অনলাইনে আছেন

  • জন ব্লগার

  • ১৮ জন ভিজিটর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর ছাত্র সমস্যা কি বলেন তো??

লিখেছেন Muhammad Sajal সোমবার ১১ মার্চ ২০১৯

আমি বলবো, এক নম্বর ছাত্র সমস্যা হল আবাসন সমস্যা। ছাত্রদের থাকার জায়গার সঙ্কট এবং এই সঙ্কটকে পুজি করে চালায়ে যাওয়া ছ্যাচড়া লেজুড়বৃত্তিকেন্দ্রিক রাজনীতি শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের না, গোটা বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচাইতে বড় ছাত্র সমস্যা। এই সমস্যার জীবাণু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অসামান্য নৈপুণ্যের সাথে দেশের সমস্ত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি রফতানি করসে।
ঢাকা শহরে বাসা ভাড়া করে থাকাটা খুব একটা সহজ ব্যাপার না, স্পেশালি যখন কোন মফস্বলের মধ্যবিত্ত পরিবার তার সবচেয়ে ভাল ছেলে বা মেয়েটাকে ঢাকায় পাঠায়, তখন সেই পরিবার ঐ ছেলে বা মেয়েটার পেছনে মাসে সাত থেকে আট হাজার টাকার বেশি সাধারনত দেয়ার ক্ষমতা রাখে না। টেনেটুনে অঙ্কটা দশ হাজার টাকা তক নেয়া যায়। বাসা ভাড়া মারফত তিন হাজার টাকাও যদি এখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয়, আট হাজার টাকা গড় বাজেটের প্রায় চল্লিশ শতাংশ জায়গার মধ্যে নাই হয়ে যায়।
শুধু সেটাই না, এরপর, ক্যাম্পাসের আশেপাশে থাকার জন্য প্রচুর জায়গা আছে বিষয়টা তা না।শাহবাগ থেকে এলিফ্যান্ট রোড এবং পল্টন, কোনটাই আবাসিক এলাকা না। ফলে বাকি থাকে ঢাকা কলেজের ওপারের কিছু এরিয়া, কাটাবন এবং বিশেষভাবে আজিমপুর। 
বাইরে থাকার সাথে সাথে যুক্ত হয় বাড়তি খাওয়া খরচ আর কে না জানে যে এই শহরে মাসে পাচ হাজার টাকার কমে একটা মানুষের তিনবেলা খাওয়া মোটামুটি অসম্ভব ব্যাপার। বুয়া রেখে বাজার করে খেলেও সব মিলায়ে তিন সাড়ে তিনের নিচে হয় না। 
ব্যস, তাহলে আট হাজার টাকার ছয় হাজার টাকা একটা ফার্স্ট ইয়ারের স্টুডেন্টের কেবল কোনমতে থাকা আর খাওয়ার জন্য শেষ হয়ে যায়।
আইরনি হল, অন্তত ৩০% ছেলেমেয়ের পরিবার এই আট হাজার টাকাও দিতে পারে না।
তাহলে, এই ছেলেমেয়েগুলা কই যাবে?? 
তারা কি ফুটপাতে ঘুমায়ে সকালে ক্লাস করতে আসবে??
এই হিসাবের মাধ্যমে আমাদের কাছে পরিষ্কার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত অর্ধেক(প্রকৃত সংখ্যা এর বেশি হবার সম্ভাবনাই বেশি) ছাত্রছাত্রী যাদের পরিবার ঢাকায় থাকে না তাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মাথার ওপর একটা ছাদ থাকা সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।
কিন্তু আমাদের ইউনিভার্সিটিতে উনিশ শো কটকটি সাল থেকে আইন আছে যে ফার্স্ট ইয়ারে হলে সিট দেওয়া হবে না।
যে শুয়োর কা আওলাদেরা বিশ্ববিদ্যালয় চালায় তারা তো বটেই, তাদের চৌদ্দগুষ্ঠি জানে যে ফার্স্ট ইয়ার হলে থাকে। গণরুমে বা বারান্দায় কুকুর বেড়ালের মত করে শুয়ে থাকে রাতে।
যেহেতু এই ছেলেমেয়েরা, বিশেষভাবে ছেলেরা এইভাবে কুকুর বেড়ালের মত করে থাকছেই, তাহলে এদের লিগ্যালাইজ করে দিলেই তো হয়!!

কিন্তু এরা তা করতে চেষ্টা করে নাই। সব তো আবু জুনায়েদের ভাই ব্রাদার, করবে কিভাবে??

পুরা দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোর লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতির মডেল দাঁড়িয়ে আছে এই হলের সিট কেন্দ্রিক সংকটকে পুজি করে। 
যেহেতু হলে না থাকলে অনেকেরই ফুটপাতে এবং বাকি অনেকের তিন চার হাজার টাকা দিয়ে আজিমপুরে/অন্য কোথাও থাকা লাগবে, আর তাদেরকে নিয়মের বাইরে গিয়ে হলে উঠানোর ক্ষমতাটা সহমত ভাইদের হাতে থাকে, তাই এই ছেলেগুলাকে সহমত ভাইদের কাছে আসতে হয়।উপায়ান্তর না পেয়েই আসতে হয়।
কুকুর বেড়ালের মত কুণ্ডলী পাকিয়ে শোয়ার সুবিধা(??)টুকুর বদলে এরা গোলামী করতে শেখে। 
গেস্টরুমে ম্যানারের নামে কি শেখানো হয় তা আমরা জানি। 
যারা বলেন গেস্টরুমে ম্যানার শিখায়ে ভরায়ে ফেলা হয়, তাদের সাথে নিয়ে যদি সংশ্লিষ্ট হলের যেকোন টয়লেটে নিয়ে যাওয়া হয় তাহলেই দিনের আলোর মত ফকফকা হয়ে যাবে ম্যানারের কোয়ালিটিটা কি। অসহায় এই ছেলেদের একটা মাথা গোজার জায়গা দেয়ার বিনিময়ে ক্রমে রাজনৈতিক ক্যাডারে পরিনত করার যে মেশিন প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন আছে, এর গোড়া হল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। যে ছেলে থাকার জায়গার জন্য আপনার ওপর নির্ভরশীল, সে আপনার পায়ে পায়ে ঘুরবে। যার থাকার জায়গা আছে সে রাজনীতি করতে বাধ্য না। অতএব, ছাত্রদের থাকার অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে হবে, বহরাগত উঠিয়ে, মেয়াদোত্তীর্নদের হলে রেখে কৃত্রিম সিট সংকট তৈরি করে রাখতে হবে, তারপর গণরুমে কুকুর-বেড়ালের মত ঘুমাতে দেয়ার বিনিময়ে ছাত্রদের বানাতে হবে সহমত ভাই। দিস ইজ দ্যা মেকানিজম ওয়ার্কিং ইনসাইড এভরি সিঙ্গল পাবলিক ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট পলিটিক্স।

ফিনানশিয়ালি একটা ফার্স্ট ইয়ারের ছেলে বা মেয়ে ক্যাম্পাসের টোকাইদের চেয়েও বেশি ভালনারেবল, দ্যাট ইজ দ্যা আলটিমেট ট্রুথ। টোকাইরা ঘাটতিতে পড়লে ভিক্ষা করতে বা চুরি করতে পারে, এরা পারে না।
টোকাইদের অনেক রকম ইনকাম সোর্স থাকে, কিছু রিনাউনড ডিপার্টমেন্ট বাদ দিলে অন্যান্য ডিপার্টমেন্টের ফার্স্ট ইয়ারের ছেলেপেলেকে কেউ একটা টিউশনিও সহজে দিতে চায় না।

এই ছেলেপেলেদের হলে জায়গা না দিয়ে অন্যদের হলে উঠানোটা কি পেটিকোট খুলে মাথায় ঘোমটা দেয়ার মত নগ্ন বেসাতি নয়??

আমাদের নির্লজ্জ্ব শিক্ষক সমাজ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সরকারী হালুয়া রুটির লোভে কোন প্রতিবাদ না করেই এই স্ট্যাটাস কো কে টিকিয়ে রেখেছেন। এরা যতই কোট-স্যুটে শরীর ঢাকেন, আদতে যে তারা উলঙ্গ তা বোধহয় দীর্ঘদিন যাবত উলঙ্গপনা করে করে তারা ভুলে গেছেন।

ডাকসু ইলেকশনে কি ধরনের ভোট হবে তা অলরেডি আমার বোঝা হয়ে গেছে।

 

তবু যদি আপনি ভোট দিতে যান, যাবার সময় খেয়াল করে দেইখেন, কাকে ভোট দিলে সে এই এক নম্বর ছাত্র সমস্যা, ফার্স্ট ইয়ারের হলে ওঠাকে লিগ্যালাইজ করতে পারবে। তাকেই ভোটটা দিয়েন প্লিজ।
প্রতিশ্রুতি অনেকেই দেয়, কিন্তু সত্যিকারের সদিচ্ছা কাদের আছে বা থাকতে পারে আমাদের না জানার কথা না। ভোটটা তাদের দেন।
হয়তো আপনার ভোট কাউন্ট হবে না, তবু ভোট দেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আজকে এই অবস্থা শুধুমাত্র সক্রিয় ডাকসু না থাকার কারনে।
ডাকসু একবার রান করুক, হ্যা, এখন হয়তো গণশত্রুরাই জিতবে, যেভাবেই হোক জিতবে, কিন্তু তবু, এই দাবিগুলা তোলার একটা জায়গা তৈরি হোক।
নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভাল, কানা মামার চিকিৎসাটা হয় তো একদিন না একদিন করানো যেতেই পারে।


ঢাবি ডাকসু
০ টি মন্তব্য      ৩৮৪ বার পঠিত         

লেখাটি শেয়ার করতে চাইলে: