে বাংলাদেশ সরকার ডাটা নিয়ে মিথ্যাচার করে রাজনিতিক নেতাদের সক্ষমতা হাইলাইট করার চেষ্টা করছে। । যা হচ্ছে কারন নম্বর ৩।

১, ২, ৩ কারন যেটাই হোক, বাংলাদেশের এক্টিভিস্ট, হেলথ কেয়ার এক্টিভিস্ট সবার উচিৎ সরকারকে প্রশ্ন করা কেন তারা এমন ভাবে রিপোর্ট করছে।"

[অবশ্যই কারন নাম্বার ৪ কোন ভাবেই বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য নয়, হলে আকাশে, বাতাস, পাতালপুরীতে শেখ হাসিনার জয়গানে ভরে উঠত। বিটিভি বাতাবি লেবুর জায়গায় রাতদিন বাংলাদেশের কোভিড চিকিৎসা প্রচার করত। আমি পুরাপুরি কারন ১, ২, আর ৩ সাথে এগ্রি করি। ]

ডিজিটাল বাংলাদেশের বিজ্ঞান সম্মত প্রগতিশীল জনগন এসব নিয়ে প্রশ্ন করবে না, করবে কেবল ধর্ম নিয়ে। হিসাব করবে কিভাবে কোরআন হাদিস বিজ্ঞান সম্মত নয়, কিভাবে বোরখা হিজাব পড়লে মাথা মোটা হয়ে যায়, বিজ্ঞান থেকে সরে যায়। অথচ চোখের সামনে জাজ্বল্যমান উদাহরণের মাঝ দিয়ে যাচ্ছে, ডাটা ম্যানুপুলেট করে হেইল সরকার হেইল সরকার দেখছে, নিজেদের ঘরে ঘরে করোনায় মানুষ ভুগছে, চিকিৎসার জন্য কোথাও জায়গা পাচ্ছে না। সেসবে ভ্রূক্ষেপ নাই।

আওয়ামী সরকার কখনই সঠিক সংখ্যায় বিশ্বাস করে না, করে অপপ্রচারে। সেই ৪৯ বছর আগে বিজ্ঞান সম্মত অনুসন্ধান ছাড়াই স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা বলেছে ৩০ লাখ, সেই থেকেই চলছে তাদের সংখ্যা নিয়ে ম্যানুপুলেশান আর রাজনীতি।


করোনা ভাইরাস গ্রাফ রাজনীতি
০ টি মন্তব্য      ৩৬৯ বার পঠিত         

লেখাটি শেয়ার করতে চাইলে: