অনলাইনে আছেন

  • জন ব্লগার

  • ১৮ জন ভিজিটর

জীবন থেকে নেওয়া ...

লিখেছেন রূপা মঙ্গলবার ১২ মার্চ ২০১৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর সর্বোচ্চ ডিগ্রী থাকা স্বত্তেও মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ফেসবুক এসবের ব্যাপারে আমি একেবারেই মূর্খ ছিলাম । যাকে বলে আনাড়ি। মোবাইল, ল্যাপটপ, ফেসবুক নিয়ে আমার ছেলেরা, আত্মীয়রা, বন্ধুরা আশেপাশের সবাই যখন পাকাপোক্ত আমি তখন অবুঝ শিশু। আগ্রহ কম থাকার কারণেই সম্ভবতঃ এই অবস্থা। ৯৬/৯৭ সালে সবার হাতে হাতে যখন মোবাইল তখন আমাদের পাঁচ সদস্যের পুরো পরিবারে কারোরই মোবাইল ছিল না। সেইসময় বড়ছেলে আর মেঝ ছেলে সপ্তাহে তিনদিন আবাহনী মাঠে ক্রিকেট প্রাকটিস করতে যায়। দুই ছেলেই বয়সভিত্তিক ক্রিকেট খেলার জন্য প্রায়ই বিকেএসপিতে যায়, ক্যাম্পিং এর জন্য কিছুদিন ওখানে থাকে। ওদের খোঁজখবর নেয়ার জন্য একটা মোবাইল ফোন তখন খুব জরুরী ছিল। তারপরেও কেনা হচ্ছিলনা। আমি বরাবরই (বিয়ের পর) কোন জিনিস মন চাইলেই যখন তখন কিনতে পারতামনা। আবার অনেক সময় কিনতে পারলেও বাচ্চারা চাওয়ার সাথে সাথেই কিনে দিতামনা।আমি মনে করতাম যদি চাইলেই সাথে সাথে দিয়ে দেই তাহলে ওদের অভ্যাস খারাপ হয়ে যাবে। আর আমাদের মধ্যবিত্ত পরিবারে টাকা পয়সার সীমাবদ্ধতা তা ছিলই। বড় ছেলে যখন পুরোদমে ক্রিকেট খেলা শুরু করলো ওকে প্রায়ই ঢাকার বাইরে যেতে হতো। ওর বন্ধুদের তখন অনেকেরই মোবাইল আছে। আমার বাসার ল্যান্ড ফোন থেকে ওর বন্ধুদের মোবাইলে ফোন করে খবর নিতাম। রুমমেট কারো মোবাইল ফোন থাকলে ২/৩ দিন পর ছেলের সাথে কথা বলতাম। একসময় মনে হলো বড় ছেলের একটা মোবাইল খুব জরুরী। প্রথম মোবাইল ফোনটি ওকে কিনে দেয়া হলো। এরপর ওর আব্বার জন্য কেনা হলো। এরপর আমার কোন এক জন্মদিনে আবীরের আব্বা বেশ নাটকীয় ভাবে আমাকে একটা সীম সহ নকিয়া মোবাইল সেট উপহার দিলেন।

মোবাইল হাতে পেয়ে খুব খুশী হয়েছিলাম সেদিন। কিন্তু কেমন করে ব্যবহার করতে হবে সেসব শিখার কোন আগ্রহই ছিলনা আমার। ছেলেদেরকে বল্লাম শুধু রিসিভ করা আর কাউকে কল করাটা শিখিয়ে দাও। আর বেশী কিছু দরকার নেই। কিছুদিন এভাবেই চললো। এরপর বড়ছেলে ব্যস্ততার মাঝে কল না দিয়ে মাঝে মাঝে বার্তা পাঠাতে শুরু করলো।বাধ্য হয়ে বার্তার উত্তর দেয়া শিখতে হলো।খুব কস্ট করে অনেক সময় নিয়ে দু'এক লাইন লিখি, কিন্তু send করতে পারিনা।ছোট ছেলেকে বলি, দাদাকে send করে দাও। এরপর শিখলাম যার কাছ থেকে এস এম এস আসে সাথে সাথে ওকে send করতে পারি।কিন্তু নুতন কাউকে send করা তখনো শিখিনি।একদিন বান্ধবীর কাছ থেকে একটা বার্তা পেয়ে মনে হলো একটু লম্বা উত্তর দেই। ছোট ছেলে আকীব কে বল্লাম, আমি লিখছি তুমি send করে দিওতো। এই বলে লিখতে আরম্ভ করলাম। আমার লেখার স্পীড দেখে ছোট ছেলে আকীব বল্লো, আম্মু আমি ঘুমালাম। তোমার লেখা শেষ হলে আমাকে জাগিয়ে দিও, আমি পাঠিয়ে দেবো। মনে মনে ছেলে কে একটা গালি দিলাম। মাস্টার্স পাশ করা মা'কে নিয়ে উপহাস ?

এর কিছুদিন পর একদিন খুব ইচ্ছা হলো আমার বেটার হাফ মেজর সাহেব কে একটা বার্তা পাঠিয়ে চমকে দেবো। বেশ সময় নিয়ে (ইংরেজী বর্নমালা দিয়ে বাংলায়) মনের মাধুরী মিশিয়ে দারুন রোমান্টিক একটা বার্তা লিখলাম আর মনে মনে ভাবলাম, মেজর সাহেব, আপনি যতবড় কঠিন হৃদয়ের মিলিটারীই হননা কেন এই বার্তা পেলে ফিল্ড মার্শালের মনও গলে যাবে। আর আপনিতো একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজর। বার্তা লিখে send করে অপেক্ষা করছি। আর পুলকিত হচ্ছি। দেখি কি উত্তর আসে? একটু পরেই মোবাইলে রিং টোন। আওয়াজ শুনে মনে মনে ভাবলাম আমার বার্তা পেয়ে উনি ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন। কি লিখবেন হয়তো ভেবে পাচ্ছেন না। তাই সরাসরি জবাব দেয়ার কথা ভেবেই কল দিয়েছেন।মোবাইল এর দিকে না তাকিয়েই উচ্ছ্বসিত কন্ঠে বল্লাম, হ্যালো। 
ওই প্রান্ত থেকে বড় পুত্র শাহরিয়ার নাফীসের গলা।
আম্মু, তুমি কি কাউকে কোন এসএমএস পাঠিয়েছো ?
হ্যাঁ, মানে, ইয়ে মানে, কেন বাবা ?
কাকে পাঠিয়েছো ?
তোমার আব্বুকে।
আম্মু, তুমিতো আব্বুকে না পাঠিয়ে আমাকে পাঠিয়েছো।
জিহ্বায় কামড় দিয়ে মনে মনে বল্লাম, সর্বনাশ! ছেলের বাপকে পাঠাতে গিয়ে ভুল করে ছেলেকে পাঠিয়ে দিয়েছি। ভাগ্যিস ! আবীরের আব্বার বদলে আবীরকে পাঠিয়েছি। কিন্তু ভুল করে যদি অন্য কোন আব্বার কাছে চলে যেতো তাহলে কি হতো ? এরপর আর ভুল হয়নি। যতবার বার্তা পাঠিয়েছি যথেষ্ট সতর্কতার সাথেই পাঠিয়েছি।


জীভন জীবনের গল্প
০ টি মন্তব্য      ৪৮৪ বার পঠিত         

লেখাটি শেয়ার করতে চাইলে: