অনলাইনে আছেন

  • জন ব্লগার

  • ২৩ জন ভিজিটর

গাড়ীতে বসেই বোখারী শরীফ খতম!

লিখেছেন Nazrul Islam Tipu বুধবার ২৭ মার্চ ২০১৯

কোম্পানির গাড়ীতে করেই কাজে যোগ দিতে হয়। একই গাড়ীতে বিভিন্ন দেশের মানুষ থাকে। সাত সকালেই প্রায় সবার কানে হেড ফোন লাগানো থাকে। আমি এই সময়টাকেই একটু গুরুত্বপূর্ণ কাজে লাগিয়ে ছিলাম। মোবাইলে বোখারী শরীফ ইন্সটল করা ছিল। প্রতিদিন দশটা করে হাদিস পড়তে থাকলাম। যদিও আমার বাসা থেকে কাজের দূরত্বে আরো বেশী পড়া যেত, তারপরও দশটাই পড়তাম। তার মধ্য থেকে একটি হাদিস পরিচিতদের মাঝে হোয়াটর্স অ্যাপে শেয়ার করতাম।

আলহামদুলিল্লাহ, এভাবে ৮০০ শত দিনে তথা প্রায় দুই বছর দুই মাসে, পুরো বোখারী শরীফের প্রায় সাড়ে সাত হাজার হাদীস গাড়ীতে বসেই খতম করতে পেরেছিলাম। তাও প্রায় এক বছর হতে চলল। বাসায় ফেরার পথে মোবাইলে অন্য কোন একটি বই পড়তাম। এভাবে বহু বই পড়া হয়ে গেছে। মাঝে মধ্যে আফসোস লাগত, ইস! যদি দূরত্বটা একটু বেশী হত, তাহলে আরো বেশী পড়া যেত।

আমি বিনয়ের সাথে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি, গৌরবান্বিত হয়ে খুশীর জোড়ে আত্ম প্রচার করার জন্য কথাটা লিখি নি। যারা আমাকে চিনে তারা জানে যে, আমি যা লিখেছি তা যতটুকু পড়ি তার চেয়ে কমই লিখেছি। কথাটা এ কারণে বললাম, আমি কোনদিন মাদ্রাসায় পড়িনি কিন্তু আগ্রহ আমাকে বেগবান করেছে। সেটা অন্যদের ও সৃষ্টি হতে পারে তাই কেউ যাতে অনুপ্রাণিত হতে পারে এই প্রত্যাশায় লিখা। একজন মানুষের সদিচ্ছা থাকলে অনেক কিছুই করা সম্ভব হয়। আমরা যদি একটু সময় বের করে নিতে পারি তাহলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজের আঞ্জাম দেওয়া যায়।

আরবি পড়তে না পারলেও যদি বাংলাটাও পড়া যায়, তাহলেও হাদিসের কথা অন্তরে বিরাট প্রভাব সৃষ্টি করে। ওয়াজ নসিহতের বাংলা বয়ানগুলো তার বড় প্রমাণ। আমরা তো বহু কাজের জন্য সময় বের করে কাজের সমাধা করি। তাহলে একটু সময় বের করার চেষ্টা করছি না কেন? যেটা আমাদেরকে মানুষ বানাবে, অন্তরকে পরিশুদ্ধ করবে এবং মহাবিশ্বের মালিকের কাছাকাছি পৌঁছাবে।

শুরুর দিকে, বিনা অনুমতিতে মোবাইলে হাদিস পাঠাতাম। কেননা তাদের সাথে আমার আন্তরিক যোগাযোগ ছিল। কিছুদিন পরে সবার কাছে ম্যাসেজ পাঠালাম এই বলে যে, আমার এই কাজে কেউ বিব্রত-বোধ করলে, যাতে করে আমাকে জানায়। আমি ব্যাথাহীন চিত্তে হাদিস পাঠানো বন্ধ করে দেব। কপালে দাগ পড়া সার্বক্ষণিক নামাজী হিতাকাঙ্ক্ষী আমাকে একাজ না করার জন্য অনুরোধ করে! তিনি যখন টয়লেটে থাকে তখনই আমার হাদিস তার মোবাইলে ঢুকে পড়ে। এই কবিরা গুনাহ থেকে তাকে যেন নিস্তার দেই! এমন কয়েকজন উচ্চ শিক্ষিত মানুষ অসন্তোষ প্রকাশ করল, যারা কথা কথায় উপদেশের ফুলঝুড়ি উপহার দেয়। আমার ধারণা ছিল এসব হাদিস তাদের উপদেশের গতিকে আরো বেগবান করবে! কিন্তু তাদের এই উপলব্ধির ধারণা শুনে আমি যেন আসমান থেকে পড়লাম! অবশেষে কাজটি বন্ধই করে দেই! শুধুমাত্র স্ত্রী আর পুত্রের মাঝেই কাজটি সীমাবদ্ধ করে নিই।

অতঃপর এমন কয়েকজন মানুষ হাদিস পাঠাবার জন্য অনুরোধ অব্যাহত রাখে, যাদেরকে দৃশ্যত কেউ ভাল মানুষ ভাবে না! বাকী বেশীর ভাগ মানুষ প্যারালাইসিস রোগীর মত, আগ্রহ-অনাগ্রহ কোনটাই দেখায় নি। মৌনতাই সম্মতির লক্ষণ অর্থাৎ না পাঠালেই, ল্যাঠা চুকে যায়। এটা বদনাম কিংবা গোস্বার জন্য বলিনি। একটি মূল্যায়ন বুঝার জন্য লিখা। বাহ্যিক ভাবে আমি যাকে মু'মিন ভাবছি সে হয়ত চরিত্রে ভিন্ন; আবার যাকে ফাসিক ভাবছি সে হয়ত অন্যদিকে ভাল। সে বিচার তো আল্লাহর হাতেই। তবে, হাদিস পড়ে আমি উপকৃত হয়েছি, আমার জ্ঞানের চোখ খুলেছে, আমার মন প্রশান্তি পেয়েছে। আমি অনেক ভাল আছি, আলহামদুলিল্লাহ বেশ ভাল আছি। এই ভালো যাতে অনেকে উপভোগ করতে পারে, তাই সবার প্রতি সনির্বন্ধ আহবান, অন্তত একটি হাদিস পড়ুন, সেটিই পরিবারকে শুনান। সকলেই ভাল থাকুন।


বোখারী শরীফ
০ টি মন্তব্য      ৪৩৪ বার পঠিত         

লেখাটি শেয়ার করতে চাইলে: