অনলাইনে আছেন

  • জন ব্লগার

  • ২৫ জন ভিজিটর

টাকা জমাবেন যেভাবে...

লিখেছেন ইবনাত বৃহস্পতিবার ২৮ মার্চ ২০১৯

১) মাসের বাজার একসাথে করুন। যখন যা লাগবে তখন আনবেন না। কিছু জিনিস আগের মাসে কিছুটা বেচে গেলে ও পরের মাসে আবার কিনুন। ২/৩ মাস পরে দেখবেন এক মাস খুব অল্প বাজার করলেই হচ্ছে।
২)মাছ মাংস ১০ দিন পর পর কিনুন।
৩) সবজি কিনুন সপ্তাহে একবার।
৪) পুরো মাসের জন্য একটা খাবারের মেনু করুন।
৫) মেহমানের জন্য আলাদা বাজেট রাখুন। মেহমান কম আসলেও বেচে যাওয়া টাকা টা আলাদা করে রাখুন। পরে বেশি খরচ হলে ও মোটের উপর সব ঠিক থাকবে।
৬) মাসে ১/২ বার বাইরে খাবার বাজেট রাখুন। তাহলে যখন তখন বাইরে খাওয়া কন্ট্রোল করতে পারবেন। যদি কোন মাসে বাইরে যাওয়া না হয়, পরের মাসে আগের থেকে ভাল জায়গাতে যাবেন। বাইরে খাওয়া খুব একটা সাস্থ্য সম্মত নয় কিন্তু ।
৭) সারাবছরই আমাদের দাওয়াত থাকে বিভিন্ন। বেড কভার, ক্রকারিজ, শো পিছ কিনে ঘরে রাখতে পারেন। সময় মত কাজে লাগবে। prize bonds কিনে রাখা সব থেকে বুদ্ধিমান এর কাজ। সাথে সুন্দর কিছু ইনভিলাপ।
৮) ইদের সময় হাজার খরচ মাথায় এসে পড়ে। একমাত্র ভরসা বোনাস।ব্যাবসায়ীদের জন্য তো আরও ঝামেলা......প্রতি মাসে কিছু কিছু টাকা আলাদা করে রাখলে ইদের সময় ভাল সাপোর্ট পাওয়া যায়। ধরুন মাসে ৫০০ টাকা আলাদা করে রাখলে ১১ মাসে সেটা হয় ৫৫০০ টাকা। সেটা দিয়ে কিছু কেনা কাটা তো হয়েই যায়। ইদের খরচটা যদি মাসিক ইনকাম থেকে যোগাড় হয়ে যায় তাহলে বোনাস এর টাকাটা জমানো যায়।
৯) হাতে সামান্য কিছু টাকা আসলে আমরা এটা সেটা কিনি। ভাবি এই কয়েকটা টাকা জমিয়ে কি হবে! বিন্দু বিন্দু করেই সিন্ধু হয়। টাকা হাতে থাকলে খরচ হয়ে যায়???? ওকে তা হলে Prize bond কিনে রাখুন।
১০) মাসে একবারের বেশি শপিং এ যাবেন না।
১১) শুধু ঘোরার উদ্দেশ্য মার্কেটে গেলে টাকা/ card নিবেন না।
১২) কার্ড বাসাতে রাখুন। আর সাথে Emergency এর জন্য কিছু টাকা। হাতে টাকা বা কার্ড থাকলেই মনে হয় এই কিনি ওই কিনি।
১৩) বিকাশ/ রকেট এ খুব বেশি টাকা রাখবেন না। আপনার নিরাপত্তার জন্য ও ঠিক না, আবার থাকলে খরচও হবে।
১৪) সস্তা জিনিস কেনা থেকে বিরত থাকুন। সবসময় সস্তা জিনিস কিনলে দেখবেন আপনার জামাকাপড় জুতা ব্যাগ সংসারের সব সস্তা হয়ে যাচ্ছে । কম টাকায় জিনিস কিনলে তাতে যে টাকা বাচে তা না। দেখা যায় আমরা সস্তা বলে বেশি জিনিস কিনছি।
১৫) কয়েন জমান। এটা বাচ্চাদের মতো কাজ?? ছোট লোক?? জি না... ২/৩ বছর পর দেখুন কত হল। কিছু না করেই দেখুন ৩/৪ হাজার বা তার থেকেও বেশি জমিয়েছেন।
১৬) হাসবেন্ডরা ওয়াইফ কে সাধ্যের মধ্যে gold gift দিন। টাকা টার ৮০% ই থাকছে। খুব দামি একটা শাড়ির কিছুই কিন্তু থাকছে না। ৩ আনা তেই চেন হয়। এক আনা তেই কানের টপ। ওগুলোর gold ভালো না?? কিন্তু gold এর জিনিষের রঙ তো আর উঠে না। gold এর আসল হল রিসিট। রিসিটে যা লিখা থাকবে সেটাই হল আসল। যে দোকান থেকে কিনেছেন প্রয়োজন তাদের কাছে যান রিসিট দেখে টাকা দিবে। তবে ডায়মণ্ডের কিন্তু কোন রিসেল ভ্যালু নেই। অনেকেই বলবে আছে বেচতে গেলে বুঝবেন।
১৭) বাচ্চাদের নিয়ম করুন মাসে একবারের বেশি গিফট না।
১৮) garments product বাংলাদেশে খুব ভাল পাওয়া যায়। বিখ্যাত সব ব্রান্ড এর কাপড় পাওয়া যায়। তাই বাচ্চাদের জন্য এইগুলা কিনুন। দামে সস্তা জিনিস ভাল, স্টাইলিশ।
১৯)আমার মনে হয় online শপিং এ ও টাকা বাচে। মার্কেট এ যেয়ে কিছু না কিনলেও যাওয়া আসা একটু খাওয়া দাওয়ায় হাজার টাকা নাই হয়ে যায়।
২০) সুপারশপে বাজার না করে এলাকার মুদি দোকানে বাজার করলে বেশ কিছু টাকা সেভ হয়। VAT দিতে হয় না গায়ে লিখা দাম থেকে কিছু কম রাখে, আর সব থেকে বড় কথা সুপার সপে এর র‍্যাকে সাজান জিনিস দেখলে মনে হয় এই কিনি ওই কিনি দরকার না থাকলেও এটা সেটা কেনা হয়ে যায়। কাল এক নিউজে দেখলাম একজন সুপারশপ থেকে ২৫০g চেরি ২৫০/৩০০ টাকা এমন কি এক দামে কিনে নিয়ে গেছে। বাসাতে যেয়ে দেখে চেরি টমেটো। প্যাকেটের গায়ে চেরি লিখা দেখে কিনেছেন।
২১) প্রমশনাল অফারের ফ্রি জিনিস যদি কাজের জিনিস হয় তো একটু বেশি করে কেনা যায়।স্যুপের সাথে বাটি ফ্রী.... ওই বাটি কি আমার/ আপনার কোন কাজের জিনিস??
২২) টাকা ধার করা থেকে বিরত থাকুন। ধার থাকলে ইনকামে বরকত পাওয়া যায় না। নিজের আয়ের মধ্যেই চলার চেস্টা করুন। তারপরও কেউ টাকা পেলে না খেয়ে হলেও আগে ধার শোধ করে নিন। যাকে তাকে টাকা ধার দিবেন না।
২৩) ইনকাম এর একটা অংশ long term DPS করুন ।প্রয়জনে খুব অল্প টাকার DPS করুন, কিন্তু করুন।

লেখাটা মধ্যবিত্ত এবং হিসাবি মানুষের জন্য। যাদের সৎ এবং কষ্টের টাকাতে চলতে হয় তাদের জন্য। অতি বড়লোক এবং অন্যকে ফকিন্নি ভাবার মানসিকতা যাদের তারা ignore করুন।


সংসার
০ টি মন্তব্য      ৪১১ বার পঠিত         

লেখাটি শেয়ার করতে চাইলে: