অনলাইনে আছেন

  • জন ব্লগার

  • ২০ জন ভিজিটর

আমাদের আসল সমস্যার দিকে নজর দিতে হবে

লিখেছেন আফগানী বুধবার ০৬ নভেম্বর ২০১৯

এদেশে সবচেয়ে নির্যাতিত হন শিক্ষকরা। তাদের পুলিশ পেটায়, ছাত্রলীগ পেটায়, আদু ভাইরা পেটায়, সরকার পেটায়, এমপিরা পেটায়, আওয়ামী নেতারা পেটায়।

 

এ দেশে এখন নির্মমতাগুলো কেন যেন গা সয়ে গেছে মনে হয়। তাই হায় হায় রব উঠলেও প্রতিকারহীনভাবেই চলতে থাকে চর্চা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যসমেত ছাত্রলীগের দুর্নীতি নিয়ে কত শোরগোল উঠল, কিছু হলো না। এদিকে আজ মঙ্গলবার আন্দোলনরত শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের ওপর ন্যক্কারজনক হামলা হয়েছে। অভিযোগ সেই ছাত্রলীগের দিকেই। এর মহড়া হয়েছিল কয়েক দিন আগে, যখন জাবির একজন সহকারী প্রক্টর প্রতিবাদী ছাত্রছাত্রীদের ওপর চড়াও হয়েছিলেন। এখন সরাসরি শিক্ষকদের ওপর হামলা হলো। এটাও কি গা-সওয়া হয়ে যাবে? কোনো কিছুতেই কি এরা থামবে না?

 

অনেক শিক্ষকই যেমন ক্ষমতা ধ্বজাধারী হওয়ার জন্য তদবিরে দিন-রাতের দৈর্ঘ্য তোয়াক্কা করছেন না, তেমনি শিক্ষার্থী-শিক্ষকের সম্পর্কেও এসেছে নানা পরিবর্তন, তবে সেটি এখন দুদিক থেকেই ভয়ের সম্পর্কে এসে ঠেকেছে অনেকটাই। শিক্ষকেরা যেমন শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা দিচ্ছেন, হুমকি দিচ্ছেন, একদল শিক্ষার্থীকে আরেক দল শিক্ষার্থী মারধর করলেও টুঁ শব্দটি করছেন না। এমনকি মেরে ফেললেও না। তেমনি শিক্ষার্থীরাও শিক্ষকদের গায়ে হাত দিতে কিংবা অসম্মান করতে দ্বিধা বোধ করছেন না।

 

বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এর নেতৃত্ব দিচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রলীগ। সম্প্রতি রাজশাহী সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত করার পর পানিতে ফেলে দেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। তাঁর অপরাধ, তিনি অকৃতকার্য শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেননি। যার ফলে বিক্ষুব্ধ হয়ে এ ঘটনা ভয়ংকর ঘটনাটি ঘটান সপ্তম পর্বের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের নেতা কামাল হোসেন সৌরভ।

 

এই বছরের জুলাই মাসে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (ইউএসটিসি) ইংরেজি বিভাগের উপদেষ্টা অধ্যাপক মাসুদ মাহমুদের গায়ে কেরোসিন ঢেলে দেন তাঁরই কয়েকজন ছাত্র। প্রথম দিকে তাঁর বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষের পাঠে ‘যৌন বাতচিতে’র অভিযোগ আনলেও তদন্ত কমিটি এর সত্যতা পায়নি। পরে জানা যায় আসল কারণ। কিছু শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাস না করায় তাঁদের পরীক্ষা দিতে দেননি অধ্যাপক মাসুদ মাহমুদ। তাঁর নৈতিক অবস্থানের মাশুল দিতে হয়েছে এভাবে। এ ক্ষেত্রেও ক্ষমতাসীন সংগঠনের পৃষ্ঠপোষকতা ছিল বলে পরে জানা যায়।

 

গত ৬ মে পাবনা সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজে উচ্চমাধ্যমিকের উচ্চতর গণিত পরীক্ষা চলাকালে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে দুই শিক্ষার্থীর পরীক্ষার খাতা কিছু সময়ের জন্য জব্দ করেন প্রভাষক মাসুদুর রহমান। এ ঘটনায় পরীক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয় ওই শিক্ষকের ওপর। এর জের ধরে ১২ মে কলেজ থেকে বের হওয়ার সময় কলেজের গেটেই ছাত্রলীগের কর্মীরা মাসুদুরের ওপর হামলা চালিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।

 

টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের নেতাদের হাতে শিক্ষক লাঞ্ছিত হওয়ার প্রতিবাদে ও দোষী ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে একসঙ্গে ৫৬ জন শিক্ষক প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সোমবার পদত্যাগ করেছেন।

 

এর আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ্যতা না থাকায় মামুন খানকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেননি নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের সে সময়কার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক গোলাম মইনুদ্দিন। এ নিয়ে সেই শিক্ষকের সঙ্গে মামুন খান বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। একপর্যায়ে তিনি ওই শিক্ষককে কয়েক দফায় দেয়ালের সঙ্গে ধাক্কা দেন এবং মাথায় এলোপাতাড়ি থাপ্পড় দিয়েছিলেন বলে পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছিল।

 

তাহলে আমরা শিক্ষার্থী-শিক্ষক সম্পর্কের যে চলমান রূপ দেখছি, তার মধ্যে দুটো স্পষ্ট ধারা আছে। একটি হলো ক্ষমতাকেন্দ্রিক সম্পর্ক যেখানে ক্ষমতার ভাগ-বাঁটোয়ারা এবং ক্ষমতার চর্চাই প্রাধান্য পায়। অন্য একটি ধারা হলো, যেসব শিক্ষক নীতি-নৈতিকতা বজায় রাখতে চান, তাঁদের জীবন ঝুঁকিতে পড়া।

 

এসব থেকে একটি চিত্রই খুব প্রকটভাবে বোঝা যায়, আর সেই চিত্রটি হলো, শিক্ষাব্যবস্থা বলে কিছু নেই। বরং সেটা হয়েছে ক্ষমতা চর্চা ও দুর্নীতির আখড়া। যেখানে শুধু পাসের হার বাড়িয়ে শিক্ষার মান দেখানো হয়, কিন্তু আসল যে স্তম্ভ, যেখানে শিক্ষার্থী-শিক্ষকের সম্পর্ক হবে মানবিক, সম্মান-ভালোবাসার, সেটি বহু আগেই দেয়ালের আস্তর খসার মতো খসে পড়েছে। এমন নয় যে কর্তাব্যক্তিরা বিষয়গুলো জানেন না, দেখতে পাচ্ছেন না। তাঁরা জানেন এবং জেনেশুনেই বিষয়গুলোকে অনুমোদন দিচ্ছেন। তা না হলে কেন বারবার একই ঘটনা ঘটছে। এখন কোনো শিক্ষক তাহলে আর নীতি-নৈতিকতা ও নিয়মের কথা বলতে পারবেন না? প্রতিষ্ঠানের নিয়মকানুন বলে কিছু থাকবে না? শিক্ষার্থীদের কাজ তাহলে আসলে কী? এই শিক্ষার্থী-শিক্ষক সম্পর্কের মেরামত না হলে এ সমাজে আর কোনো সম্পর্কই টিকবে না।

 

তবে এর পেছনে কে দায়ী? যদি শুধু ছাত্রলীগকে দায়ি করেন তবে তা কোনোভাবেই সথিক হবে না। ছাত্রলীগ নামের এই দানব কারা তৈরি করেছে তাদের বের করতে হবে। এই ছাত্রলীগ দিয়ে সরকার ও একশ্রেণীর শিক্ষকরা বিরোধীমতের ছাত্রদের বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া করেছে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নির্যাতনের যতগুলো ঘটনা ঘটেছে তার পেছনে অন্য শিক্ষকদের ভূমিকা রয়েছে। শিক্ষকদেরই এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কী করবেন? আজকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীর পেছনে যিনি সবচেয়ে বেশি দায়ি তিনি হলেন উপাচার্য ফারজানা ইসলাম।

 

কেন এই শিক্ষকরা ক্রেজি হয়ে উঠেন? কারণ স্বৈরাচারী সরকার কিছু শিক্ষককে অবৈধ সুবিধা দিয়ে আঙ্গুল থেকে কলাগাছ বানিয়ে ফেলেন। তারা সরকারের দাসে পরিণত হয়। আর সরকারের আনুকূল্য নিয়ে তারা তৈরি দুর্নীতির মহা আখড়া। তারা তাদের সেই সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে পোষা কুত্তা হিসেবে ছাত্রলীগের সহায়তা নেন। মূল সমস্যা হলো জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা না হওয়া। যতদিন স্বৈরাচারী ভোটচোর হাসিনা বাংলাদেশের নেতৃত্বে থাকবে ততদিন পর্যন্ত এর সমাধান নেই।


আওয়ামীলীগ হাসিনা দুঃশাসন
০ টি মন্তব্য      ৩২৯ বার পঠিত         

লেখাটি শেয়ার করতে চাইলে: