অনলাইনে আছেন

  • জন ব্লগার

  • ৩৬ জন ভিজিটর

সংবাদমাধ্যমের সাথে হাসিনা-মুজিবের বিরোধ

লিখেছেন আফগানী বুধবার ২২ জানুয়ারী ২০২০

 

আজ দৈনিক সংগ্রামের ডিক্লারেশন বাতিল করেছে হাসিনা সরকার। সংবাদ মাধ্যমের উপর এই সরকারের নির্যাতন নতুন নয়। শুধু তাই নয়, শেখ হাসিনার পিতা শেখ মুজিবও সংবাদপত্রের উপর দমননীতি চালিয়ে গিয়েছেন। তিনি একটি আইন করে দেশের চারটি পত্রিকা ছাড়া বাকী সব বন্ধ করে দিয়েছেন।

 

এবিষয়ে ১৯৭৫ সালের ১৭ জুন দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদন তুলে ধরা হলো। দ্বিতীয় বিপ্লবের আলোকে সংবাদপত্র সম্পর্কে নতুন নীতি ঘোষণা রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংবাদপত্র পরিচালনা সংক্রান্ত ব্যাপারে নতুন নীতি ঘোষণা করিয়া দুইটি অর্ডিন্যান্স জারি করিয়াছেন। নতুন ব্যবস্থা অনুযায়ী আজ (মঙ্গলবার) হইতে সারা দেশে দৈনিক ইত্তেফাক, বাংলাদেশ অবজার্ভার, দৈনিক বাংলা এবং বাংলাদেশ টাইমস এই চারটি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত হইবে। জনাব নুরুল ইসলাম পাটোয়ারী, জনাব ওবায়দুল হক, শেখ ফজুলল হক মনি ও জনাব এহতেশাম হায়দার চৌধুরী যথাক্রমে দৈনিক ইত্তেফাক, বাংলাদেশ অবজার্ভার, বাংলাদেশ টাইমস ও দৈনিক বাংলার সম্পাদক নিযুক্ত হইয়াছেন।

 

সরকার আরো ১২২টি সাপ্তাহিক ও মাসিক পত্রিকার ডিক্লারেশন বহাল রাখিয়াছেন। এইসব পত্রপত্রিকাগুলি ছাড়া সরকারের বিনা অনুমতিতে আর কোনো পত্রিকা প্রকাশিত হইবে না। বাংলাদেশ সরকার সংবাদপত্র (ডিক্লারেশন বাতিল) অর্ডিন্যান্স ১৯৭৫ জারি করিয়া ‘বাংলাদেশ অবজারভার’ ও ‘দৈনিক বাংলা’ এবং ১২২টি সাপ্তাহিক ও মাসিক পত্রিকা ভিন্ন বাদবাকী সকল পত্রপত্রিকার ডিক্লারেশন ১৭ই জুন হইতে বাতিল করিয়া দিয়াছেন।

 

এই অর্ডিন্যান্স জারির অব্যবহিত পরে সরকার দৈনিক ইত্তেফাক ও বাংলাদেশ টাইমস এই দুই দৈনিক সংবাদপত্রও প্রকাশের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। অতঃপর ওই চারটি দৈনিক এবং ১২২টি সাময়িকী ছাড়া বাংলাদেশ সরকারের অনুমতি ভিন্ন আর কোনো পত্রিকা বা সাময়িকী প্রকাশিত হইবে না। সরকার যুগপৎ আরও একটি অর্ডিন্যন্স জারি করেন। সরকারী মালিকানাধীন সংবাদপত্রসমূহ পরিচালনার জন্য জারিকৃত এই অর্ডিন্যান্সের নাম হইতেছে সরকারী মালিকানাধীন সংবাদপত্র (ব্যবস্থাপনা) অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৫। সরকার এতদসঙ্গে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন যে, অদূর ভবিষতে চট্টগ্রাম ও খুলনা হইতে একটি করিয়া এবং উত্তরাঞ্চলীয় কোনো একটি জেলা ইহতে অপর একটি সংবাদপত্র প্রকাশিত হইবে।

 

রাষ্ট্রপতি সংবাদপত্রের ডিক্লারেশন বাতিলের এই অর্ডিন্যান্স জারি করেন। অর্ডিন্যান্সে বলা হয়: পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে অনতিবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ অবশ্যক হইয়া পড়ে। সরকারের মালিকানাধীন সংবাদপত্র ব্যবস্থাপনা অর্ডিন্যান্স বলে সরকারী সংবাদপত্রসমূহের পরিচালনা ও উন্নয়ন সাধনের ব্যবস্থা করা হইয়াছে। সংবাদপত্র মুদ্রণ ও প্রকাশনার ব্যবসায় পরিচালনার জন্য গঠিত নির্দিষ্ট কতকগুলি কোম্পানী ভাঙ্গিয়া দেওয়ার জন্যও অর্ডিন্যান্সে ব্যবস্থা করা হইয়াছে। এই অর্ডিন্যান্স বলে সরকারের মালিকানাধীন সংবাদপত্রসমূহের জন্য সরকার পরিচালনা বোর্ড গঠন করিবেন। সরকার বোর্ডে একজন চেয়ারম্যান এবং উপযুক্ত সংখ্যক সদস্য নিয়োগ করিবেন। বোর্ড অন্যান্য কাজের সহিত নিম্নলিখিত কার্যাদি সম্পাদন করিবে : সরকারের মালিকানাধীন সংবাদপত্রসমূহের এবং সংবাদপত্র মুদ্রণের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত সরকারের মালিকানাধীন ছাপাখানাসমূহের ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন, সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ, সরকারের অনুমতি অনুযায়ী স্বীয় পরিচালনাধীন সাংবাদপত্র ও ছাপাখানা সম্পর্কে চুক্তি সম্পাদন ও কার্যকরীকরণ, বোর্ড সংবাদপত্র ও ছাপাখানা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, খুচরা যন্ত্রাংশ, কাঁচামাল ও অন্যান্য দ্রব্যাদি ক্রয় করিবে। বোর্ড সুষ্ঠু ব্যবসায়িক ভিত্তিতে স্বীয় দায়িত্ব সম্পাদন করিবে, যাহাতে গণসংযোগ মাধ্যমের চাহিদা পর্যাপ্তভাবে পূরণ হয় এবং বিদেশে গঠনমূলকভাবে প্রগতিশীল জাতীয় ভাবমূর্তি বিধৃত হয়। (দৈনিক ইত্তেফাক: ১৭ জুন, ১৯৭৫)

 

সরকারি মালিকানাধীন সংবাদপত্র (ব্যবস্থাপনা) অর্ডিন্যান্সের পূর্ণ বিবরণ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের আইন, সংসদবিষয়ক ও বিচার মন্ত্রণালয়ের আইন ও সংসদ বিষয়ক দফতরের ১৩ জুন ১৯৭৫ সালে নোটিফিকেশনের মাধ্যমে ঘোষিত সরকারি মালিকানাধীন সংবাদপত্র (ব্যবস্থাপনা) অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৫ তথা ১৯৭৫-এর ৩৪ নম্বর অর্ডিন্যান্সের পূর্ণপাঠে বলা হয়: সরকারি মালিকানাধীন সংবাদপত্রসমূহের ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন এবং সংবাদপত্র মুদ্রণ ও প্রকাশনার ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠিত কতিপয় কোম্পানী ভাঙ্গিয়া দিবার উদ্দেশ্যে ইহা একটি অধ্যাদেশ।


০ টি মন্তব্য      ৩৯৩ বার পঠিত         

লেখাটি শেয়ার করতে চাইলে: