অনলাইনে আছেন

  • জন ব্লগার

  • ২৭ জন ভিজিটর

নুরুল হক নুরু এবং সুলতান মনসুরের অবস্থা কী একই?

লিখেছেন Sabina Ahmed বুধবার ১৩ মার্চ ২০১৯

নুরুল হক নুরকে ডাকসু নির্বাচনে জিততে দেয়া হয়েছে, যেখানে অন্যদের দেয়া হয় নাই। সরকার হয়তো আশা করছে নুর এই পজিশন প্রত্যাখ্যান করবে। কিন্তু নুর এখন ভালো করেই জানে তার পরবর্তী সিদ্ধান্ত কি হবে। গ্রুপের সবার সাথে আলাপ করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার ম্যাচিওরিটি তার যেমন আছে, তেমন তার গ্রুপেরও আছে।


আমার মতামত - নুর শ্যুড এক্সেপ্ট দ্যা রেজাল্ট। নুরের এই পজিশনা আর সুলতান মনসুরের পজিশন এক নয়। আর নুর শেখ মুজিবও নয়। নুর ইজ নুর। এই মুহূর্তে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নুরকে পুরাপুরি সাপোর্ট করা দরকার। আর নুরও তার পরিষদের সম্মলিত মতামত ছাড়া কিছু করবে বলে আমি বিশ্বাস করি না। নো ম্যাটার হোয়াট, দে শ্যুড কিপ দেয়ার গ্রুপ ইন্ট্যাক্ট।


নুর যদি ভিপি হয়, তাতে আপাতত এক ঢিলে অনেকগুলো পাখি মারা হবে। সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পলিটিক্যালি আরও কিছুদিন রেলেভেন্ট থাকবে। আওয়ামী লীগের সার্কেলের বাইরের ছাত্রদের একজন প্রতিনিধি ডিসিশান মেইকিং সার্কেলে কিছুদিন থাকবে। কিছুদিন এইজন্য বললাম, কারণ ছাত্রলীগ জানপ্রান চেষ্টা করবে নুরকে সরিয়ে দিতে। আর সরকার আর প্রশাসনের সহায়তায় তা হতে লাগবে অল্প কয়েকদিন। যদি না...।


যদি না সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ পলিটক্যালি সাধারণ থেকে সর্বদলীয় এবং সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদে রূপান্তরিত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খুব বিশাল রুপে, ফোর্সফুল আর ইম্প্যাক্টফুল একটা গ্রুপে রূপান্তরিত হয়। যেখানেই নুরকে তারা ধোলাই দিতে আসবে, সাধারণ ছাত্রদের নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে সেখানেই ছাত্রলীগ পাল্টা ধোলাই নিয়ে ফিরে যাবে টাইপ একটা দল। বাট অবশ্যই ফেয়ার একটা দল।


তারপরেও সরকার আছে ছাত্রলীগের পক্ষে। তারা এখন চাইবে হয় নুর ভিপি পজিশন প্রত্যাখ্যান করুক, কিংবা নুর নিজ পরিষদের বাইরে এসে লীগের সাথে হাত মিলাক, এতে করে পরিষদে ভাঙ্গন ধরুক। এই মুহূর্তে সরকার ডিভাইড এন্ড কঙ্কার রুলস এপ্লাই করেছে।


এছাড়াও সরকারি প্রশাসন যেকোনো সময়, যেকোনো উছিলায় নুরকে সরিয়ে দেয়ার ক্ষমতা রাখে। এবং হয়তো শেষমেশ সরকারের সব চালের হার হলে তাই করবে। কিন্তু তারপরেও একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়ে গেছে ভিপি নুরকে ঘিরে। দে শ্যুড টেইক দ্যা চান্স, এন্ড মুভ ফরোয়ার্ড ওইয়াজলি। রিস্ক না নিলে কোন গেইন নাই। কারণ অল্টারনেট হচ্ছে সাধারণ ছাত্রপরিষদ থেকে শুরু করে ছাত্রদল, ইসলামিক ছাত্র দল, সাধারণ ছাত্রছাত্রী সবাইকে ছাত্রলীগ ডাণ্ডা মেরে ক্যাম্পাসে কোণঠাসা করে রাখবে। এবং ধিরে ধিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে উঠবে ছাত্রলীগের অভয়ারণ্য।


ভিপি, শামসুন্নাহার আর কুয়েত মৈত্রী হলের ফলাফল বাদে বাকি পজিশনগুলোর পুনর নির্বাচনের দাবী যৌক্তিক, এবং সেই দাবীতে নুরের দলের মাঠে থাকা উচিৎ বলে মনে করি।


তবে নুর যাই করুক, তার পরিষদের ব্যাকিং ছাড়া নুরর এক স্টেপও সামনে আগানো উচিৎ হবে না। সরকার তাই চায়, আর তা করলে নুর একেবারে একা হয়ে পড়বে আর সেক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আখতারুজ্জামান কিংবা আওয়ামী জিএস রব্বানির সাথে আলোচনা করে নুর কিছুই আদায় করতে পারবে না, খালি পদে পদে ধোঁকা খাবে, আর শেষমেশ রাজনৈতিক আস্তাকুড়ে পতিত হবে।


আপাতত নুরকে ঘিরে যে অপার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে সেই সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার হোক, সেটাই আমার কাম্য। তবে নুর কেবল নুর নয়, নুরের সাথে আছে রাশেদ ফারুক সবাই। আর সবাইকে নিয়েই নুর পরবর্তী কর্মসূচিগুলো দিক সেটাই চাই।


সুলতান মনসুর নুরুল হক নুরু
০ টি মন্তব্য      ৩২০ বার পঠিত         

লেখাটি শেয়ার করতে চাইলে: