অনলাইনে আছেন

  • জন ব্লগার

  • ২৪ জন ভিজিটর

তসলিমা নাসরিন, হুমায়ুন আজাদের অশ্লীলতা আপনি অপছন্দ করেন, কিন্তু আল মাহমুদের অশ্লীলতা আপনি কেন পছন্দ করেন?

লিখেছেন অদ্রি হাসান বৃহস্পতিবার ১৪ মার্চ ২০১৯

১।ভুল প্রশ্নকে প্রশ্ন করতে পারাটা গুরুত্বপূর্ণ। সব প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিতে যাওয়া সঠিক পন্থা নয়, প্রথমে চ্যালেঞ্জ করে যথাযথ অর্ডার অনুসারে রেসপন্স করতে হয়। আমার পূর্বোক্ত প্রশ্নটি ছিল একটি loaded question; লোডেড প্রশ্ন হল যে প্রশ্নে বিতর্কিত বা অপ্রমাণিত অনুমান থাকে। আমি প্রশ্ন বিনির্মাণ করার সময়ও তা জানতাম, কিন্তু তারপরও করার কারণ হল এ প্রশ্নটি আমাদের কিছু শিখতে সহায়তা করতে পারে। প্রশ্নের অপ্রমাণিত স্বত:সিদ্ধ ছিল, আপনারা আল মাহমুদের অশ্লীলতাকে পছন্দ করেন, কিন্তু সত্যকথা হল আপনারা কারো অশ্লীলতাকে পছন্দ করেন না, করেন কি? সত্যটা হল আমরা তাকে যৌক্তিক কারণে ভালোবাসি, তবে হয়তো সবসময় গুচিয়ে বলতে পারি না। আমি ঠিক এই জায়গাটি স্পর্শ করে নাড়িয়ে দিতে চেয়েছি, আন্দোলিত করতে চেয়েছি।

২। আমাদের কাউকে পছন্দ করা বা অপছন্দ করা একটিমাত্র দিক তথা শ্লীলতা-অশ্লীলতাকে ভিত্তি করে গড়ে উঠে না, ভালোবাসার আরো অনেকগুলো দিক রয়েছে।
৩। তাদের তিনজনের শ্লীলতা বা অশ্লীলতার কারণে আমার নিকট পছন্দ-অপছন্দের প্রভাবক খুবই ক্ষুদ্র, তাই শুধু এই কারণে আমি তাদের কাউকেই বাতিল বলে দিইনি। অশ্লীলতা বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও তাদের তিনজনকেই আমি পড়ি।
৪। আমার কাছে পরম সত্য(ABSOLUTE TRUTH) হল ইসলাম।এটা আমার বিশ্বাস। আর আমার পূর্বোক্ত প্রশ্ন ও আলোচনার টার্গেট পিপলও বিশ্বাসীরাই। এই পয়েন্টে এসেই তিনজন দু’টি সম্পূর্ণ ভিন্ন স্রোতধারায় বয়ে গেছেন; ইসলাম ও নাস্তিকতায়।

৫। কেউ বলেছেন আল মাহমুদ ইসলাম পূর্ব জীবনে অশ্লীল লিখেছেন, কিন্তু পরে আর লিখেননি -এটা অজ্ঞতাপসূত ন্যারেটিভ। আমি ঠিক এই অন্ধ ভালোবাসাকে, সচেতন ও দীর্ঘস্থায়ী ভালোবাসায় রূপদান করার জন্যই প্রশ্নটির অবতারণা করেছি। তিনি যেহেতু সোনালি কাবিন বা পূর্বাপর কোন অশ্লীলতাকে বাতিল করেননি, বা অশ্লীলতা অর্থে স্বীকার করেননি, তাই ইসলামী জীবন বা জাহেলি জীবনে ভাগ করে জাস্টিফাই করাটা অবান্তর।

৬। আমি ব্যক্তিগতভাবে তাকে ভালোবাসি কারণ তিনি তার অবস্থান থেকে ইসলামের অ্যাম্বাসেডরের দায়িত্ব পালন করেছেন, তিনি ইসলামকে ব্র্যান্ডিং করেছেন। ইসলামের ছায়া হল একটি পুরস্কার, কিসের পুরস্কার? বিনয়ের ও সত্য গ্রহণে সদিচ্ছার। তিনি সেসব লাভ করেছিলেন কিন্তু বাকি দু’জন সেসব থেকে বঞ্চিত।

৭। আমি তাকে ভালোবাসি কারণ তিনি পরম সত্যকে উচ্চকিত করেছেন, সত্যের জন্য সেকরিফাইস করেছেন ক্যারিয়ারকে।
৮। নিরেট যোগ্যতার মানদণ্ডে তাদের তিনজনের কেউই আমার কাছে আবেদনময়ী নয়, আমার ব্যক্তির কাছে হয়তো খুব বেশি প্রাসঙ্গিকও নয় -এটা আমার ব্যক্তিগত প্যারাডাইমের কারণে, অথবা তাদের থেকে অনেক বড় মাপের কারো সন্ধান আমি পেয়েছি, অথবা তাদের থেকে বড় মাপের কাউকে আমি শিক্ষক হিসাবে গ্রহণ করেছি। তবে তাদের তিনজন ব্যক্তিকে, ব্যক্তির মতামতকে আমি রেসপেক্ট করি, কারণ আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেছেন, “আমি আদম সন্তানকে সম্মানিত করে সৃষ্টি করেছি।” তাছাড়াও তাদের থেকে আমি কমবেশি শিখেছি। তবে ভালোবাসা- পছন্দ এগুলো গড়ে উঠা সহজাত অনুভূতির নাম, যা যৌক্তিকভাবে, পরিপূর্ণভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না, আরোপ করা যায় না, তবে ফিল করা যায়।

৯। তসলিমা নাসরিনের সমস্যা চিহ্নিতকরণ(PROBLEM SELECTION) অসাধারণ, কিন্তু তিনি মুসলিমদের অপকর্মকে ইসলামের উপর আরোপ করে সত্য থেকে দূরে থেকেছেন ও মানুষকে সত্য থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেছেন। হুমায়ুন আজাদের প্লাগিয়ারিজম সত্ত্বেও তার কিছু লেখা ভালো লেগেছে, যেমন- গরীবের প্রকৃতি ও বিপ্লব সম্পর্কিত একটি কবিতা।
১০। আল মাহমুদ ইসলাম গ্রহণের পর নেক আমল করতেন; এটা তার ব্যক্তিক অর্জন। আর আমি ব্যক্তি আল মাহমুদকে ভালোবাসি কারণ তিনি-আমি একই প্রভূর ইবাদত করি। আমি এমন অকৃতজ্ঞ, অহংকারী কাউকে ভালোবাসতে পারি না, বা এতটা সুশীল হতে পারি না, যে তার আপন সৃষ্টিকর্তার প্রতি অকৃতজ্ঞ, যে তার প্রতি বর্ষিত নেয়ামত দানকারীর সাথে অহংকার করে। এটা আমার সহজাত ভালোবাসা; যা হস্তক্ষেপের অতীত।

 

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে ক্ষমা করুন। আমীন।


অশ্লীলতা পছন্দ-অপছন্দের মানদণ্ড তসলিমা নাসরিন হুমায়ুন আজাদ ও আল মাহমুদের অশ্লীলতা
০ টি মন্তব্য      ৪৪৪ বার পঠিত         

লেখাটি শেয়ার করতে চাইলে: