অনলাইনে আছেন

  • জন ব্লগার

  • ১৯ জন ভিজিটর

অশরীরী জ্বীনদের জ্ঞানের পরিসীমা কতটুকু...?

লিখেছেন Nazrul Islam Tipu বৃহস্পতিবার ১৪ মার্চ ২০১৯

অনেকের ধারনা, জ্বীন বর্তমান, ভবিষ্যৎ, অতীত, তকদির, ভাগ্য এসব জ্ঞানে পরিপূর্ণ। এটি ভুল ধারণা। তবে তাদের জ্ঞানের পরিসীমার কিছু ভিন্নতা ও বৈচিত্রতা তো আছেই। কিন্তু আমরা তা বাড়িয়ে দেখি। ধরুন, উপস্থিত কোন একজন মানুষের মনে, এই মুহূর্তে কোন কথাটি ঘুরপাক খাচ্ছে, সেটা জ্বীনেরা ধরে ফেলতে পারে। এমনকি বাহির থেকে একটি কথা মনের ভিতরে ঢুকিয়ে দিতে পারে। উল্টো পাল্টা স্বপ্নও দেখিয়ে দিতে পারে। জীবিত ব্যক্তির অতীতের কোন ঘটনার বর্ণনা দিতে পারে কিন্তু ভবিষ্যতে কি হবে এ সম্পর্কে কোনই ধারণা দিতে পারে না! (মনে রাখুন, সকল মানুষের ক্ষেত্রে পারেনা, তারা কারা পরে পরিচয় আনা হবে) দৃশ্যত বর্তমান আর অতীতের কিছু কথা যখন ঠিক ঠিক হয়ে যায়! তখন মানুষ ভাবতে থাকে ভবিষ্যৎ নিয়ে যা বলা হয়েছে, নির্ঘাত সেটাও ঠিক। এই কথার উপর বিশ্বাস স্থাপন করে।

হাদিস শরীফের তথ্য মতে, "জ্বীনেরা মানুষের চেয়েও বেশী হায়াত পায় এবং প্রত্যেক মানুষের সাথে একজন করে জ্বীন শয়তান শিশুকাল থেকেই সাথে থাকে, সাথে খায়, সাথে ঘুমায়।" এই জ্বীন শয়তানের সাথে অন্যান্য সাধারণ জ্বীনেরা কথা বলতে পারে, তথ্যাদি আদান প্রদান করতে পারে। ফলে হাজিরার সেই বন্ধু জ্বীন উপস্থিত ব্যক্তির সাথে থাকা শয়তান জ্বীনের সাথে যোগাযোগ করে তথ্য হাতিয়ে নেয় এবং সেটা বৈদ্যকে জানিয়ে দেয়। এটাতেই মানুষ হতচকিত হয়ে উঠে এই ভেবে যে, ব্যাটা কিভাবে এই কথা জানল। ইংরেজিতে এই বিদ্যার নাম ‘টেলিপ্যাথি’। একজন ব্যক্তির, জীবনের অতীত তথ্য জানার পিছনের রহস্য হল এটাই। আপনি যখন নামাজে দাড়িয়ে যান, তখন কিশোর কালের এমন একটি কথা মনে উদয় হলো যা বিগত বিশ বছরে মনে আসেনি। মূলত এই কথাটি মনে করিয়ে দেয়, সাথে থাকা সেই শয়তান জ্বীন। তার লক্ষ্য আপনার একাগ্রতাকে নষ্ট করা, এবাদতের মাঝে নতুন কিছু ঢুকিয়ে দেওয়া।

একই ভাবে জ্বীনেরা অতীতের সমৃদ্ধ, প্রাকৃতিক কোন রোগের কথা বলতে পারবে। কেননা তার বয়স হয়েছে বেশী। মানুষ কোন জিনিষ খেয়ে কিভাবে উপকৃত হয়েছে এটা সে মনুষ্য সমাজ থেকেই শিখেছে। যেমন, তাকে যদি প্রশ্ন করা হয় রসুনের উপকার কি? সে সাথে সাথেই জওয়াব দিবে রসুন এই এই কাজের জন্য উপকারী। সে বলতে পারবে, চিরাতা খেলে কৃমি দূর হবে। আসলে জ্বীন না ডাক্তার, না গবেষক এমনকি রসুনের আভ্যন্তরীণ উপাদান সম্পর্কে জ্বীনের কোন ধারণাই নাই। বহু বছর ধরে জ্বীনেরা দেখেছে রসুন খেয়ে মানুষ সে সব উপকার পেয়েছে। সেভাবে জ্বীনেরা বলতে পারবে কোন ভেষজ দ্রব্যের কি গুন! অতীতের শত শত বছর ধরে জ্বীনেরা মানুষের সাথে থেকে শিখেছে, মানুষ কোন জিনিষ খেয়ে উপকৃত হয়েছে। কোন এক মৃত ব্যক্তির গুপ্ত ধন কোথায় লুকানো ছিল, সে তথ্য জ্বীনেরা দিতে পারবে, যদি মৃত ব্যক্তির সঙ্গী জ্বীন ততদিন জীবিত থাকে।

মানুষ মরে গেছে, বিদ্যা হারিয়ে গেছে। জ্বীনেরা বহু বছর বেঁচেছে, তাই এই বিদ্যার তার ধ্যানের মধ্যে রয়েছে। এ জাতীয় কিছু সহজ লভ্য তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করে। অজ্ঞ মানুষ তাদের বিশ্বাস করে। মানুষকে নাচাতে পারলে, পথভ্রষ্ট করতে পারলে জ্বীনেরা খুশী হয়। তাদের উল্লসিত হয় মানুষকে বেকুব বানাতে পারলে। তারা অহং বোধ করে যদি মানুষ তাদের সাহায্য চায়। মানুষ পৃথিবীতে আসার আগে, এই পৃথিবীর মালিকানা জ্বীনদের দখলে ছিল। পৃথিবীতে মানুষ আসার কারণে, জ্বীনেরা বাস্তুহারার মত সর্বদা ঘর-বাড়ী বদলাতে বাধ্য হয়। জ্বীনেরা স্থায়ী শরণার্থীর মত জীবন যাপন করে। মানুষের কারণে এক জায়গায় দীর্ঘদিন থাকতে পারেনা, ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় কিন্তু জায়গার প্রতি মায়া থেকে যায়। কোথাও তারা বসতি গড়ে তুললে, মানুষ এসে সেখানেও বাড়ী ঘর বানায়, এতে তাদের সমস্যা হয়। ফলে কিছু জ্বীন ক্ষিপ্ত হয়ে মানুষকে কষ্ট দেয়। এ কারণেই জ্বীনের সাথে মানুষের শত্রুতা চলছে আদম (আ) এর জমানা থেকেই।

কেউ যদি জ্বীনকে প্রশ্ন করে, আমার রক্তে গ্লুকোজ, হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কত? কিংবা শরীরের কোন জায়গায় ক্যান্সারের বীজ দানা বেঁধেছে? মোটেও উত্তর দিতে পারবে না। মানুষের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শিরা-ধমনীতে ঢুকে জ্বীন শয়তান ঘুরে আসতে পারে। তাকে যদি বলা হয়, শিরায় ব্লক হয়ে রক্ত চলাচলে বাধ সেধেছে, সেই বাধাটাকে ঠেলে পরিষ্কার করে দাও। না জ্বীন এটা করতে পারবে না। পৃথিবীতে গবেষণা করে মানুষ বহু কিছু আবিষ্কার করেছে; অনেক কিছু সৃষ্টি করেছে, এখানেই মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব। এটা বুঝার মত জ্ঞান জ্বীনদের কাছে নাই, এই জ্ঞান আল্লাহ শুধুমাত্র মানুষদের জন্যই সীমাবদ্ধ করে রেখেছে। এখন সেই জ্বীনকে যদি দায়িত্ব দেওয়া হয়, ইস্রাইলের ভাণ্ডার থেকে একটি আণবিক বোমা নিয়ে আস; কিংবা কিছু ইউরেনিয়ামের গুঁড়ো। না পারবেনা। কেননা সে এসব জিনিস চিনেনা। একই ভাবে জ্বীন গ্লুকোজ, কোলেস্টেরল, ক্যান্সার বীজ, আলসারের ক্ষত, সায়ানাইডের বিষও চিনবে না। এসব চিনার জন্য যে ধরনের বিশ্লেষণ জ্ঞান দরকার, সে জ্ঞান আল্লাহ জ্বীনদেরকে দেয় নাই।

জ্ঞানের রাজ্যে জ্বীনেরা মানুষের চেয়ে নগণ্য। মানুষ যেভাবে বাড়ী বানিয়ে আরামে নাক ডেকে ঘুমাতে পারে, সে কপাল জ্বীনদের নেই। জ্বীনদের সংখ্যা মানুষের চেয়ে প্রায় দশগুণ বেশী। যেখানে মানুষের পদযুগল পরে, সেখান থেকে জ্বীনেরা সরে যেতে বাধ্য। তারা সংঘাত প্রিয়। মানুষের চেয়ে অনেক বেশী মাত্রায় আন্ত-কোন্দলে লিপ্ত। খুনোখুনি, মারামারি, দাঙ্গা-ফ্যাসাদ এদের নিত্য নৈমিত্তিক চরিত্রের অংশ। অল্পতে রেগে যাওয়া, ক্ষতি করা এদের স্বভাব। তাদের সাথে মানুষের যত না সংঘাত তার চেয়ে বহু শত গুন বেশী সংঘাত নিজেদের মধ্যে। তাই তাদের মধ্যে চরম শত্রুতা সর্বদা বিরাজমান। হাদিস শরীফে আছে রাসুল (সা) নিজেই তাদের বহু গোত্রীয় ধন্ধ সংঘাত মিটিয়েছেন। জ্বীনেরা রাসুল (সা) কাছে এসে বিচার দিত। তাদের এই ধন্ধ সংঘাত পূর্ণ জীবনে আবার মানুষ এসে যদি তাদের ঘর বাড়ী থেকে বের করে দেয়, তাদের বাসস্থান ও অবস্থান স্থলের ক্ষতি করে। তাহলে কার মাথা ঠিক থাকে! ফলে তারাও মানুষকে ত্যক্ত, বিরক্ত, অতিষ্ঠ করে তুলে। (তথ্য সূত্র-জ্বীন জাতির ইতিহাস)


জ্বীন
০ টি মন্তব্য      ১২১৩ বার পঠিত         

লেখাটি শেয়ার করতে চাইলে: