অনলাইনে আছেন

  • জন ব্লগার

  • ১৯ জন ভিজিটর

দার্শনিক কবি আল্লামা ইকবাল বলেছেন...

লিখেছেন Muhammad Noman সোমবার ১৮ মার্চ ২০১৯

দলীলে সু্বহে রওশন হ্যায়, সিতারুঁ কি তুনকতাবী
উফুক্ব সে আফতাব উভরা, গেয়া দওরে গিরাঁ খাবী।
উরুক্বে মুরদায়ে মাশরিক্ব মে খুনে জিন্দেগী দওড়া
সামাজ্ সেকতে নেহি ইস রায কো সীনা ওয়া ফারাবী।
মুসলমাঁ কো মুসলমাঁ কার দিয়া তোফানে মাগরিব নে
তালাতুম হায়ে দারইয়া হী সে হ্যায় গওহর কি সেইরাবী।

ভাবানুবাদ:

রাতের শেষে তারার ফ্যাকাশে আলো একটি ঝলমলে আলোর ভোরের আগমনবানী শুনাচ্ছে। পুবদিগন্ত ভেদ করে সুর্য্য উদিত হলো, সেই সাথে গভীর ঘুমের পালাও শেষ হলো। এবার প্রাচ্যের যুবকের শিরায় জীন্দেগীর খুন টগবগিয়ে উঠলো, যার গভীর রহস্য অনুধাবন করার সাধ্য দার্শনিক ইবনে সীনা এবং ফারাবীরও নেই। মুসলমানকে মুসলমান বানিয়েছে পশ্চিমের তুফানে। সাগরের প্রচন্ড ঢেউয়ের আঘাতেই তো মুক্তার দানা সিক্ত হয়!

কবিতা: তুলুউল ইসলাম।
কাব্যগ্রন্থ: বাঙ্গে দারা

হ্যাঁ, পশ্চিমের তুফানই মুসলমানকে মুসলমান বানিয়েছে। শত্রুর আঘাতই আমাদেরকে শেকড়ে ফিরতে বাধ্য করেছে বারে বারে। তাই মুসিবতের বাহ্যিক রুপ দেখে আমরা ব্যাথিত হই, কিন্তু এর গভীর তাৎপর্য অনুধাবন করতে পারলে একে আমাদের কাছে নেয়ামত মনে হবে। ওহুদ আমাদের চোখে অশ্রু ঝরায়। হামযার বিদায় আমাদেরকে কাঁদায়। কিন্তু হামযার রক্ত স্বয়ং তার হত্যাকারীকেও ইসলামের ছায়াতলে নিয়ে আসে। হিন্দার পাথুরে মনেও ঈমানের বীজ বপন করে। খালিদ বিন ওয়ালীদ এবং আমর ইবনুল আসের ক্রোধকে প্রেমে রুপান্তরিত করে। বি'রে মাউনার হত্যাকান্ডের কোন তুলনা নেই। ৭০ জন সাহাবীকে ঠান্ডা মাথায় শহীদ করা হলো। সাহাবী হারাম ইবনে মিলহান তাঁর রক্ত মুখে-মাথায় মেখে বলছেন: 'কাবার রবের শপথ, আমি জিতে গেছি।' কী আশ্চর্য, তাঁর হত্যাকারী সেই জব্বার ইবনে সালমাও ইসলামের ছায়াতেলে আশ্রয় নিল। এটাই কি তাহলে 'আমি জিতে গেছি'র রহস্য ছিল? ক্রাইস্টচার্চ আমাদেরকে কাঁদাচ্ছে, কাঁদাবে। কিন্তু এর সুদূরপ্রসারী ফলাফল থেকে যেন আল্লাহ আমাদের বঞ্চিত না করেন। তাদের কুরবানীগুলোকে হামযা আর হারাম বিন মিলহানের কুরবানীর মতো কবুল করেন। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর হেজাবী চেহারায় আমি কপটতা দেখিনি। আল নুর মসজিদের দেয়ালে ছোট্ট শিশুদের দল বেঁধে ফুল দেয়ার দৃশ্যটি ফেইক বলে মনে হয়নি। ডিম ছুঁড়ে মারা বালকটির মুখের দ্যুতি মিথ্যা ছিল না। ম্যানচেষ্টার আর কানাডার মসজিদ পাহারাদানকারী খ্রীষ্টান লোকগুলোর প্রচেষ্ঠায় কোন খাদ ছিল না। তাদের এই সততা আরো গভীর হোক। এই প্রেম হাবশী, হিন্দা আর খালিদের প্রেমের মতোই হোক। হবেই ইনশা আল্লাহ্। আমাদের সন্দেহ সংশয়গুলো দূর হলেও অনেক বড় পাওয়া হবে। কট্টর বামপাড়ার লোকটির চোখেও অশ্রু এসেছিল নিশ্চিতভাবে। তাদেরকেও এই প্রশ্ন একবার হলেও নাড়া দিয়েছে -- আমরা কি তাহলে ভুলের মধ্যে ছিলাম? মুসলামানদের রক্ত এরকমই হয়। পাথরে বাগান তৈরি করে। যুগের ইবনে সীনা ফারাবীরা হয়তো এই রহস্য বুঝবে না। না বুঝলেও কিচ্ছু যায় আসে না। কারণ, ইসলাম যিন্দা হোতা হ্যায় হার কারবালা কে বাদ! এটাই চিরসত্য।

ইকবাল বলছেন:

"আতা মুমিন কো পির দরগাহে হক্ব সে হোনেওয়ালা হ্যায়
শেকোহে তুর্কামানী, যেহনে হিন্দী, নুতক্বে এ'রাবী।"

অর্থাৎ:

মুমিনরা পরওয়ারদিগারের কাছ থেকে আবারো লাভ করবে তুর্কিদের বীরত্ব, হিন্দুস্তানীদের জ্ঞান/ফিকির, আর আরবীদের সাহিত্য!

এই সুর্য়্য অস্ত যায় কেবল নতুন উদ্যমে উদয় হওয়ার জন্য!


ইসলাম
০ টি মন্তব্য      ৪৭৩ বার পঠিত         

লেখাটি শেয়ার করতে চাইলে: