অনলাইনে আছেন

  • জন ব্লগার

  • ৩৭ জন ভিজিটর

ইসলামোফোবিয়ার চুড়ান্ত ফসল ছিল এই হামলা।

লিখেছেন Sabina Ahmed শনিবার ১৬ মার্চ ২০১৯

এখন পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের খ্রাইস্টচার্চ মসজিদে নিহতের সংখ্যা ৪৯, আর ক্রিটিক্যালি আহতের সংখ্যা ৪০ এর মতন। অর্থাৎ নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।


দুইটা মসজিদে একই সাথে এই হামলা চালানো হয়েছে, ঘটনায় জড়িত ৪ জনকে এরেস্ট করেছে নিউজিল্যান্ড পুলিশ। এবং ১ জনকে অলরেডি পুলিশ চার্জ করেছে। সে একজন মুসলিম ঘৃণাকারী সাদা বর্ণবাদী অস্ট্রেলিয়ান।


ঘটনায় যে জঙ্গি কেবল গুলি করে হত্যা করেছে তা নয়, সে মসজিদের সামনে পার্ক রাখা কিছু গাড়িতে বোমা পর্যন্ত জুড়ে দিয়েছিল। এইসব বোমা ডেটনেট হলে হতাহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশী হতো।


নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন একে 'জঙ্গি হামলা' বলেই আখ্যায়িত করেছেন। তবে বেশীরভাগ মেইন স্ট্রিম মিডিয়া এই জঘন্য ঘটনাকে 'মসজিদ শুটিং' বলেই খবর করছে। টুইটার ইজ বার্স্টিং উইথ দিস নিউজ টূডে, এবং প্রায় সবাই এই ঘটনার ব্যাপারে নিন্দা জ্ঞাপন করছে। মনে হচ্ছে যেন তারা এতদিনে স্বীকার করছে যে ইসলামোফোবিয়া ব্যাপারটা আসলেই সত্য।


ইসলামোফোবিয়ার চুড়ান্ত ফসল ছিল এই হামলা। এসব ইসলামোফোবিয়া শুরু হয় সাধারণত ইসলামের ব্যাপারে ক্রিটিসিজমের মধ্যে দিয়ে। কোন খানে কোন মুসলিম হামলা করলে তার দায় একচেটিয়া ভাবে সমগ্র মুসলমানদের উপর এবং ধর্মীয় ভাবে ইসলামের উপর চাপিয়ে দিয়ে একধরনের সুখ অনুভব করে , নিজেকে প্রোগ্রেসিভ প্রমান করার চেষ্টা করে, জ্ঞানি ভাব ধরে ইলামোফোবিক লোকজন। যাদের মাঝে শীর্ষ স্থানে আছে ইমাম অফ পিস, স্যাম হ্যারিস, আয়ান হিরসি আলী, তারেক ফাতাহ প্রমুখ, আর পলিটিক্যালি এদের এহেন মতবাদের নেতৃত্ব দিচ্ছে স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।


এরপর ইসলামোফবিক লোকজন ভার্বালি ব্যক্তিগত পর্যায়ে গালাগালি শুরু করে। যার প্রথম ভিক্টিম হয় হিজাবি মেয়েরা, কারণ তারা দৃশ্যত মুসলিম। গতকাল ঢাবিতে ছাত্রলীগের গোলাম রব্বানি যেভাবে হিজাবি মেয়েদের নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, কেবল হিজাব পরার কারনে তাদের ঢাবি থেকে বহিষ্কারের (ছাত্রী সংস্থা ইজ জাস্ট এ অজুহাত) তা ইসলামোফোবিয়ার বহিঃপ্রকাশ। প্রচুর ইসলামোফোবিক লোকজন কেবল সমালোচনা আর গালাগালিতে আটকে থাকে।


এর পরবর্তী ধাপে বাংলাদেশে তাদের আমরা দেখেছি হুজুরদের দাড়ি ধরে টান মারতে, হিজাবি মেয়েদের ক্লাস থেকে বের করে দিতে, ফুল হাতা কামিজের স্লিভ কাঁচি দিয়ে কেটে দিতে। সোশ্যাল মিডিয়া আর মিডিয়ায় হিজাব বিরোধী কথা বলে সমালোচনা করে তারা নিজেদের প্রোগ্রেসিভনেস দেখায়, যার মাঝে আছে শেখ হাসিনা পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয় পর্যন্ত। আমাদের দেশও এই পথে চলার চেষ্টা করছে, কেবল ইসলাম হেইটারেরা সংখ্যালঘু বলে এর প্রসার এখনও কম। কিন্তু তারা ক্ষমতা আর মিডিয়া দখল করে আছে বলে তাদের প্রচার বেশী।


এসবের পরবর্তী ধাপেই ইসলামোফোবিক জঙ্গি বন্দুক আর বিস্ফোরক হাতে তুলে নিয়ে খ্রাইস্টচার্চের মতন ঘটনা ঘটায়। এন্ড দিস ইজ হোয়েন মানুষ মানুষের জীবন কেড়ে নেয় কেবল নিজেদের ছাড়া বাকিদের টলারেট করতে না পারার কারনে।


আমি এই জঙ্গির মেনিফেস্ট পড়েছি, যেখানে সে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসা করেছে। আমি সেই মেনিফেস্টোতে কি লেখা আছে তা প্রকাশ করতে নারাজ, কারণ আমি চাই না এসব ঘৃণা মিশ্রিত কথা সাধারণ জনগন জানুক। একজন দশজনকে নষ্ট করে। আমি এই ঘটনার লাইভ ভিডিও দেখেছি এবং সেটার প্রচারেরও বিরুদ্ধে। কপিক্যাট এমন আরও ঘটনা ঘটার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ মনে করি।


এবার আমাদের লোকাল মসজিদ নিয়ে কিছু কথা। আমাদের মসজিদের উপরেও হোয়াইট সুপ্রিমেসিস্ট বন্দুকধারীদের থ্রেট আছে। লোকাল পুলিশ আর এফবিআই খুব এক্টিভভাবে মসজিদকে সুরক্ষা দিচ্ছে। অলরেডি আমাদের ইমামকে পুলিশ বন্দুক দিয়ে তা কিভাবে চালাতে হয় তার উপর ট্রেইনিং দিয়েছে। পুলিশ আর এফবিআই এর ছত্রছায়ায় প্রতিজুম্মায় ছয়জন স্থানীয় মুসলমান কন্সিল্ড গান নিয়ে মসজিদে উপস্থিত থাকে কোন ধরনের জঙ্গি হামলা হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।


সবশেষে, ইসলামোফোবিক বলুন আর নিজ ধর্মের বা মতবাদের বাইরে বাকিদের ঘৃণাকারীদের এখন সামাজিক আর রাষ্ট্রীয় ভাবে থামানো না গেলে এদের সংখ্যা দিন দিন বাড়তেই থাকবে, আর নিউজিল্যান্ডের খ্রাইস্টচার্চের মতন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকবে। এতে যে কেবল মুসলমানেরা ভিক্টিম হবে তাই না, এতে ভিক্টিম হবে হিন্দু, শিখ সবাই। দিস মাস্ট এন্ড।


মানুষের মাঝে টলারেন্স বাড়ানো দরকার, মিলেমিশে থাকার জন্য তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো দরকার। কেউ দাড়ি রেখে নামাজ পড়বে না, বা খৃষ্টান, কিংবা শিখ যেমন ফাইন, কেউ দাড়ি রেখে নামাজি মুসলমানও তেমন ফাইন। সময় এসেছে নিজেদের নিয়ে গর্ব করে, নিজেদের সৃষ্টির সেরা জীব মনে করে অপরকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার যে কালচার তা বন্ধ করার। । কে আহমদিয়া, কে শিয়া, কে সুন্নি, কে হানাফি, কে খৃষ্টান, কে হিন্দু দ্যাট শ্যুড নট ম্যাটার এট দিজ ডেঞ্জারাস টাইম অন আর্থ নাউ।


সারা বিশ্বের সব ধর্মের আর বর্ণের মানুষের উদ্দেশ্যে - লাকুম দ্বীনুকুম ওয়ালিয়া দীন!


নিউজিল্যান্ডের খ্রাইস্টচার্চের মসজিদে নিহতের জন্য - 'ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন'।


নিউজিল্যান্ডে হামলা ক্রাইচচার্চ
০ টি মন্তব্য      ৩৬৫ বার পঠিত         

লেখাটি শেয়ার করতে চাইলে: