অনলাইনে আছেন

  • জন ব্লগার

  • ২৩ জন ভিজিটর

ইসলাম কি কাফিরদের হত্যা করতে বলে?

লিখেছেন কহেন কবি বুধবার ১৩ মার্চ ২০১৯

- ইসলাম কি কাফিরদের হত্যা করতে বলে?

- হত্যা করতে বললে ইসলাম খারাপ, আর হত্যা না করতে বললে ইসলাম ভালো?

- না তা না, সত্যটা জানা উচিত।

- ইসলাম কাফিরদের দুনিয়াতে কয়েকটা সুযোগ দিতে বলে, এর মধ্যে হত্যাও একটা!

- হত্যা আবার কি ধরণের সুযোগ?!

- হ্যাঁ এটাও একটা সুযোগ।

- কিন্তু এটাতে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয় না?

- দেখো কোনটা মানবাধিকার, কোনটা না সেটা ডিফাইন করবেন আল্লাহ তা'আলা। এখন তুমি যদি মেনে নাও যে ইসলাম আল্লাহর প্রেরিত দ্বীন, তাহলে ইসলাম যেটা বলে সেটাই মানবাধিকার, যদি তোমার কাছে 'মানবাধিকার' খুব বেশী গুরুত্বপূর্ণ হয়!

- ইসলাম আসলেই আল্লাহর দ্বীন কিনা সেটার জানার জন্যই তো ইসলাম কাফিরদের ব্যাপারে কি ধারণা রাখে, সেটার জানার প্রয়াস!

.
- মানে ইসলামকে মাপতে চাচ্ছো?

- জ্বী!

- কিসের দ্বারা? মানবাধিকার?

- জ্বী!

- কিন্তু মানবাধিকারকে কি মেপেছো?

- মানবাধিকারকে মাপবো মানে?

- মানে যেই নিক্তিতে ইসলামকে মাপবে, সেই নিক্তি নিজেই ঠিক আছে কিনা? হয়ত সেটাতে কোন খুঁত আছে, অথবা বায়াসড, অথবা সেটা নিক্তি হিসেবেই যোগ্যতা রাখে না।

- তাহলে?

- দেখো, তুমি "মানবাধিকার" কনসেপ্টটাকে কিন্তু প্রশ্ন করছো না। বরং কোন একটা সোর্স থেকে অন্ধের মত ঈমান এনেছো, এবং সেটাকে নিক্তি ধরে ইসলামকে প্রশ্ন করছো।

- না আমি অন্ধের মত ঈমান আনি নি। আমার বিবেক আছে, আমি সেটা দ্বারা মানবতা বুঝেছি।

- দেখো তোমার বিবেক যে সঠিক, সেটা তুমি কিভাবে বুঝেছো? তাছাড়া তোমার বিবেক কোন কিছু দ্বারা বায়াসড হওয়াই স্বাভাবিক, তাই না?

- তাহলে বলতে চাচ্ছেন মানবাধিকার বলে কিছু নেই?

- দেখো, প্রসঙ্গে থাকো।

- এটাই তো প্রসঙ্গ।

- হ্যাঁ এটা প্রসঙ্গ ছিল, কিন্তু আমরা আরেকটু ডীপ রুটে চলে গিয়েছি। সেটার সমাধান না করে, এর উত্তর ততটা অর্থবোধক হবে না।

- এত গোজামিল দিয়ে কি লাভ?

- কারণ তোমার প্রশ্নটাই একটা বায়াসড প্রশ্ন ছিল?

- এমন কেন মনে হল?

- কারণ অনেক মৌলিক প্রশ্ন থাকার পরও, তুমি এমন একটি প্রশ্নকে বেছে নিয়েছো, যেটা থেকে বুঝা যাচ্ছে যে তুমি সমকালীন পরিস্থিতি দ্বারা বায়াসড।

- আপনি আমাকে বায়াসড বলতে পারলেন?

- অবশ্য এটা তোমার দোষ না, বরং এটাই স্বাভাবিক যে, সাধারণ মানুষ সমকালীন পরিস্থিতি দ্বারা বায়াসাড হবে। কিন্তু সাধারণ গড়পরতার চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসে সত্যকে খুঁজতে হলে বায়াসনেস যতটা সম্ভব মিনিমাইস করতে হবে।

- এবার বলুন মানবতায় কি সমস্যা?

- মানবতায় সমস্যা নেই। বরং এই যামানায় মানুষ যাদের থেকে প্রথমে মানবতার সবক নিচ্ছে, তাদের মধ্যে সমস্যা।

- যেমন?

- যেমন হল, যারা মানবতার সবক দিচ্ছে, তারা নিজেদের দেয়া মাননবতার নিজেরাই ঠিক মত পালন করে না। তারা কেবল অপরকে আটকাতে এই সংজ্ঞা ব্যবহার করে।

- মুসলিমরাও তো এমন করে!

- তুমি দেখবে যে তাদের সকল সংজ্ঞা তারা ভঙ্গ করে, যখন সেটা তাদের বিরুদ্ধে যায়। ঠিক যেমন খেজুরের তৈরী মূর্তির মত। যে মূর্তিকে পূজা করা হয়। কিন্তু খিদে পেলে আবার খেয়েও ফেলা হয়।

- আপনি বারবার তাদের সমালোচনা করছেন, কিন্তু এই দোষগুলো মুসলিমদের মধ্যেও পাওয়া যায়।

- ঠিক এটাই হল আমার পয়েন্ট। মুসলিমরা তাদের মত মানুষ। যখন তারা নিজেরা নিজেরা হাওয়া থেকে, নিজেদের কথিত বিবেক থেকে নিয়মনীতি তৈরী করে, বিভিন্ন টার্ম- কন্ডিশন এবং সেগুলোর সংজ্ঞায়ন করে, এবং সেগুলোর প্রচার করে, পূজা দেয়, কিন্তু যখনই নিজেদের বানানো নিয়ম নিজেদের বিরুদ্ধে যায়, তারা সেটা ভঙ্গ করে।

- তো?

- তো, এটাই তাদের সাথে ইসলামের পার্থক্য! ইসলাম আল্লাহর প্রেরিত দ্বীন, এবং আল্লাহর রাসূল যা বলেছেন, সেই নীতি তিনি পালন করেছেন। হতে পারে সেটা ইসলাম বিদ্বেষীদের সংজ্ঞানুযায়ী খারাপ, কিন্তু তিনি যা বলেছেন, করেছেন, তার নীতি স্পষ্ট। কিন্তু তুমি ইসলাম বিদ্বেষীদের কোন নির্দিষ্ট সুন্নাহ খুঁজে পাবে না। এটাই প্রমাণ করে যে ইসলাম ছাড়া কোন আল্টিমেট নীতি থাকতে পারে না।

- এটা কিভাবে বললেন?

- এভাবে বললাম যে, তুমি আল্লাহ ব্যতীত যার কাছেই যাও, তারা যাদের অথোরিটি মানে, তাদের মধ্যে তাদের নিজেদের নীতি মানার যোগ্যতাই নেই। অথচ নবীজী তা করে দেখিয়েছেন। এখন ইসলামই যে আল্লাহর প্রেরিত দ্বীন সেটার প্রমাণ হল যে, এ ছাড়া আর কোন অপশন এ্যাভেলএ্যাবল আছে তোমার কাছে? যা বলে এই জীবন- বিধানই হল আল্লাহর প্রেরিত, এবং একমাত্র আল্লাহর মনোনীত?

- তাহলে কাফিরদের হত্যা করার ব্যাপারটা কি হবে?

- আল্লাহর দ্বীন যদি বলে হত্যা করতে, করবে, নতুবা না।

- করতে বলে?

- আল্লাহ কাফিরদের ইসলামের দাওয়াত দিতে বলেন। ক্ষমতাবানদের তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের আহবান করতে বলেন। কিন্তু তারা যদি চুক্তি করতে চায় তাহলে চুক্তি করারও অনুমোদন রেখেছেন। কিন্তু চুক্তি ভঙ্গ করলে তাদের হত্যা করতে বলেন।

- একথাটা প্রথমে বললে কি হত?

- প্রথমে বললে, তুমি হয়ত ইসলামে সাথে একারণে একমত হতে যে এটা তোমার বিবেকের মধ্যে থাকা অঙ্কিত মানবতার চিত্রর বিরুদ্ধে যাচ্ছে না। অথবা তোমার বিবেকের মধ্যে থাকা অঙ্কিত মানবতার চিত্রের বিরুদ্ধে গেলেই তুমি ইসলামের সাথে দ্বিমত করতে। হয় ইসলামকে অস্বীকার করতে, অথবা বলতে যে এসব ইসলামে নেই। আর এত কথার পর বললাম এটা বুঝাতে যে, আল্লাহর বিধান একমত হওয়ার বিষয় নয়, শুনে মেনে নেয়ার বিষয়।

 

- এভাবে তো ভেবে দেখি নি...


ইসলাম
০ টি মন্তব্য      ৪০০ বার পঠিত         

লেখাটি শেয়ার করতে চাইলে: