অনলাইনে আছেন

  • জন ব্লগার

  • ৩৭ জন ভিজিটর

কাগমারি সম্মেলন ও আহা খা ভাসানী

লিখেছেন আফগানী মঙ্গলবার ১৯ নভেম্বর ২০১৯

আহা খা ভাসানীর ব্যাপারে একটি মুখরোচক কথা হলো তিনি ১৯৫৭ সালে টাঙ্গাইলের কাগমারিতে একটি সম্মেলন করেন। সেই সম্মেলন থেকে তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে 'আসসালামু আলাইকুম' বলে তাদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদের হুমকি দেন।

 

কিন্তু তা সর্বৈব মিথ্যে কথা

 

১৯৫৭ সালে আহা খা ভাসানী আওয়ামী লীগের পূর্ব-পাকিস্তান সভাপতি। অন্যদিকে সোহরাওয়ার্দি ছিলেন নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সেসময় তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। মানে সেসময় পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন দল ছিলো আওয়ামীলীগ।

 

৫৭ সালের সম্মেলন কোনোভাবেই পূর্ব-পশ্চিমের বিষয় ছিলো না। এটা ছিলো সংবিধান ইস্যু ও বৈদেশিক নীতি। পাকিস্তানের সংবিধানের দুইটি মৌলিক বিষয়ে ভাসানীর সাথে সোহরাওয়ার্দির বিরোধ হয়। সেই বিরোধের সূত্র ধরে কাগমারি সম্মেলন।

 

তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের সম্মেলন

১- পাকিস্তানকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ঘোষণা

২- সংখ্যালঘুদের আলাদা নির্বাচনের ব্যবস্থা

৩- পাক-মার্কিন চুক্তি।

 

ভাসানী সোহরাওয়ার্দির মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঘেঁষা বৈদেশিক নীতিরও বিরোধিতা করেন। তিনি চেয়েছিলেন চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে।

 

এই প্রসঙ্গে বদরুদ্দিন ওমর বলেন, ভাসানী সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে রেগে উঠে শহীদ সোহরাওয়ার্দী কে লক্ষ্য করে বলেছিলেন,“শহীদ, তুমি আজ আমাকে পাক-মার্কিন সামরিক চুক্তি সমর্থন করতে বলছো। তুমি যদি আমাকে বন্দুকের নলের সামনে দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞাস করো, আমি বলবো, 'না'! তুমি যদি আমাকে কামানের সামনে দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞাস করো আমি বলবো 'না'! 'না'! তুমি আমাকে যদি আমার কবরে গিয়েও জিজ্ঞাস করো সেখান থেকে আমি চিৎকার করে বলবো, 'না'! 'না'!'”

 

এ মতবিরোধের কারণে আওয়ামী লীগে ভাঙন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ভাসানী তার পক্ষে খুব একটা নেতাকে সম্মত করতে সক্ষম হন নি। এই বিষয়ে শেমু রহমান তার কারাগারের রোজনামচা বইতে বলেছেন ভাসানী সোহরাওয়ার্দিকে বিপদে ফেলতে মীরজাফরের নাতি ও পাকিস্তানের ১ম প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দর মির্যার থেকে টাকা খেয়েছেন ও তার সাথে গোপন আঁতাত করেছিলেন।

 

আমি অবশ্য সোহরাওয়ার্দির পোষ্য লাঠিয়াল শেমু রহমানকে বিশ্বাস করিনি। আমি মনে করি ভাসানী তার মাওবাদী আদর্শের সূত্র ধরেই কাগমারি সম্মেলনে বক্তব্য রেখেছেন।

 

যাই হোক ১৯৫৭ সালে আহা খা ভাসানী আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেন এবং ঢাকায় পাকিস্তানের সকল বামপন্থি দলের একটি সম্মেলন আহবান করেন। অতঃপর সেই সম্মেলন থেকে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) নামে একটি নতুন দল গঠন করেন। তিনি এ দলের সভাপতি হন এবং এর সেক্রেটারি জেনারেল হন পশ্চিম পাকিস্তানের মাহমুদুল হক ওসমানী। এ সময় থেকে ভাসানী প্রকাশ্যে বামপন্থি রাজনীতির অনুসরণ করতে থাকেন।

 

সুতরাং যারা কাগমারি নিয়ে ভাসানীর পশ্চিম পাকিস্তান বিদ্বেষ বলতে চান তারা আসলে সত্যের অপলাপ করেন। ১৯৬৩ সালে ভাসানী চীন ভ্রমণে যান এবং ১৯৬৪ সালে হাভানায় বিশ্ব শান্তি সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬৭ সালে বিশ্ব সমাজতন্ত্র মস্কোপন্থি ও চীনপন্থি এ দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে। পূর্ব পাকিস্তান ন্যাপও ভাগ হয় এবং ভাসানী চীনপন্থি দলের নেতৃত্বে থাকেন।

 

মস্কোপন্থী ন্যাপের সভাপতি হন খান আবদুল ওয়ালী খান। পূর্ব পাকিস্তান ওয়ালী ন্যাপের সভাপতি ছিলেন অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ। এ অংশ মোজাফফর ন্যাপ নামেও পরিচিত হয়।

 

ভারতের বিরুদ্ধে আহা খা ভাসানীর অবস্থান ছিলো পুরোটাই পাবলিক ডিমান্ড বা জন আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে। পাকিস্তানের মুসলিমদের ভারতবিরোধী অবস্থানকে তিনি কাজে লাগাতে নানান সময় ভারতের বিরুদ্ধে হুমকি দিতেন না লংমার্চের মতো লোক দেখানো কর্মসূচী করতেন।

 

এই ব্যাপারে মুজিব, মোনায়েম সরকার, মোজাফফরসহ অনেকেই লিখেছেন, তারা যুদ্ধের সময় দেখতেন ভাসানী একেবারেই নিরুদ্বিগ্ন কারণ সে ইন্দিরার উপর আস্থাশীল।


ভাসানী আওয়ামী লীগ লাল মাওলানা
০ টি মন্তব্য      ৩৯২ বার পঠিত         

লেখাটি শেয়ার করতে চাইলে: