অনলাইনে আছেন

  • জন ব্লগার

  • ৩১ জন ভিজিটর

মানুষের সাথে জ্বীনের সম্পর্ক হবার চিরাচরিত পদ্ধতি

লিখেছেন Nazrul Islam Tipu মঙ্গলবার ১২ মার্চ ২০১৯

দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, জ্বীনেরা তিন ভাবে মানুষের কাছাকাছি হয়।

এক - হঠাৎ মানুষকে আছর করে তথা আবিষ্ট করে ফেলে। এতে আক্রান্ত ব্যক্তি তার স্বাভাবিক খাসিয়তের চেয়ে ভিন্ন ধরনের আচরণ শুরু করে। ধমক, গালাগালি, খিস্তি-খেউর কিছুই বাদ যায়না। চিরদিন যাকে ভদ্রলোক হিসেবে দেখেছেন, জ্বীনে আক্রান্ত হবার পরে তাকে অভদ্র আচরণ করতে দেখা যেতে পারে! এ কারণে মানুষ তাকে ভয় পায়। এই অভদ্র আচরণ কিন্তু মানুষের নয়, তার উপর যে জ্বীনে আছর করেছে, মূলত তারই ব্যক্তি চরিত্র। এই চরিত্র দেখেই বুঝা যাবে, মানুষটিকে কোন শ্রেণীর জ্বীন দ্বারা মোহাবিষ্ট করেছে। ইংল্যান্ডে বসবাস কারী ইংরেজি ভাষী পরিবার বেড়াতে এসেছিল সিলেটে। সেখানে সে জ্বীনের আছর গ্রস্ত হয়। বৈদ্য যখন জ্বিনকে প্রশ্ন করল, তুমি কোত্থেকে তাকে ধরেছ? সে সিলেটী ভাষায় জানাল সিলেট থেকে। অথচ এই ব্যক্তি সিলেটী ভাষা জানতেন না! জ্বীনের বাড়ী সিলেট সে হিসেবে সেও সিলেটী। জ্বীনেরাও মানুষের মত স্থানীয় ভাষায় কথা বলতে পারে। জ্বীনে আক্রান্ত রোগীকে প্রশ্ন করা মানেই জ্বীনকে প্রশ্ন করা।জ্বীন যখন মানুষের উপর ভর করে, তখন মানুষটি জ্বীনের হয়েই কথা বলে। এই অবস্থায় জ্বীনে আক্রান্ত মানুষকে আঘাত করলে মানুষ ও জ্বীন উভয়েই আঘাত পায়। মানুষটি মারা গেলে জ্বীনও মারা যাবে। বাংলাদেশের সিংহভাগ ঘটনাই এ জাতীয়। এ ক্ষেত্রে রোগী সরাসরি উত্তর দেয়, তখন জ্বীনের সাথে কথোপকথনের সুযোগ ঘটে। জ্বীন কেন রোগীর উপর ভর করেছে? কেন মানুষের উপর আকৃষ্ট হয়েছে? কি করলে জ্বীন চলে যাবে? এসব প্রশ্নের সরাসরি উত্তর জানা যায়। প্রয়োজনীয় পদ্ধতি অনুসরণ করে সহজেই রোগীকে জ্বীন মুক্ত করা যায়।

দুই - এই ক্ষেত্রে জ্বীন মানুষের উপর আছর বা ভর করেনা। সে দূরত্ব বজায় রেখে চলে। জ্বীনের প্রয়োজন ভেদে মানুষকে ভয় লাগায় কখনও লোভ দেখায়। রোগী বাবা-মাকে সরাসরি বলবে ওই ওরা এসেছে, আমায় ডাকছে কিংবা কুকুর, সাপ হয়ে ভয় লাগাচ্ছে। জ্বীনদের অবস্থান দূরে হলেও তাদের কথা রোগী শুনতে পায়। মাঝে মাঝে কিংবা বারে বারে কিংবা প্রতিদিন এভাবে জ্বালাতন করতে পারে। রোগীকে বন্ধুত্বের আহবান জানায়। রোগী যদিও তাদেরকে বাহিরে দেখতে পায় কিন্তু তার অবস্থায় জ্বীন রোগীর মনের ভিতরেই। এভাবেই সে প্রভাব বিস্তার করে। এটাতেই রোগী বেশী কষ্ট পায়, মানসিক বিপর্যস্ত হয়, তাদের দেখলে কিছু ভাল লাগেনা। তবে রোগী স্বাভাবিক জীবন করে। খায়, দায়, ফুর্তি সবই করে। যখন জ্বীন দেখে তখনই আবিষ্ট হয় ও মানসিক চাপে পড়ে। কোন এক ভুলে রোগী যদি তাদের অনুসরণ করে ঘরের বাহির হয়, তাহলে তাকে বাহিরে নিয়ে চরম ক্ষতি করে।

বস্তুত আমাকেও গ্রামের মানুষ এ ধরনের জ্বীনে আক্রান্ত বলে ধারণা করত। প্রথমোক্ত বর্ণনামতে যেভাবে রোগীকে প্রশ্ন করে জ্বীনের সাথে কথা বলা যায়, দ্বিতীয় প্রকারের রোগীর ক্ষেত্রে তা পারা যায় না। কেননা জ্বীন তো ভর করে নাই, তাই জ্বীনের সাথে কথা বলার সুযোগ থাকেনা। কোন ভাবে ফুসলিয়ে তাকে যদি একবার ভর করানো যায় তাহলে ছাড়ানো যাবে। উদাহরন হিসেবে বুঝার জন্য, এটা হল বাড়ির সেই ক্ষতিকর কুকুরের মত যার উপস্থিতি বাড়ীতে আছে, তাই ভয় আছে কিন্তু তাকে আটকানো যাচ্ছে না।

এদের ক্ষেত্রে রোগীর বাবা-মা, দাদা-দাদী সহ কাছের মানুষেরা ভাল ভূমিকা রাখতে পারে। রোগীকে হেলা না করে কাছে বসাতে হবে। তখন তাকে বলা হবে তুমি জ্বিনদেরকে আমাদের ঘরে ডাক। জিজ্ঞাসা করো তারা কি চায়? কেন তোমাকে পছন্দ করেছে? কি করলে তারা তোমাকে ছেড়ে চলে যাবে ইত্যাদি। এজাতীয় প্রলোভনে জ্বীনেরা সহজে রাজী হতে চায় না। তারা বলবে আমারা বন্ধুত্ব করতে চাই, উপকার করতে চাই, তাই ছেড়ে যেতে চাইনা এবং কোন ক্ষতি করব না।

তারপরও তাদের কাছে ডাকতে হবে। যদি জ্বীনেরা কাছে আসতে চায় ভাল। তারা যত কাছাকাছি হবে, রোগীর চরিত্র পরিবর্তনে ভিন্নতা দেখা যাবে। এক পর্যায়ে তারা আরো কাছে আসতে ভয় পাবে। তখনই রোগীর প্রতি রুদ্র মূর্তি ধারণ করতে হবে। তাকে ধমক দিয়ে বলতে হবে, হয় কাছে আসতে বল নতুবা এখনই চলে যেতে বল। অন্যতায় তোমাকে এখনিই মেরে ফেলব। অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে মেরে ফেলার হুমকিকে জ্বীন খুব বেশী ভয় পায়। তখনই জ্বীন মাপ চাইতে থাকবে। দ্বিতীয়বার এই কাজ করব না, কোনদিন আসব না ইত্যাদি বলে নিষ্কৃতি চাইবে। জ্বীন চলে যাবার পরেই রোগী জ্ঞান হারায়। যখন তার চেতনা ফিরে আসবে, তখন বুঝতেই পারবেনা ইতিপূর্বে তাকে নিয়ে কি হয়েছিল।


জ্বীন
০ টি মন্তব্য      ১১০২ বার পঠিত         

লেখাটি শেয়ার করতে চাইলে: