অনলাইনে আছেন

  • জন ব্লগার

  • ২৪ জন ভিজিটর

মানুষ ও জ্বীনের বিরোধ হবার নিত্য-নৈমিত্তিক কারণ...

লিখেছেন Nazrul Islam Tipu বুধবার ১৩ মার্চ ২০১৯

মানুষকে জ্বালাতন করতে গিয়ে যদি কোন জ্বীনের ক্ষতি হয় কিংবা মারা যায়, তাহলে জ্বীন সম্প্রদায় তার পক্ষে দাঁড়ায় না। সে কারণেই জ্বালাতন কারী জ্বীনের কাছে যখন অন্য জ্বীন এসে প্রশ্ন করে কেন তুমি তাকে কষ্ট দিচ্ছ? তখন সে ভয়েই নরম হয়ে যায় এবং মাফ চাইতে থাকে। শক্ত করে ধরা হলে, সে ভয় পায়, নরম হয়ে মাফ চাইতে থাকে। সে কারণে বৈদ্যরা রোগীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণের ভান করে। যেন এখনই মেরে ফেলবে, এটাতে জ্বীন ঘাবড়ে যায়। গায়ে পড়ে মানুষদের কষ্ট দেওয়া, জ্বীন সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে অন্যায়-ক্ষমাহীন।

বিপরীতে, মানুষ যদি কখনও জ্বীনের ক্ষতি করে বসে তাহলে তারাও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং মানুষকে ক্ষতি করার জন্য উঠে পড়ে লেগে যায়। এসব জ্বীনকে ছড়ানো অনেক কষ্টকর, পুরো জীবন তার ঘানি টানতে হয়। মানুষ তো স্বীয় চোখে জ্বীন দেখে না। অনেকেই জ্বীনদের জীবন পদ্ধতি সম্পর্কে ধারনা রাখে না। আবার অনেকে হেলা, তাচ্ছিল্য করে নিজের অজান্তেই জ্বীনের ক্ষতি করে বসে। জ্বীনও বেপরোয়া হয়ে উঠে। এসব জ্বীনের উৎপাত একটি ভিন্ন ধরনের। তারা সরাসরি মানুষের উপর সরাসরি ভর করেনা, আবার উৎপাতও ছাড়ে না। সরাসরি ভর করার অর্থ এই মানুষকে জ্বিনের ভাল লেগেছে, এসব জ্বীন সহজে ছাড়ানো যায়, যা প্রথম পর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। চলমান ধাপের জ্বীন মানুষের উপর ভর করেনা, দূরে থেকেই কষ্ট দেয়, ভয় লাগায় কিন্তু কাছে আসেনা এবং পিছুও ছাড়ে না। বৈদ্যের মন্ত্র, মৌলভীর ঝাড়, ফুঁক অবিরত চলতে থাকে কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। টাকার শ্রাদ্ধ দিতে দিতে অনেক মানুষ সর্বস্বান্ত হয়ে যায়। তাদের জন্য পরামর্শ হল এই তিন নম্বর পদ্ধতি।

তিন - অনেক মানুষের সাথে জ্বীনের বন্ধুত্ব থাকে। সেই জ্বীন বন্ধুকে দিয়ে ঐ রোগীর খবর নেওয়া অপেক্ষাকৃত সহজ হয়। বন্ধু জ্বীনকে যদি অনুরোধ করা হয়, একটু দেখেন ঐ ব্যক্তিকে একটা জ্বীনে কষ্ট দিচ্ছে। আপনি একটু সুরাহা করতে পারেন কিনা। এই কাজ সমাধা করা বন্ধু জ্বীনের জন্য একেবারেই সোজা। ঐ ব্যক্তিকে কোন জ্বীন জ্বালাতন করে, তার সাথে যোগাযোগ করে, তার দাবী দাওয়া কি বিস্তারিত সব তথ্য নিয়ে আসতে পারবে। দাবী দাওয়া পূরণ সাপেক্ষে, সেভাবে কাজ করলে জ্বীন মুক্ত করা যায়। এই পদ্ধতিকেই কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে কেউ বাবা, কেউ মামা, কেউ পীর, কেউ দরবেশ সাজার ভাঁওতামি করে। সবাই দাবী করে আমার কাছে বন্ধু জ্বীন আছে কিন্তু দুনিয়াতে এমন কোন মিটার আবিষ্কার হয়নি যদ্বারা জ্বীনের উপস্থিতি মাপা যায়। তাই বহু মানুষ শঠতার আশ্রয় নেয়।

কেউ কেউ চোখ বন্ধ করে, ধ্যানে বসে, বন্ধু জ্বীনকে হাজির করে মানুষের সমস্যার সমাধান করে। এসবের নাম হাজিরা। এ সব নিয়ে বিস্তারিত আসবে পরের পর্বগুলোতে।

এতক্ষণে নিশ্চয়ই আপনাদের ভাবনায় আসতে আসতে পারে। আচ্ছা! কারো কাছে একটা জ্বীন বন্ধু থাকলে তো মানুষের বহু উপকার করা যায়! এ জাতীয় উপকারে মানুষ চোখ বন্ধ করে অর্থকড়িও ঢালে। কথা হল, একপক্ষ চাইলেই তো আর বন্ধুত্ব হয়না, সে জন্য তো মনের মিল বেশী জরুরী। আবার সেই মিল দু'পক্ষের সমান হতে হয়। যার কারণে আমার শত চেষ্টা থাকা সত্ত্বেও কোন জ্বীনের সাথে বন্ধুত্ব হয়নি। আজকাল জ্বীনের সাথে মানুষের গায়ে পড়া বন্ধুত্ব তেমন একটা দেখা যায় না। যেহেতু জ্বীনের বন্ধুত্ব মানুষের জন্য উপকারী। সেহেতু অনেক মানুষ নানাবিধ উপায়ে জ্বীনের সাথে গায়ে পড়া বন্ধুত্ব কিংবা দাসত্ব অর্জন করতে চেষ্টা করে। কেউ সফল হয়, কেউ ব্যর্থ হয়, কেউ প্রাণ হারায়, কেউ অনেক টাকার মালিক বনে যায়।

চলবে..........


জ্বীন জ্বীন ও মানুষ
০ টি মন্তব্য      ৪১২ বার পঠিত         

লেখাটি শেয়ার করতে চাইলে: