অনলাইনে আছেন

  • জন ব্লগার

  • ২৫ জন ভিজিটর

শায়েখ মতিউর রহমান মাদানীকে নিয়ে একটি গবেষণাধর্মী পর্যালোচনা...

লিখেছেন জিবরান বৃহস্পতিবার ২৮ মার্চ ২০১৯

ইদানিং মাওলানা মাদানী অনলাইন জগতে খুব বেশি সমালোচনার পাত্র হয়েছেন। তাঁর পক্ষে বিপক্ষে অনেক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। মাওলানা মাদানী একজন ভালো আলিম, এতে কোন সন্দেহ নেই। শিরিক বেদআতের বিরুদ্ধে উনি খুব বেশি সোচ্চার। আর এই জন্য তাঁর সাথে আমাদের মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও তাকে যথেষ্ট সম্মান ও শ্রদ্ধা করে আসছি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য , আমি যেদিন থেকে তাঁকে চিনি সেই দিন থেকে আজ পর্যন্ত মুসলমানদের ঐক্য নিয়ে তার সামান্য ভূমিকা আমি দেখিনি। বরং মুসলমানদেরকে বিভিন্ন দলে উপদলে বিভক্ত করতে তাঁর লেকচার ভূমিকা রাখছে প্রচুর।

তাঁর চিরচারিত একটা অভ্যাস হচ্ছে নিজের সিলসিলার বাহিরে সবাইকে গোমরাহের অন্তর্ভুক্ত করা , তাঁর পথ ও মত যে গ্রহণ করবে না সেই গোমরাহ। ভারত উপমহাদেশে এমন কোন বিজ্ঞ আলেম নেই, যিনি তার আক্রমণ থেকে রক্ষা পেয়েছেন। মাওলানা রশিদ আহমদ গাংগুহী, হোসাইন আহমদ মাদানী, আশরাফ আলী থানবী, সাইয়েদ আবুল আ'লা মওদুদী আহমদ শফী, আল্লামা সাঈদীসহ এমন কোনো আলিম বাকি নেই যিনি তাঁর আক্রমণের শিকার হননি। 

কারো মধ্যে সত্যিকারের কোন ভুল থাকলে সেটা নিয়ে আলোচনা করা কোনো যুগে নিষিদ্ধ ছিল না। কিন্তু সমালোচনার একটা নিয়ম ও পদ্ধতি রয়েছে। একজন দীনের দায়ীর প্রথম ও প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, কারো ভুল নিয়ে আলোচনা করলে তার মান-সম্মান ও মর্যাদার দিকে সর্বোচ্চ নজর রেখে তার ভুল নিয়ে আলোচনা করা এবং এই আলোচনা শুধুমাত্র ভুলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা । বুক ভরা ভালবাসা নিয়ে মাধুর্য ও সাবলীল বাসায় যুক্তি দিয়ে কথা বলা। কিন্তু মাওলানা মাদানীর ক্ষেত্রে এটা ষোল আনাই অনুপস্থিত। বরঞ্চ তিনি আলেমদের নিয়ে যেভাবে ব্যঙ্গাত্মক কথাবার্তা বলেন এবং মুখ ভেংচিয়ে টিটকারী মারেন, তা আল্লাহর কসম কোনো দীনের দায়ীর বৈশিষ্ট্য হওয়া তো দূরের কথা এইরকম ভেংচি মারা কোন সাধারণ মুসলমানের জন্যও জায়েজ হতে পারে না। এসব ব্যঙ্গাত্মক কথাবার্তা তিনি তার নিজের জন্য উপযুক্ত মনে করলেও আমাদের শুনতে লজ্জা লাগে এবং আমরা এসব টিটকারি কথাবার্তা তার মর্যাদার ফেলাফ মনে করি।

তিনি বিশ্ব বিখ্যাত মুফাসসির আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে জঘন্য মিথ্যাচার করে ভিডিও করে ইউটিউবে ছেড়েছেন। জামাত-শিবিরের বিরুদ্ধে অনর্গল কথা বার্তা বলে যাচ্ছেন কিন্তু তারপরও আমরা দীনের বৃহৎ স্বার্থে নীরবে সব সহ্য করছি। কিন্তু যত দিন যাচ্ছে তত তিনি মুসলমানদের ঐক্য নষ্ট করার জন্য বেপরোয়া হয়ে উঠছেন।
ইদানিং কিছুদিন থেকে তিনি মাওলানা সাইয়্যেদ আবুল আ'লা মওদুদী (রহ.)-এর বিরুদ্ধে এত জঘন্য মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন, তা বলতেও আমাদের রুচিতে বাধে। আমরা একটা একটা করে তাঁর সব মিথ্যাচারের জবাব দিয়েছি। এসব মিথ্যাচার ও তাঁর আচার-ব্যবহারে এটা দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, তিনি মুসলমানদের শুভাকাঙ্ক্ষী হয়ে এইসব কাজ করছেন না বরং একটা নির্দিষ্ট গুষ্টিকে খুশি করার জন্য কারো এজেন্ট বাস্তবায়ন করতে মাঠে নেমেছেন।

এতদিন আমরা দ্বীনের স্বার্থে তার ব্যঙ্গাত্মক ও বিদ্বেষী কথাবার্তা ও মিথ্যাচারগুলো নিরবে হজম করে নিয়েছি। এখন ওই দীনের স্বার্থেই আমরা তার বিরুদ্ধে কলম ধরেছি। অনেক আহলে হাদিস দ্বীনি ভাই বলেন যে, মাওলানা মওদুদীর ভুল ধরার কারণে আমরা তার প্রতি ক্ষেপেছি এবং তাঁর সমালোচনায় লিপ্ত হয়েছি। দ্বীনি ভাইদেরকে বলব, এটা আপনাদের সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। আল্লাহর কসম তার সাথে আমাদের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক কোন শত্রুতা ও হিংসা বিদ্বেষ নাই।

শায়েখ কামাল উদ্দিন জাফরীসহ বাংলাদেশের সম্মানিত আলেমগণ আজ কওমী-আলিয়া , হানাফী- আহলে হাদিস, সবার মধ্যে একটা ঐক্য সৃষ্টি করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং আমাদের দূরত্ব আলহামদুলিল্লাহ অনেকটা কমিয়ে এসেছে। ঠিক সেই মুহুর্তে কেউ আমাদের ঐক্য ফাটল সৃষ্টি করার চেষ্টা চালালে এবং আমাদের মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টি করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলে তাকে কোন অবস্থায় ছাড় দেওয়া যায় না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "মুসলমানদের মাঝে যে ব্যক্তি অনৈক্য সৃষ্টি করতে আসবে সে যেই হোক না কেন তোমরা তাকে হত্যা করে ফেলবে। (সুনানে নাসায়ী হা 4020 )

তাই আজ গোটা মিডিয়া তার বিরুদ্ধে সোচ্চার। বাংলাদেশে মধ্যমপন্থী এমন একজন আলিম পাওয়া যাবে না যিনি তাঁর এই মানহাজকে সমর্থন করেছেন বা করে যাচ্ছেন। আহলে হাদিসের দ্বীনি ভাইদেরকে বলব, আপনারা মাওলানা মাদানীর লেকচার শুনুন, তাকে ভালোবাসুন আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু শুধু এতটুকু অনুরোধ, অন্তরে আল্লাহর ভয় নিয়ে নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে তার হিংসা-বিদ্বেষ , অহংকার ও কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তাগুলো নিয়ে একটু ভেবে দেখবেন যে, তিনি কি আসলেই মুসলমানদের ঐক্যের পক্ষে কাজ করছেন না আরো বিভাজন সৃষ্টি করে মুসলমানদেরকে বিভিন্ন দলে উপদলে বিভক্ত করছেন? সমালোচনার ক্ষেত্রে তিনি যে নীতি অবলম্বন করছেন সেটা কি কুরআন-সুন্নাহ সমর্থিত, না সলফে সালেহীনদের রীতি সম্মত নাকি এটা মূলত তাঁর মনের আক্রোশ ও হিংসাত্মক মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ?

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সত্য বুঝার তৌফিক দান করুন এবং সমালোচনার ক্ষেত্রে সালফে সালেহীন যে নীতি অবলম্বন করেছেন , সেই নীতি আমাদেরকে অবলম্বন করার তৌফিক দান করুন । আমিন।


মতিউর রহমান মাদানী
০ টি মন্তব্য      ৯৫৮ বার পঠিত         

লেখাটি শেয়ার করতে চাইলে: