অনলাইনে আছেন

  • জন ব্লগার

  • ২১ জন ভিজিটর

পশ্চিমা দেশে ছাত্র সংসদের রূপ...

লিখেছেন জিবরান বুধবার ১৩ মার্চ ২০১৯

ব্রিটিশদের স্টুডেন্ট ইউনিয়ন বা আমাদের ছাত্র সংসদকে ইউএসএ তে বলে স্টুডেন্ট গভর্নমেন্ট। কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে এটাকে স্টুডেন্ট সিনেট বলে। আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু অনার্সের ছাত্রদের নিয়ে স্টুডেন্ট গভর্নমেন্ট, তাই এই নির্বাচন কবে হয়ে গেছে আমি টেরও পাই নি। আজ ওয়েবসাইটে খুঁজে দেখলাম বর্তমান কমিটিতে কারা আছে।

শুধু আমার এই বিশ্ববিদ্যালয় না, এই দেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়েই আমাদের দেশের মতো এত ঘটা করে এই সব নির্বাচন বুঝার উপায় নেই, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আমাদের নেতাদের মতো বিশাল দলবল নিয়ে টহল দিয়ে বেড়ায় না। বিভিন্ন ইভেন্ট, সিম্পোজিয়াম আয়োজন আর সোশ্যাল কন্ট্রিবিউশন নিয়েই এরা ব্যস্ত থাকে। এদের সাথে ডেমোক্রেট বা রিপাবলিকান দলের কোন লেজুড়ও নেই।

পৃথিবীতে এখন গণতন্ত্র ব্যবসায় যারা শীর্ষে, গণতন্ত্র করে করে যারা ফেনা তুলে ফেলছে তাদের প্রভু এই দেশ। ডেমোক্রেট আর রিপাবলিকান দলের ছাত্র শাখাকে বলে কলেজ ডেমোক্রেট আর কলেজ রিপাবলিকান। কলেজ ডেমোক্রেট থেকে পরবর্তীতে বড় নেতার মধ্যে কোন প্রেসিডেন্ট নেই, সর্বোচ্চ সিনেট আর হাউজের রিপ্রেজেন্টেটিভ আছে। কলেজ রিপাবলিকান থেকে উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে আছে হিলারী ক্লিন্টন, আর আছে আমেরিকার ৩০ তম প্রেসিডেন্ট কেলভিন কুলিজ (১৯২৩-১৯২৯)।

ছাত্র সংসদ কেন দরকার? এগুলো ছাড়া নেতৃত্ব তৈরি হয় না! এই সব আইডিয়া যারা আমাদের মাথায় পুশ করে, তাহলে তাদের নিজেদের এই সব পাইপলাইন কেন লাগে না? এগুলো ছাড়া যদি নেতৃত্ব নাই পাওয়া যায় তাহলে আমাদের কয়টা নেতাকে দুনিয়া চেনে আর এই সব ছাত্র সংসদ ছাড়া নেতা হওয়া কয় জনকে আমরা চিনি?

লিংকন, ম্যান্ডেলা, মাহাতির, লুথার কিং, গান্ধী কিংবা হালের ওবামা! কয় জন এই ছাত্র সংসদ নামক পাইপলাইন থেকে এসেছে? এরা ঠিকই নিজেদের ছেলে মেয়েদের পড়ার সময়ে, শেখার সময়ে, নিজেকে চেনার আর গড়ার সময়টা পুরোপুরি সেই কাজেই ব্যায় করতে দিচ্ছে। তরুণ বয়সের একটা ছেলের মাথায় ক্ষমতার লোভ, এক্সট্রা সুবিধা পাওয়ার লোভটা যে তার নেতৃত্বের গুণকে শুরুতেই বরং ধ্বংস করে দিচ্ছে, এই বাস্তবতা আমরাই বুঝি না নাকি অন্ধভাবে গণতন্ত্র কেনায় বুঝার চেষ্টা করার ফুসরতই মেলে না!

প্রাথমিক বিদ্যালয়েও পর্যন্ত ছাত্র সংসদ নির্বাচনের যে হুজুগ বর্তমান সময়ে শুরু হয়েছে, এটা কি গণতন্ত্র বিক্রিতে এদের দারুণভাবে সফলতা, নাকি আমাদের মাথামোটা নেতাদের সস্তায় গণতন্ত্র কেনার সার্থকতা, তারাই ভাল জানেন। সৌদি আরব, মিশরে গণতন্ত্র লাগে না, ইরানের গণতন্ত্র বাহবা পায় না, অথচ আমাদের প্রাইমারি স্কুলেও গণতন্ত্র লাগে!

নেতৃত্ব তৈরির জন্য ছাত্র রাজনীতি দরকার আমিও এক সময় মনে করতাম। কিন্তু দলীয় লেজুড়বৃত্তির ছাত্ররাজনীতি এত মাত্রায় দূষিত হয়ে গেছে, এখান থেকে ভাল কিছু পাওয়ার আর যে কোন আশা নেই, আশে পাশের যে কোন ছাত্রনেতার দিকে পরিষ্কার চোখে তাকালেই বুঝা যায়।

যে দেশের জাতীয় নির্বাচন গণতন্ত্রের নামে প্রহসন, যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে কোন রকম নিয়মকানুন মানা হয় না, সেখানে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের জরুরতটা আসলে কিসে?

এত সব জরুরি সমস্যাকে পাশ কাটিয়ে ডাকসুর দাবীতে যারা দীর্ঘদিন আন্দোলন করে আসছে, প্রগতিশীলতার দাবীদার এই সব দল বুঝে হোক, না বুঝে হোক, গণতন্ত্র ব্যবসায়ী সম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর এখনকার সোল এজেন্ট এর ভূমিকা নিয়েছে। কোটা সংস্কারের মতো বিশাল আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, ভ্যাট বিরোধী আন্দোলনে তো ডাকসুর নেতা লাগে নি!

প্রয়োজন, কখনো সংকট আর ছাত্রজীবনে নিজেকে গড়ার দিকে মনোযোগ, আমাদের অতি উৎসাহী আমদানী করা এই সব বস্তা পচা সিস্টেমের চেয়ে ভালো নেতৃত্ব তৈরি করতে পারবে সেটা মোটামুটি পরিস্কার।


ব্রিটিশ ইংল্যান্ড ছাত্র সংসদ গণতন্ত্র
০ টি মন্তব্য      ৩৬২ বার পঠিত         

লেখাটি শেয়ার করতে চাইলে: