অনলাইনে আছেন

  • জন ব্লগার

  • ৩৬ জন ভিজিটর

নাযারবায়েভ এর পদত্যাগ: কিছু উপলব্ধি ...

লিখেছেন Muhammad Noman বুধবার ২০ মার্চ ২০১৯

কাজাখিস্তানের প্রেসিডেন্ট নুর সুলতান নাযারবায়েভ দীর্ঘ ৩০ বছর দেশটির প্রেসিডেন্ট থাকার পর পদত্যাগ করেছেন। ১৯৯০ সাল থেকে ২০১৯ পর্যন্ত একটানা লৌহ হস্তে শাসন করেছেন। কিন্তু শাসনক্ষমতা তার দলেরই আরেক নেতার হাতে ন্যাস্ত করে যাচ্ছেন। নতুন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছেন -- নাযারবায়েভ জাতীয় নিরাপত্তাপরিষদসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদের প্রধানের পদে আসীন থাকবেন। আগামীতে শাসনের ক্ষেত্রেও তাঁর যেকোন মতামতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হবে। দেশের রাজধানী আস্তানার নাম পরিবর্তন করে তার বদলে 'নুর সুলতান' করা হবে। দেশের সবগুলো গুরুত্বপূর্ন হাইওয়ে তার নামে হবে। দেশের সকল সরকারী অফিসে চিরকাল তার ছবি ঝোলতে হবে। ফিরিস্তি আরো আছে... আপাতত থাক। ও হ্যাঁ, তাঁর মেয়ে দেশটির সিনেটের প্রধান হয়েছেন। মধ্যএশিয়ার রাষ্ট্রগুলো কাগজে কলমে সোভিয়েত থেকে স্বাধীন হলেও রাজনৈতিক চরিত্র কমিউনিষ্ট যুগ থেকে খুব একটা বদলায়নি। নামে ডাকা হয় গণপ্রজাতন্ত্রী অমুকক দেশ, তমুক দেশ। নির্বাচন পুরোটাই প্রহসন। ২০১১ সালের নির্বাচনে তিনি ৯৫% ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট হন। ২০১৭ সালের নির্বাচনে সেটা বেড়ে ৯৭% এ গিয়ে দাঁড়ায়। তবু, নাযারবায়েভের সৌভাগ্য যে, পশ্চিমা কোন মিডিয়া তাকে স্বৈরাচার বলে না। বরং উল্টো তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ থাকে। তার দেশ আমেরিকার স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার।

রাজনৈতিক প্রজ্ঞার দিক দিয়ে নাযারবায়েভ মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে যোগ্য নেতাদের মধ্যে একজন। এ ক্ষেত্রে তিনি এরদোয়ানের চেয়ে পিছিয়ে নেই আমার মূল্যায়ন মতে। ৬০ এর দশক থেকে রাজনীতির সাথে জড়িত। সোভিয়েত আমলের শেষের দিকে গর্বাচেভ তাকে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু তিনি তা ফিরিয়ে দেন। সোভেয়েত ফেডারেশন ভাঙার পর কাজাখিস্তান স্বাধীন দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। নাযারবায়েভ হন স্বাধীন দেশের সর্বপ্রথম প্রেসিডেন্ট। তিনি প্রকৃত অর্থেই হিতাকাঙ্খি শাসক হিসবে নিজেকে প্রমান করেছেন। অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং প্রযুক্তির জগতেও কাজাখিস্তানকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক ফোরামে কাজাখিস্তান একটি সমীহজাগানিয়া নাম। সোভিয়েত আমলে পৃথিবীর চতুর্থ বৃহৎ পরমানু অস্ত্রের মজুদ ছিল কাাখিস্তানে। সোভিয়েতের ভাঙনের পর সেগুলোর মালিক হয় দেশটি। কিন্তু নাযারবায়েভের একটি সিদ্ধান্ত গোটা দুনিয়াকে তাক লাগিয়ে দেয়। তিনি সবগুলো পারমানবিক বোমা ধ্বংস করে ফেলার ঘোষনা দেন। এবং তা পালনও করেন। তখন থেকে দেশটি পরমানু মুক্ত বিশ্ব গড়ার আন্দোলনের একটি সম্মানিত সদস্যে হিসেে সমাদৃত হয়ে আসছে। জাতিসংঘের অনেক বড় বড় এবং স্পর্শকাতর মিশনের প্রধানের দায়িত্বও পালন করেছে দেশটি। আন্তর্জাতিক সঙ্ঘাতে সফল মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দেশটি নিজের যোগ্যতা এবং আস্থার প্রমান দিয়েছে। ইরানের সাথে ৬ বিশ্ব শক্তির পরমানু আলোচনায় মধ্যস্থতা করে। সর্বশেষ সিরিয়া বিষয়ক সিরিজ বৈঠক এই কাজাখিস্তানের রাজধানী আস্তানাতেই অনুষ্ঠিত হয়। এবং রাজধানী শহর আস্তানাও নাযারবায়েভের নতুন তৈরি। উন্নত এবং আধুনিক শহর হিসেবে একে গড়া তোলার পেছনে তার প্রচেষ্টা চোখে পড়ার মতো। রাজনৈতিকভাবেও তিনি অত্যন্ত যোগ্যতার প্রমান দিয়েছেন। সাবেক সোভিয়েত ব্লকের একটি রাষ্ট হয়ে একই সময়ে রাশিয়া এবং পাশ্চাত্যের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে পারা সহজ ব্যাপার নয়। তিনি একই সময়ে পুতিনের আস্থাভাজন আবার আমেরিকার স্ট্র্যাটেজিক বন্ধু। অর্থনৈতিক এবং প্রযুক্তির জগতেও দেশকে খুব দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যান। এই উদ্দেশ্যে ভিষন- ২০৫০ নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যান ঘোষনা করেন।

নাযারবায়েভ তার দেশের জন্য সবকিছু করেছেন। কিন্তু মুসলিম জাতির জন্য একজন প্রাজ্ঞ নেতা হিসেবে কিছুই করেননি। কোন দিন কোন ইসলামী ইস্যুতে বক্তব্য বিবৃতিও দিয়েছেন বলে আমার জানা নেয়। এই জন্য তিনি মুসলিম বিশ্বে এতো অপরিচিত। তার এই আত্মকেন্দ্রিকতার ফলে, তিনি কখনোই পশ্চিমাদের চক্ষুশুল হননি। ওয়েষ্টার্ন মিডিয়ায় তাকে স্বৈরাচারী বলে কখনো ট্যাগ দেয়া হয়না। তার দেশকে বিভিন্ন সমস্যা মুকাবিলা করতে হয়না। সেখানে কোন বিচ্ছিন্নতাবাদি সংগঠন আত্মপ্রকাশ করে না। আজকেও তার পদত্যাগের তামাশাকে কোন পশ্চিমা মিডিয়া নেগেটিভ ভাবে প্রচার করেনি।

এরদোয়ান যদি নাযারাবায়েভের মতো হতেন, চুপ থাকতেন, মুসলিম ইস্যু নিয়ে কথা না বলতেন, তাহলে কি তার অবস্থা নাযারবায়েভের চেয়ে ভিন্ন হতো? তবুও কি তাকে পশ্চিমা মিডিয়ায় স্বৈরাচারী ট্যাগ দেয়া হতো? তার দেশকে কি এতো ঝামেলা মুকাবিলা করতে হতো?


এরদোয়ান সোভিয়েত
০ টি মন্তব্য      ৪৯২ বার পঠিত         

লেখাটি শেয়ার করতে চাইলে: